Tuesday, 12 December 2017

 

WPSA-BB ’র নির্বাচন-কি ভাবছেন সাধারণ ভোটাররা?

বিশেষ প্রতিবেদক, এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম: ওয়ার্ল্ড পোলট্রি সায়েন্স এসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা’র কার্যক্রম শুরুর দিকে সভা সেমিনার সিম্পোজিয়ামের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমান পর্যায়ে দেশের পোল্ট্রি শিল্পের উন্নয়নে এটি একটি কার্যকর অবদান রাখছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া ৩ দিনের আন্তর্জাতিক পোলট্রি শো’ টি এর বড় উদাহরন। দেশে পোলট্রি সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি সংগঠন থাকলেও সাধারণ জণগণ তথা ভোক্তাদের কাছে (WPSA-BB)’র পরিচিতিটি ব্যাপক।

বিজ্ঞানভিত্তিক সংগঠন এ সংগঠনটির নির্বাহি পরিষদের নির্বাচন প্রতি দু’বছর অন্তর অন্তর অনুষ্ঠিত হয়। সে ধারাবাহিকতায় আজ ২২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০১৭-১৮ মেয়াদের নির্বাহি পরিষদের নির্বাচন। এবারের নির্বাচনটি হচ্ছে শুধুমাত্র ৬জন নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত করার জন্য যেখানে ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছেন ১২জন প্রার্থী । ভোটাররা ভেটেরিনারী সায়েন্স কোটা থেকে তিন জন এবং ইন্ডাষ্ট্রি কোটা থেকে তিনজন করে মোট ৬জন সদস্য নির্বাচিত করবেন। এর আগে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী কোনো প্রার্থী না থাকায় নির্বাহি পরিষদের অন্যান্য পদগুলিতে প্রাথীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন।

এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য নতুন এবং কর্মদ্দীপ্ত যুবকরা যেমন রয়েছেন তেমনি রয়েছেন অভিজ্ঞজনরা। কাজেই মেধা, সময়, শ্রম আর অভিজ্ঞতা সবকিছুরই সমন্বয় রয়েছে এবারের কমিটিতে। পোল্ট্রি শিল্লে জড়িত সংশ্লিষ্টরা মনে করেন দেশের প্রাণিজ পুষ্টির এই সেক্টরটিতে আমাদের কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে আর সেই সুযোগটির সদ্বব্যবহার করে কাংক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে যারা কাজ করবেন তাদেরকেই বেছে নিবেন সাধারণ ভোটাররা।

এদিকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী প্রার্থীরা তথ্য প্রযুক্তির কল্যানে সাধারণ ভোটারদের কাছে বিগত কয়েকদিনে যথাসাধ্য প্রচার চালিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে মোবাইল এসএমএস, ব্যক্তিগত যোগাযোগ সহ নানা ক্যাম্পেইন চালিয়েছেন। প্রার্থিীদের প্রায় সকলেই নির্বাচিত হলে পোল্ট্রি শিল্পের সাথে সংস্লিষ্ট শিল্পোদ্যাক্তা, বিজ্ঞানী/গবেষক, পুষ্টিবিদ, প্রাণীচিকিৎসক, নীতি নির্ধারক, প্রান্তিক খামারী সকলের সাথে নিয়ে পোলট্রি শিল্পের উন্নয়নের কথা বলেছেন।

অনেকে পোলট্রি সেক্টরের সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে তার সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন। অনেকে আবার দেশের পোল্ট্রি শিল্পকে অধিক উৎপাদনমুখী করতে প্রান্তিক পর্যায়ের খামারীদের জন্য অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কথা বলেছেন। এ শিল্পে জড়িত খামারীদের রয়েছে বিশাল অংকের বিনিয়োগ। তাছাড়া গ্রামীন জনপদে গড়ে ওঠা এসব খামারে কর্মসংস্থানও হয়েছে বিপুল সংখ্যক লোকের। কাজেই প্রান্তিক পর্যায়ের এসব খামারীদের দিকে এখন ওয়ার্ল্ডস্ পোল্ট্রি সায়েন্স এসোসিয়েশন-বাংলাদেশ (ওয়াপসা-বিবি)-কে অধিক মনোনিবেশ করা জরুরী বলেও মত প্রকাশ করেছেন অনেকে এবং সে লক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় ডিম ও ব্রয়লার ভোক্তাদের কাছে আরো গ্রহনযোগ্য করতে সকলের সাথে মিলে মিশে কাজ করার কথাও বলেছেন প্রার্থীরা। দেশের পোলট্রি শিল্পের জন্য লাগসই প্রযুক্তিগুলির ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন অনেক প্রার্থী। অনেকে আবার মাঠ পর্যায়ের পোল্ট্রি খামারীদের সঠিকভাবে ফার্ম পরিচালনার জন্য তাদের কারিগরী মানোন্নয়ন আরো বাড়ানোর কথা বলেছেন।

নির্বাচনে সাধারণ ভোটরদের বিশ্লেষন হলো দেশে পোল্ট্রি সেক্টর যেমন এগিয়ে যাচ্ছে এর পাশাপাশি সমস্যাও কম নয়। কাজেই এসব সমস্যা সমাধানে (WPSA-BB)-কে আরো ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। আর এসব কাজে প্রয়োজন নতুনদের শ্রম, মেধা, দক্ষতা এবং পুরাতনদের অভিজ্ঞতা এবং এগুলিকে সমন্বিতভাবে প্রয়োগ করা। পাশাপাশি পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রির স্বার্থ সংরক্ষণ করতে বিরাজমান সমস্যাগুলি মাঠ পর্যায় থেকে তুলে ধরতে পুরনো ও নতুনদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা।

সাধারণ ভোটাররা মনে করেন, এখানে সবাই স্বতঃস্ফুর্তভাবে কাজ করছে যার ফলে ওয়াপসা বিশ্বের মধ্যে শক্তিশালী ব্রাঞ্চ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। যারা নেতৃত্ব আছেন তারাই ভালো করবেন তা আসলে ঠিক না, দ্বায়িত্ব দিলে তা পালনের সক্ষমতা প্রকাশ পায় বলে মনে করেন অনেক ভোটাররা। তারা বলেন নির্বাহি পরিষদে নতুন মুখও আসা দরকার। নতুনরাই তো আগামী দিনের কর্ণধার, তাদের যথাযথ সুযোগ দিলে কাজের মাধ্যমে তারা প্রমান দিতে পারবেন বলে মনে করেন সাধারণ ভোটররা।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে মোট বৈধ ভোটার সংখ্যা ৭৯৭ জন। বিজ্ঞানভিত্তিক সংগঠন হিসেবে ওয়াপসাকে আরো গতিশীল করতে সাধারণ ভোটাররা সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচিত করবেন এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।