Sunday, 21 January 2018

 

পরিশ্রম, সততা ও সাংগঠনিক দক্ষতাই পারে মানুষকে এগিয়ে নিতে-ডা: সজীব দেবনাথ

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:পরিশ্রম, সততা ও সাংগঠনিক দক্ষতাই পারে মানুষকে এগিয়ে নিতে। এজন্য একাগ্র চিত্তে কাংখিত লক্ষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে। তাহালে যত কষ্টই হোক না কেন সকল বাঁধাবিঘ্ন অতিক্রম করে যে কেউই সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে পারে। সম্প্রতি এগ্রিলাইফ২৪ ডটকমের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় এমন অনুভূতি ব্যক্ত করলেন উচ্চ শিক্ষিত তরুন উদ্যোক্তা স্কাইটেক এগ্রো ফার্মার ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও ডা: সজীব দেবনাথ।

ডা: সজীব দেবনাথ ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলার দাপুনিয়া গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন। বাবা পেশায় পূর্বে ব্যবসায়ী ছিলেন; মা গৃহিনী ও স্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স, মাস্টার্স করে স্কাইটেক এগ্রো ফার্মার চেয়ারম্যান ও স্কাইটেক এগ্রোর সিইও হিসাবে কাজ করছেন, তিনি ১ ছেলে সন্তানের জনক। বাবা-মা, ভাই বোনের স্বপ্ন ছিল তাদের সন্তান একদিন বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখবেন। সেই ইচ্ছাকে সামনে নিয়ে একটু ব্যতিক্রম ধর্মী মানুষ হিসেবে সমাজে আত্বপ্রকাশ করেন।

স্কুল জীবন শেষ করেন ১৯৯৮ সালে ময়মনসিংহ সদরের ডি,কে ইসলামীয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। এরপর নাসিরাবাদ কলেজ, ময়মনসিংহ থেকে এইচ এস সি, পাশ করেন। ডিভিএম পাশ করেন চট্রগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৮ সালে। এম,এস করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

শিক্ষাজীবন শেষ করে প্রথমে সিরাজগঞ্জে সিএলপি প্রজেক্টে সুনামের সহিত লাইভস্টক অফিসার হিসাবে কাজ করেন। তারপর জাতিসংঘের এফ এ ও প্রজেক্টে দীর্ঘদিন সুনামের সহিত কাজ করেন। কর্মজীবনের শুরু থেকেই এলাকায় বেশ জনপ্রিয় ভেটেরিনারি ডাক্তার হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন। সদর, ফুলবাড়ীয়া, ত্রিশালের একাংশ, মুক্তাগাছার একাংশের খামারীদের মুখে মুখে ছিল ডা: সজীব দেব নাথের নাম।

এরই মাঝে ২০১২ সালে প্রাণিসস্পদ সুরক্ষাকে সামনে রেখে আত্বপ্রকাশ করান স্কাইটেক এগ্রো ফার্মাকে। স্কাইটেক এগ্রো ফার্মা প্রথমে আহকাবের মেম্বার, ডিএলএস এর লাইন্সেস এবং প্রত্যেকটি অ্যান্টিবায়োটিক এর DAR নং করে আলোচনায় চলে আসেন। দক্ষিন কোরিয়ার বেশ কয়েকটি খ্যাতনামা কোম্পানীর বাংলাদেশে প্রতিনিধিত্ব করে আরো সামনে এগিয়ে আসেন।

“একের রক্ত অন্যের জীবন রক্তই হোক আত্বার বাঁধন” এই মন্ত্রে উদ্দেপিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই শুরু করেন বাঁধন নামের স্বেচ্ছায় রক্ত দাতাদের সংগঠন। যার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে চট্রগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং চট্রগ্রাম বিভাগে সর্বপ্রথম বাঁধনের যাত্রা শুরু করে। ডা: সজীব দেবনাথ আলোচনার এক ফাকে বলেন, বাঁধন তার জীবনকে সাংগঠনিক দক্ষতা ও মানবিকতায় দীক্ষিত করে আজকে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। বাঁধনকে তিনি তার সন্তান মনে করেন। চট্রগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে বাঁধনের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক ছিলেন। বর্তমানে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।

ব্যবসা ছাড়াও এই মানুষটি বেশ কিছু সংগঠনের সাথে জড়িত। যেমন-বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য, এনিম্যাল হেলথ কোম্পানিজ এসোসিয়েশনের সদস্য। ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সাইন্সেস এসোসিয়েশনের সদস্য, আহবায়ক ভেট এসোসিয়েশন ময়মনসিংহ, প্রতিষ্ঠাতা অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আলকেমি হাসপাতাল লিঃ, এমডি স্কাইটেক ভেটেরিনারি ডায়াগনোস্টিক সেন্টার, চেয়ারম্যান স্কাইটেক এগ্রো কমপ্লেক্স। তিনি এ সকল সংগঠনের সাথে জড়িত থেকে স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার লক্ষে এগিয়ে যাচ্ছেন।

ভবিষৎ পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, অচিরেই স্কাইটেক এগ্রো ফার্মা নিজস্ব ফ্যাক্টরীতে প্রডাক্ট উৎপাদন করবে। বর্তমানে স্কাইটেক এগ্রো ফার্মাতে ৪৭ জন কর্মকর্তা কাজ করছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ জন ডিভিএম গ্রাজুয়েটও কাজ করছেন বলেন ডা: সজীব।

কৃষিভিত্তিক এদেশে কৃষির উন্নয়নে প্রাণিসম্পদের গুরুত্ব ব্যাপক। দেশে যে ক’জন নবীন উদ্যোক্তা সাহস করে এ সক্টেরে কাজ করছেন তাদেরই একজন হলেন ডা: সজীব দেবনাথ।অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সৎ এ উদ্যোক্তার হাত রে তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলি আরো এগিয়ে যাক এমনটাই কামনা করেন সংশ্লিস্ট সকলে।