Saturday, 18 November 2017

 

এক নজরে বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্প

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম, কৃষি শিল্প ডেস্ক: কর্মসংস্থান:চার দশক আগে পোল্ট্রি শিল্পে কর্মসংস্থান কত ছিল সে সম্পর্কে সঠিক কোন তথ্য উপাত্ত নেই। তবে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) এর হিসাব মতে বর্তমানে প্রায় ২০-২৫ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মিলিয়ে প্রায় ৬০ মানুষের নির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে এ শিল্পে- যার প্রায় ৪০ শতাংশই নারী। ২০৩০ সাল নাগাদ এক কোটি থেকে সোয়া কোটি মানুষের নির্ভরশীলতা তৈরি হবে এ খাতে। শিল্প হিসেবে গার্মেন্টস এর পরেই সবচেয়ে অধিক সংখ্যক মানুষের জীবন ও জীবিকার সংস্থান করবে পোল্ট্রি শিল্প।

বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি:

  • বর্তমানে বিনিয়োগ ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ২০২১ সালের চাহিদা পূরণ করতে হলে ৫৫-৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।
  • জিডিপিতে পোল্ট্রিখাতের অবদান: জিডিপি’তে পোল্ট্রি শিল্পের অবদান প্রায় ২.৪ শতাংশ।
  • পোল্ট্রি খামার:সারাদেশে বর্তমানে প্রায় ৬৫-৭০ হাজার ছোট-বড় খামার আছে।


ডিমের উৎপাদন ও কনজাম্পশন

  • ২০১৪ সালে ডিমের দৈনিক উৎপাদন ছিল প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ। মাথাপিছু কনজাম্পশন ছিল প্রায় ৪১টি।
  • ২০১৬ সালের শেষ নাগাদ ডিমের দৈনিক উৎপাদন ছিল প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ থেকে ৩০ লাখ। সে হিসাবে বলা যায় বর্তমানে মাথাপিছু কনজাম্পশন প্রায় ৫১টি।
  • ২০২১ সালে দৈনিক উৎপাদন হবে প্রায় ৪ কোটি ৫ লাখ ডিম। মাথাপিছু কনজাম্পশন প্রায় ৮৬টিতে উন্নীত হবে বলে ধারনা।

মুরগির মাংসের উৎপাদন ও কনজাম্পশন

  • ২০১৪ সালে মুরগির মাংসের দৈনিক উৎপাদন ছিল প্রায় ১,৫১০ মেট্রিক টন। মাথাপিছু বার্ষিক কনজাম্পশন ছিল প্রায় ৩.৫ কেজি।
  • ২০১৬ সালে মুরগির মাংসের দৈনিক উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায়  ১,৮৫১ মেট্রিক টন। মাথাপিছু বার্ষিক কনজাম্পশন বেড়ে হয়েছে প্রায় ৪.২ কেজি।
  • ২০২১ সালে হবে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ মেট্রিক। মাথাপিছু বার্ষিক কনজাম্পশন হবে প্রায় ৭ কেজি।


দেশে ডিম ও মুরগির মাংস খাওয়ার পরিমান

  • বাংলাদেশে জনপ্রতি মুরগির মাংস খাওয়ার পরিমান বছরে মাত্র ৪.২ কেজি। উন্নত বিশ্বের মানুষ খায় বছরে গড়ে প্রায় ৪৫-৫০ কেজি।
  • এফএও’র মতে জনপ্রতি নূন্যতম ডিম খাওয়া উচিত বছরে ১০৪ টি। উন্নত বিশ্বে বছরে জনপ্রতি গড়ে প্রায় ২২০ টির মত ডিম খাওয়া হয়। জাপানের মানুষ খায় বছরে গড়ে প্রায় ৬০০টি। আমাদের দেশে এ পরিমান জনপ্রতি মাত্র ৫১টি।
  • মাছ ও মাংস মিলে প্রাণিজ আমিষ খাওয়া দরকার বছরে অন্তত: ২৫-৩০ কেজি। কিন্তু আমরা খাচ্ছি প্রায় ২৩ কেজি (মাংস ৮ কেজি, ১৫ মাছ)। সে হিসাবে মাংস কম খাচ্ছি ৭ কেজি ।


পোল্ট্রি ফিডের উৎপাদন

  • ২০১৪ সালে পোল্ট্রি ফিডের বার্ষিক উৎপাদন ছিল প্রায়: ২৫ লাখ মেট্রিক টন
  • ২০১৬ সালে পোল্ট্রি ফিডের বার্ষিক উৎপাদন ছিল প্রায়: ৩৩ লাখ মেট্রিক টন
  • ২০২১ সালে পোল্ট্রি ফিডের বার্ষিক উৎপাদন হবে প্রায়: ৫৫-৬০ লাখ মেট্রিক টন


