Friday, 24 November 2017

 

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে-‘ভিসকস’

অর্থ ডেস্ক:দেশি পাট থেকে সুতার প্রধান কাঁচামাল ‘ভিসকস’ তৈরি করতে চায় সরকার। এজন্য সরকারি পাটকলগুলোর মানোন্নয়ন করা হবে। এতে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে চীন। এ বিষয়ে ১৪ নভেম্বর সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে মিনিটস অব ডিসকাশন ‘এমওডি’ স্বাক্ষর হয় চীনের চায়না টেক্সটাইল ইন্ড্রাসট্রিয়াল করপোরেশন ফর ফরেন ইকনোমিক এন্ড টেকনিক্যাল কো-অপারেশন (সিটিইএক্সআইসি) ও বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি) এর মধ্যে। এমওডি অনুযায়ী বিজেএমসির মিলগুলোতে শুধু কারিগরি সহায়তাই নয় প্রয়োজনে আর্থিক বিনিয়োগও করবে চীন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম। এ এমওডি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন চীনের ভাইস মিনিস্টার ও চায়না ন্যাশনাল টেক্সটাইল এন্ড এপারেল কাউন্সিলের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ওয়াং টিনকাই, চায়না ন্যাশনাল টেক্সটাইল এন্ড এপারেল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট সান রুইজিট, ঢাকায় চায়না এম্বাসির ইকনোমিক ও কমার্শিয়াল কাউন্সিলর লি জুনানজু, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভলপমেন্ট অথরিটির এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ কাদের সরকার, গোপাল কৃষ্ণ ভট্টাচার্য্য (অতি. সচিব), ড. মো. নজরুল আনোয়ার (অতি: সচিব), পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোছলেহ উদ্দিন, বিজেএমসির চেয়ারম্যান ড. মাহমুদুল হাসান, বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. বায়জিদ সারোয়ার সহ চীনের ব্যবসায়ী প্রতিনিধির সদস্যবর্গ এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বন্ধুত্বের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করে চীন বাংলাদেশের একটি বন্ধুপ্রতিম দেশ। দু’দেশের নিয়মিত বাণিজ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে এ সম্পর্ক আরো জোরদার হচ্ছে। সেজন্য বস্ত্র ও পাটখাতে চীনের সাথে ব্যবসায় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ঘটাতে চায়। বস্ত্র ও পাট খাতের রপ্তানি বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং পাট পণ্যের বহুমুখী দ্রব্য উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণ বিষয়ে কারিগরি ও  প্রযুক্তিগত সহায়তা  বিনিময় প্রত্যাশা করেন প্রতিমন্ত্রী।

‘ভিসকস’ হল দেখতে সুতার মত কিন্তু তার থেকেও সূক্ষ। এ ভিস্কস এর ব্যবহার হয় তুলার বিকল্প হিসেবে সুতা তৈরির কাজে। তবে শুধু গবেষণাগারে নয়, ভিস্কস এর ব্যবহার এখন বিশ্বজুড়ে সুতা তৈরির কারখানাগুলোতে। তুলার উৎপাদন কমে আসায় গত বছর বাংলাদেশ প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার ৩৩,৭৩৭ টন ভিস্কস পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যেমন চীন ও ভারত থেকে আমদানি করেছে। যদি বাংলাদেশে এ ‘ভিসকস’ উৎপাদিত হয় তবে বিদেশ থেকে তা আর আমদানি করতে হবে না। যদি পাট থেকে ‘ভিসকস’ উৎপাদনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় তবে উৎপাদিত ভিস্কস এর পুরোটাই বিকেএমইএ এর সদস্য মিলগুলো ক্রয় করে নিবে। এছাড়া পাট থেকে ‘ভিসকস’ উৎপাদিত হলে এবং এর দ্বারা উৎপাদিত সুতার মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত কাপড়ের সাহায্যে গার্মেন্টস সামগ্রী তৈরি করা হলে শতভাগ মূল্য সংযোজন করা সম্ভব।
-তথ্য ও ছবি পিআইডি’র সৌজন্যে