Thursday, 14 December 2017

 

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর তীরে গড়ে উঠছে ‘সুগন্ধা ফিড মিল’

কৃষি শিল্প ডেস্ক:দিনে দিনে বাড়ছে পোল্ট্রি, মাছ ও চিংড়ির খামার। সেই সাথে বাড়ছে এসব প্রাণির খাদ্যের চাহিদা। সেই চাহিদা মেটাতে গড়ে উঠছে নতুন নতুন ফিড মিল। বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করা ব্যবসায়ীরা ঝুঁকছেন ফিড মিলের দিকে। ঠিক তেমনই বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের খামারিদের প্রাণী খাদ্যের চাহিদা মেটাতে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানার দপদপিয়াতে সুগন্ধা নদীর তীরে গড়ে উঠছে ‘সুগন্ধা ফিড মিল’

চারটি ইউনিটের মধ্যে প্রথম ইউনিটে ঘণ্টায় ৭-৮ টন ভাসমান ফিস ফিড, দ্বিতীয় ইউনিটে ঘণ্টায় ৭-৮ টন ডুবন্ত ফিস ফিড অথবা ঘণ্টায় ২-৩ টন চিংড়ি খাদ্য, তৃতীয় ইউনিটে ঘন্টায় ১০-১৫ টন ব্রয়লারের পিলেট ফিড এবং সর্বশেষ ইউনিটে ঘণ্টায় ৫-৬ টন লেয়ার ফিড উৎপাদিত হবে। সব মিলিয়ে চার ইউনিটে ঘণ্টায় মোট প্রায় ৩৭ টন খাদ্য উৎপাদিত হবে। এসব ইউনিটের পাইলিং এর কাজ শেষে বর্তমানে কনস্ট্রাকশনের কাজ চলছে। আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যেই সব ইউনিট উৎপাদনে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোঃ জিল্লুর রহমান খান।  

তিনি বলেন, “বরিশালে কোন ফিড মিল না থাকায় ঢাকায় উৎপাদিত খাদ্য ডিপোর মাধ্যমে খামারিদের কাছে পৌঁছায়। যা একটি জটিল ও সময়সাধ্য প্রক্রিয়া। তাই সহজে ও কম সময়ে খামারিদের কাছে খাদ্য পৌঁছাতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি”।

উল্লেখ্য, চিকস এন্ড ফিডস লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে চীনের বিশ্বখ্যাত যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান FCM এর সর্বাধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি দিয়ে নির্মিত হবে এ ফিড মিল। বিশেষ করে চিংড়ি খাদ্য উৎপাদনে দেশের প্রথম এধরণের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। অন্যান্য মাছ দ্রুত খেলেও চিংড়ির একটু সময় নিয়ে খাবার খায়। তাই চিংড়ির খাবারের পানিতে স্থায়িত্ব বেশি থাকতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে সাধারণত ফিস ফিড মিলেই চিংড়ির খাদ্য তৈরি করা হয়, ফলে স্থায়িত্ব কম থাকায় খাদ্য নষ্ট হয়। স্থায়িত্ব বাড়াতে এই ফিড মিলে হ্যামারমিলের সাথে স্পেশাল পালভারাইজার ব্যবহার করা হবে যার ফলে পিলেট করার সময় ১১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কুকিং করা যায়। পরে স্পেশাল ড্রায়ারে শুকানোর ফলে সাধারণের তুলনায় ১০-১৫% বেশি ময়েশ্চার বের হয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে খাদ্যের স্থায়িত্ব বাড়ে। আর খাদ্য নষ্ট হওয়ার সুযোগ কম থাকায় খামারির লাভের সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে।
-চিকস্ এন্ড ফিডস্ নিউজ লেটারের সৌজন্যে