Friday, 24 November 2017

 

জয়পুরহাটে “SASSO-দেশী মুরগীর সঠিক বিকল্প”-শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম: বাণিজ্যিকভাবে দেশি মুরগির চাহিদা অনেক বেশি। তবে সেই চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত মুরগি পাওয়া যাচ্ছে না। দিনদিন দেশি প্রজাতির মুরগি বিলুপ্ত হওয়ায় ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেশের পোলট্রি খাতে অবদান রাখা প্রতিষ্ঠান ‘চিকস্ এন্ড ফিডস্ লি:‘ ফ্রান্সের সাসো জাতের মুরগি নিয়ে জয়পুরহাটে গত ১৭ অক্টোবর “SASSO-দেশী মুরগীর সঠিক বিকল্প” শীর্ষক সেমিনার এক সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন SASSO-এর টেকনিক্যাল ডিরেক্টর Mr. SOHEIL SOBHI; তিনি বলেন SASSO মুরগী সারা পৃথিবীতে বিক্রি হয় দেশী মুরগীর বিকল্প হিসাবে। কমার্শিয়াল ব্রয়লার যদিও বর্তমান বিশ্বে সাধারন মানুষের প্রোটিন চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করছে। এরপরও মাংসের স্বাদ, গঠন এবং পুষ্টি চিন্তা করে SASSO ১৯৬০ সাল থেকে বিশ্বের রঙিন মুরগী সরবরাহ করে চলেছে। বর্তমানে ফ্রান্স ছাড়াও ব্রাজিল, বেলজিয়াম, পূর্ব ইউরোপ, চীন এবং ভারতে SASSO'র GP ফার্ম রয়েছে, যেখান থেকে PS সরবারহ করা হয় বিশ্বব্যাপী।

Mr.SOHEIL SOBHI আরো বলেন নিরাপদ খাদ্যের ব্যাপারে ইউরোপ এবং আমেরিকা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বিশেষ করে মানুষের খাদ্যের ব্যাপারে ইউরোপিয়ান বা আমেরিকানরা কোনরকম আপোষ করেন না। কমার্শিয়াল ব্রয়লারের অতিরিক্ত দৌহিক ওজন বৃদ্ধি এবং মাংসের গঠনের উপর তারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করে থাকেন। অতি দ্রুত বর্ধমান কমার্শিয়াল ব্রয়লারের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। তাছাড়া অনেকে বিনা প্রয়োজনে এ্যান্টিবায়োটিকসহ নানান ওষুধ-পথ্য ব্যবহার করে যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও উপযোগী নয়। তবে আশাার কথা হলো SASSO-এমনি একটি প্রজাতি যা কমার্শিয়াল ব্রয়লারের মতো দ্রুত বর্ধমান না হলেও এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন। এটির গড় ওজন বৃদ্ধি ২৫-৩০ গ্রাম প্রতিদিন যা মানুষের খাদ্য হিসাবে আদর্শ।

সেমিনারে চিকস্ এন্ড ফিডস্ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব এখলাসুল হক বলেন SASSO হতে পারে দেশী মুরগীর সঠিক বিকল্প এবং আমাদের দেশের প্রোটিনের চাহিদা পূরণে যোগ করতে পারে নতুন এক মাত্রা। SASSO জাতের মুরগী ৭৫-৮০ দিনে সাড়ে তিন কেজি (Low Nutriant) ফিড খেয়ে ১৯০০-২০০০ গ্রাম ওজন হতে পারে। অর্থাৎ FCR ১.৭৫ থেকে ১.৮০

জনাব এখলাসুল হক বলেন জয়পুরহাট সোনালী মুরগীর সুতিকাগার হিসাবে বিবচিত। সোনালী জাতের মুরগী ৭০-৭৫ দিনে ৭৫০-৮০০ গ্রাম ওজনের হয়ে থাকে। এর মাংস শক্ত বিধায় আমাদের দেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কমার্শিয়াল ব্রয়লারের পরিবর্তে সোনালী জাতের মুরগীর ব্যবহার করা হয়। তবে বলাই বাহুল্য সোনালী জাতের মুরগীতে মাংসের পরিমান খুবই কম, যা আমাদের চোখের চাহিদা মেটালেও দৌহিক প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে পারেনা। ৮০০ গ্রাম ওজনের একটি সোনালী জাতের মুরগীতে সর্বোচ্চ ৪০০ গ্রাম মাংস পাওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ নিট মাংসের পরিমান ৪৩.৭৫%-৫০% পর্যন্ত। অন্যদিকে SASSO জাতের একটি মুরগীর ওজন ১৮০০ গ্রাম হলে নিট মাংসের পরিমান হবে ১২৬০-১৩০০ গ্রাম অর্থাৎ ৭০%-৭২% পর্যন্ত।

সেমিনারে আগতরা বলেন বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সুস্থ্য জাতি হিসাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তৈরি করার ক্ষেত্রে SASSO অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে পারে। সেমিনারে জয়পুরহাটের প্রায় ৩০ জন প্রতিষ্ঠিত সোনালী মুরগির হ্যাচারী মালিক ছাড়াও স্থানীয় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা অংশগ্রহন করেন।