৪ দশকে বাংলাদেশে পোল্ট্রি শিল্পের নীরব বিপ্লব

  • আশির দশকে বিনিয়োগ ছিল মাত্র ১৫শ কোটি টাকা। বর্তমানে ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
  • জিপি ফার্ম ছিল না। পুরোটাই ছিল আমদানি নির্ভর। এখন ৮টি কোম্পানীর মোট ১৫টি খামার গড়ে উঠেছে
  • পিএস খামার/হ্যাচারি: হাতে গোনা দু’-একটি থেকে বর্তমানে ২০৫টি (সূত্র: ডিএলএস)।
  • আগে আধুনিক ফিড ইন্ডাষ্ট্রি বলে কিছু ছিল না। প্যাকেটজাত ফিড আমদানি করা হত। কিন্তু এখন প্রায় ১৮৬টি ফিডমিল গড়ে উঠেছে। এখন আর প্যাকেজাত ফিড আমদানি হয় না। উল্টো বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পই রপ্তানী’র চিন্তা-ভাবনা করছে।
  • আগে দেশীয়ভাবে তেমন কোন ঔষধ তৈরি হত না। পুরোটাই ছিল আমদানি নির্ভর। কিন্তু এখন প্রায় ৩০টি কোম্পানী দেশীয়ভাবে বিভিন্ন ঔষধ তৈরি করছে। ফলে আমদানি নির্ভরতা কমতে শুরু করেছে।
  • আগে দেশে কোন পোল্ট্রি প্রসেসিং কিংবা ফারদার প্রসেসিং ইন্ডাষ্ট্রি ছিল না। এ ধরনের প্রোডাক্ট পুরোটাই আমদানি হয়ে আসত। কিন্তু এখন ৮-১০টি কোম্পানী প্রসেসিং ইন্ডাষ্ট্রি গড়ে তুলেছে। ইউরোপ আমেরিকার মত দেশে যে ধরনের পোল্ট্রি’র ভ্যালু অ্যাডেড প্রোডাক্ট তৈরি হয় তা এখন দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে।
  • পোল্ট্রি’র বিষ্টা থেকে এখন তৈরি হচ্ছে জৈব সার, বায়োগ্যাস এবং বিদ্যুৎ। সরকারের সহায়তা পেলে পোল্ট্রি রিসাইক্লিং দিয়ে দেশের চেহারা পাল্টে ফেলা সম্ভব।
  • আগে পোল্ট্রি শিল্পে প্রয়োজনীয় ভূট্টার প্রায় পুরোটাই আমদানি করতে হতো। এখন চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ ভূট্টা দেশে উৎপাদিত হচ্ছে। চালের কুঁড়া বা রাইস পলিসও দেশীয়ভাবে পাওয়া যাচ্ছে। তবে সয়াবিনের সিংহভাগই আমদানি করতে হচ্ছে। সয়াবিনের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরকারের উদ্যোগ প্রয়োজন।

আধুনিক বিজ্ঞান বলছে-

  • সপ্তাহে ৪টি করে ডিম খেলে টাইপ-টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ৩৭ শতাংশ কমে যায়।
  • সপ্তাহে ৬ টি ডিম খেলে স্তন ক্যানসারের সম্ভবনা ৪০% হ্রাস পায়।
  • ডিমের কেরোটিনয়েড, ল্যুটেন ও জিয়েক্সেনথিন চোখের ম্যাকুলার ডিজেনারেশন হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। চোখের ছানি কমাতেও সাহায্য করে।
  • ডিমে প্রায় ৩০০ মাইক্রোগ্রাম কোলাইন থাকে। যা কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম, স্নায়ু, যকৃত ও মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
  • শুধু তাই নয়, শর্করা কমিয়ে প্রতিদিন ডিম খেলে, মাসে ৩ পাউন্ড পর্যন্ত ওজন কমানো সম্ভব!
  • আধুনিক বিজ্ঞান আরও বলছে- ৬৫% বডি ওয়েট, ১৬% বডি ফ্যাট, ৩৪% কোমরে জমে থাকা মেদ কমাতে পারে ডিম!
  • মাত্র ২টি ডিম নারীর দৈনিক প্রোটিন চাহিদার ১/৪ ভাগ পূরণ করতে পারে।

-সৌজন্যে ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা