Wednesday, 22 November 2017

 

“নারিশ প্রিমিয়ার লীগ”-ফাইনালের টিকেট পেল অরেঞ্জ এবং ব্লু দল

সেমিফাইনাল থেকে হোয়াইট এবং গ্রীন দলের বিদায়
নিজস্ব প্রতিবেদক:নারিশ পোল্ট্রির আয়োজনে শুরু হওয়া “নারিশ প্রিমিয়ার লীগ” ফুটবলের সেমিফাইনালে আজ শুক্রবার ১৮ নভেম্বর দুটি সেমিফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।রাজধানীর ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্র মাঠে সকাল ৭:১৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত দিনের প্রথম খেলায় মুখোমুখি হয় শিরোপা প্রত্যাশী নারিশ হোয়াইট এবং নারিশ ব্লু দল।

খেলাটি শুরুর দিকে প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ না হলেও সময় গড়ানোর সাথে সাথে খেলার আকর্ষন বৃদ্ধি পেতে থাকে। বিশেষ করে ব্লু দলের বর্ষীয়ান খেলোয়াড় সালেকের নৈপুণ্য মাঠে উপস্থিত দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়।

প্রথমার্ধের ১৫ মিনিটের মাথায় সালেকের দেওয়া প্রথম গোলে এগিয়ে যায় নারিশ ব্লু দল। এর মিনিট পাঁচেকের পর সালেক পুনরায় গোল করে দলকে আরো এগিয়ে নিয়ে যান। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে নারিশ হোয়াইট দল গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে প্রতিপক্ষের উপর আক্রমন চালায়। এর ফলশ্রুতিতে হোয়াইট দলের মুয়িদ গোল করে দলের ব্যবধান কমান। এক গোলে পিছিয়ে থেকে তারা বেশ চড়াও হয়ে ব্লু দলের উপর আক্রমন শানায় তবে তাদের মধ্যমাঠ ও ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয় নারিশ হোয়াইট দলকে।

বিজয়ী ব্লু দলের অধিনায়ক মামুন এগ্রিলাইফ২৪ ডটকমকে বলেন এ বিজয় তাদের উদ্দীপনা বহুগুনে বাড়িয়ে দিয়েছে যা ফাইনালে দলকে চ্যাম্পিয়ন হতে সাহায্য করবে। খেলা শেষে নারিশ প্রিমিয়ার লীগ কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবু বিজয়ী ব্লু দলের দলের সালেককে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত করেন। অখেলোয়াড়োচিত আচরনের জন্য ব্লু দলের ফারুক এবং হোয়াইট দলের আলমগীরকে রেফারী আব্দুল মজিদ হলুদ কার্ড দেখিয়ে সতর্ক করেন।

একই মাঠে সকাল ৮:৪৫ মিনিটে নারিশ গ্রীন এবং নারিশ অরেঞ্জ দিনের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়। খেলা শুরুর প্রথম ১০ মিনিট উভয় দলই অগোছালোভাবে খেলে ফলে খেলাটির আকর্ষন কিছু সময়ের জন্য কমে যায়। তবে অরেঞ্জ দল প্রথমার্ধের ১৮ মিনিটের মাথায় মাইনুলের গোলে এগিয়ে যায়। তারপর দলটি নিজেদের বেশ গুছিয়ে নিয়ে প্রতিপক্ষের গোলপোষ্টে মুহুর্মুহ হানা দেয়। এসময় নারিশ গ্রীন দলও প্রতিপক্ষের আক্রমনকে রূখে দিয়ে পাল্টা আক্রমন চালায়। এরই মাঝে বিজয়ী অরেঞ্জ দলের জুয়েল দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করেন। প্রথমার্ধের খেলায় অরেঞ্জ দল ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হলে নারিশ অরেঞ্জ দল বেশ পরিকল্পিতভাবে আক্রমন চালায় এবং দ্বিতীয়ার্ধের ৫ মিনিটের মাথায় জুয়েল দলের পক্ষে ৩য় এবং নিজের দ্বিতীয় গোল করে হ্যাট্রিকের দিকে এগিয়ে যান। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ১০ মিনিটের মাথায় দলের পক্ষে চতুর্থ গোল করে নিজের হ্যাট্রিক পুর্ণ করেন জুয়েল।


মাঝে রেফারীর একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে গ্রীন দল খেলা থেকে বিরত থাকে। তবে লীগ কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবুর হস্তক্ষেপে খেলাটি পুনরায় শুরু হলে দ্বিতীয়ার্ধের ২০ মিনিটের মাথায় অরেঞ্জ দলের মিল্টন দলের পক্ষে ৫ম গোলটি করে দলকে বিজয়ের বন্দরে নিয়ে যান। খেলার শেষের দিকে গ্রীন দলের পক্ষে স্বান্তনা সূচক একটি গোল করেন অনিক।

খেলার শেষে বাঁশি বাজানোর পর অরেঞ্জ দলের খেলোয়াড় সমর্থকরা আনন্দে উল্লাসিত হয়ে পড়েন্। ফাইনালের টিকেট পাওয়া বিজয়ী অরেঞ্জ দলের জুয়েলকে ম্যাচ সেরা হন। বিজয়ী দলের অধিনায়ক জুয়েল এগ্রিলাইফকে বলেন তাদের দল বেশ উজ্জিবিত হয়ে খেলেছে যার ফলশ্রূতিতে তারা ফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। টিম ম্যানেজার মুছা এগ্রিলাইফকে বলেন ২জন খেলোয়াড় ইনজুরি সমস্যায় ভুগলেও ফাইনালে তারা সেরা খেলাটি উপহার দিতে চান। তিনি মনে করেন চ্যাম্পিয়ন দলের মতোই তার দল খেলেছে, এজন্য সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি ।  

আগামী ২ ডিসেম্বর রোজ শুক্রবার একই মাঠে ফইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।