Friday, 17 November 2017

 

সয়াবিন সাপ্লাই চেইন উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব ও সরকারের পক্ষ থেকে নীতি সংক্রান্ত সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম, ডেস্ক:২১ জুন, ঢাকা: “সয়াবিন সাপ্লাই চেইন উন্নয়ন” শীর্ষক একটি পলিসি সভায় অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশে সয়াবিন উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছেন। সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া-র উদ্যোগে আয়োজিত এই সভার ঢাকাস্থ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সভায় সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারক এবং উন্নয়ন ও গবেষণা সংস্থা ও প্রচারমাধ্যমের প্রতিনিধিরা ঊপস্থিত ছিলেন।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-ঊপাচার্য অধ্যাপক ড.মোঃ শহীদুর রশিদ ভুঁইয়া-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বাংলাদেশে সয়াবিনের ঊৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিসহ বাজার ব্যবস্থার উন্নয়নে নানাবিধ সুপারিশ করা হয়।

সলিডারিডাড-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি ম্যানেজার জানান, রাজকীয় নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহায়তায় সলিডারিডাড গত সাড়ে চার বছর ধরে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে সাসটেইনেবল এগ্রিকালচার, ফুড সিকিউরিটি এন্ড লিংকেজেস (সফল) প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে এ প্রকল্পের মাধ্যমে মৎস্য, দুগ্ধ ও সবজী ও ফলচাষে নিয়োজিত ৫৮,০০০ ক্ষুদ্র কৃষককে টেকসই কৃষি পদ্ধতি ও উন্নত বাজার ব্যবস্থার সাথে সংযোগ সৃষ্টিতে সহায়তা করে আসছে। প্রকল্পটির দ্বিতীয় পর্যায়ে সয়াবিন সাপ্লাই চেইন উন্নয়নের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবনজীবিকার মানোন্নয়নের উদ্দেশ্যে নোয়াখালী ও লক্ষীপুর অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জনাব হাসান সয়াবিন এবং সংশ্লিষ্ট খাদ্য ও তৈলশিল্পে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উন্নয়ন ও ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য কেটি শক্তিশালী ব্যবসায়িক পরিবেশ ও নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের ওপর জোর দেন। তিনি সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বীজ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, কৃষি-অর্থনৈতিক কৌশলের ক্ষেত্রে লিড ফার্মার ও ক্ষুদ্রচাষীদের সামর্থ্য উন্নয়ন, সয়াবিনের পুষ্টি সম্ভাবনা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সয়াবিন পণ্যের বৈচিত্র্য আনয়ন ও বাজার ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বেসরকারি খাতের সম্পৃক্তা বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন ।

বাংলাদেশে রাজকীয় নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সিনিয়র অ্যাডভাইজর (ফুড সিকিউরিটি) ওসমান হারুনী বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য খাদ্যের সঠিক ব্যবহার এবং খাদ্য বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। বাংলাদেশের সয়াবিন খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও বাজারব্যবস্থার উন্নয়নে ডাচ সরকারের অব্যাহত সহায়তা থাকবে বলে তিনি জানান। এজন্য ডাচ সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তিগত ও অন্যান্য সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।

সভায় দুটো প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন চেঞ্জমেকারস-এর প্রধান নির্বাহী সৈয়দ তামজিদ উর রহমান এবং বীজ প্রযুক্তিবিদ ও সীড রেগুলেশন বিশেষজ্ঞ মোঃ শাহজাহান আলী। জনাব রহমান সলিডারিডাড-এর অর্থায়নে পরিচালিত সয়াবিন ভ্যালু চেইন বিশ্লেষণের ফলাফল উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, গবেষণা থেকে দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় দুর্যোগ সহনশীল শস্য হিসেবে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সয়াবিনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বীজ উন্নয়ন, কৃষক ও বাজার ব্যবস্থায় নিয়োজিত বিভিন্ন পক্ষের সামর্থ্য উন্নয়ন, আচরণগত পরিবর্তন সংক্রান্ত যোাগাযোগ উদ্যোগ গ্রহণ ও বহু-অংশীদারভিত্তিক সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন। জনাব আলী সয়াবিন খাতে একটি সমন্বিত সয়াবিন উন্নয়ন প্রকল্প (ওঝউচ), কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও নীতি সহায়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এর পাশাপাশি সয়াবিনের উন্নত ভ্যারাইটি প্রবর্তন, কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও বাজার সক্ষমতা জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মতপ্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ কাউন্সিল-এর নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন সয়াবিনের পুষ্টিগত ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। জলবায়ু পরিবর্তন সহনসীল জাত উন্নয়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদিধ, পণ্যের বৈচিত্র্য নিশ্চিতকরণ এবং সাপ্লাই চেইন ও বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠির টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

সভাপতি অধ্যাপক ড.মোঃ শহীদুর রশিদ ভুঁইয়া টেকসই পদ্ধতিতে সয়া ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদনশীলতা ও সাপ্লাই এবং ভ্যালু চেইন উন্নয়নের জন্য সমন্বিত ও বহু-অংশীজনভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ ও অধিকতর সরকারি-বেসরকারি-অংশীদারিত্বের(পিপিপি) ওপর গুরুত্বরোপ করেন। তিনি উন্নত জেনেটিক বৈশিষ্টসমৃদ্ধ সয়াবিনের জাত নিয়ে অধিকতর গবেষণার আহবান জানান।

সভার সাধারণ আলোচনা অংশে বাংলাদেশে সয়াবিন উৎপাদন ও বাজার উন্নয়নের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচকবৃন্দ সয়া মানুষের খাদ্য, পশুখাদ্য,মাছের খাদ্য এবং তৈল শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদানের ওপর জোর দেন। তাঁরা নির্দিষ্ট এলাকার উপযোগী জাত উন্নয়নের মাধ্যমে এই খাতের বৈচিত্র্য আনয়ন ও আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সম্পৃৃক্তি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বরোপ করেন। ক্ষুদ্র কৃষকদের সমন্বয়ে উৎপাদনকারী দল গঠন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারসহ সরকারের পক্ষ থেকে সয়া ভ্যালু চেইন উন্নয়নের উদ্দেশ্যে কৃষি এবং কৃষক-বান্ধব নীতি প্রণয়ন, অব্যাহত গবেষণা ও উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সংস্থা , গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং কৃষি সম্প্রসারণ এর উপর বেশি সম্পৃক্তির ওপর তাঁরা জোর দেন। আলোচকবৃন্দ সরকারি ও বেসরকারি সকল পক্ষের সহায়তায় একটি সমন্বিত সয়াবিন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণেরও প্রস্তাব দেন।-প্রেস বিজ্ঞপ্তি