Sunday, 27 May 2018

 

বারি বিটি বেগুন-৪ এর ফলন দেখে গোবিন্দগঞ্জের কৃষকরা আনন্দিত

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:এক একর জমিতে বারি বিটি বেগুন-৪ চাষ করে এ পর্যন্ত ৫৫ মণ বেগুন বিক্রি করেছেন। প্রতিটি গাছে ৮-১০টি বেগুন। জমিতে আরও ১০০ মণ পাওয়া যাবে। কোন কোন গাছ বেগুনের ভারে ভেঙ্গে যাবার উপক্রম। শুরুর দিকে ১২শ টাকা মণে বিক্রি করতে পারলেও বর্তমানে ২শ টাকা মণে বিক্রি করতে হচ্ছে।

তবে বর্তমান বাজারে সকল বেগুনের দাম কম হলেও তার বেগুনের চাহিদা সবচেয়ে বেশি ও দামও বেশি। আবার জাতটি বেগুনের মাজরা পোকা প্রতিরোধী হওয়ায় যা ফলন পাচ্ছেন তার পুরোটাই বাজারে বিক্রি করতে পারছেন। পোকায় খাওয়ার কারণে কোন নষ্ট বেগুন ফেলতে হচ্ছে না। অথচ যারা সাধারণ জাতের বেগুন চাষ করেছেন তাদের ফলনের শতকরা প্রায় ২০-৩০ ভাগ নষ্ট বা পোকা খাওয়া হয় ফলে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন। তবে নভেম্বরে না লাগিয়ে যদি অক্টোবরে লাগানো যেত তাহলে আরও বেশি দাম পাওয়া যেত। বীজ সংরক্ষণ করেছেন ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য। গোবিন্দগঞ্জের গোপিনাথপুরের বারি বিটি বেগুন-৪ চাষ করা কৃষক আব্দুর রশিদ এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশে ১০৩ প্রকারের বেগুন আছে। একেক জনের পছন্দ একেক ধরণের বেগুন। আর বেগুন আবাদে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে থাকে বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা বা স্থানীয়ভাবে একে মাজরা পোকা বলা হয়। এ পোকা দমনে কৃষকেরা সপ্তাহে ২-৩ বার স্প্রে করে থাকে। দেশের কোন কোন এলাকায় প্রতিদিন স্প্রে করে থাকে যা কিনা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ।

গবেষণায় দেখা গেছে বেগুন চাষে মোট উৎপাদন খরচের শতকরা ৩২ ভাগ খরচ হয় বালাইনাশক বাবদ। এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এ দেশের প্রচলিত জাতের বেগুনে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে মাজরা প্রতিরোধী জিন ঢুকিয়ে নতুন জাতের উদ্ভাবন করেছে। বারি বিটি বেগুন-১, ২, ৩ ও ৪ নামে এ যাবৎ চারটি জাত অবমুক্ত করা হয়েছে। বিগত চার বছর যাবৎ এসব জাতের মাঠ সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে চলছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গাইবান্ধা জেলার উপপরিচালক কৃষিবিদ আকামু রুহুল আমীন বলেন এ মৌসুমে গাইবান্ধা জেলায় ৫শ হেক্টর জমিতে বেগুন চাষ হয়েছে। এ জাতের বেগুন আবাদ করলে বালাইনাশকের ব্যবহার কমে যাবে এটা কৃষকের জন্য সুখবর। না দেখলে বিশ^াস করা কঠিন, একটি গাছে ১৩-১৪ টি বেগুন ধরেছে। এ জাতের বীজ সংরক্ষণ করে আগামীতে বিতরণের ব্যবস্থা নিলে আরও বেশি বেশি সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি বিশ^াস করেন। তাছাড়া এ জাতের বেগুন দেখতে আকর্ষণীয় এবং খেতে সুস্বাদু।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর সরেজমিন গবেষণা বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. আ.স.ম মাহবুবুর রহমান খাঁন জানান বারি বিটি বেগুন-৪ আশ্বিনে চারা তৈরি করে ভাদ্রে চারা রোপণের ব্যবস্থা নিতে হবে। চারা রোপণের ৭০ দিন পর্যন্ত এফিড, জেসিড, সাদা মাছি বা লাল মাকড় নিয়ন্ত্রণে ৩-৪ বার স্প্রে করতে পারলে ভাল ফলাফল পাওয়া যায়। ঢলে পড়া রোগ হতে রেহাই পেতে চারা রোপণের পূর্বে জমিতে ব্লিচিং পাউডার ছিটাতে হবে। আর আলু-টমেটোর জমিতে বেগুন চাষ করা যাবে না। বর্তমান মাঠের বেগুন তুলে ফেলে নতুন করে সার প্রয়োগ ও অন্যান্য পরিচর্যা করলে আগামী রমযান পর্যন্ত বেগুন পাওয়া যাবে ফলে বেশি লাভবান হওয়ার সুযোগ আছে।