Saturday, 23 September 2017

 

চামড়া কেনার আগ্রহ কম-কৃষি অর্থনীতির একটি অশুভ লক্ষণ

কৃষি অর্থনীতি ডেস্ক:বাংলাদেশের রফতানি আয়ের দিক দিয়ে কাঁচা চামড়া তৃতীয় স্থানে রয়েছে। আমাদের কাঁচা চামড়ার সিংহভাগই আসে ঈদুল আযহার সময়। বাংলাদেশে প্রতিবছর এক কোটি ৬৫ লাখ পিস কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ছাগলের চামড়া এক কোটি, গরু ৫০ লাখ, ভেড়া ও মহিষ মিলে ১৫ লাখ পিস। সব মিলিয়ে প্রায় ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। আর এই চামড়ার প্রায় অর্ধেকই কোরবানির ঈদে সংগ্রহ করা হয়। 

ঈদ উপলক্ষে পাড়া-মহল্লার যে সকল তরুণ সকাল থেকে ঘুরে ঘুরে চামড়া কিনেন তারা মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে দরদাম করে চামড়া বিক্রি করেন। মৌসুমী এসব চামড়া ব্যবসায়ীরা এসব চামড়া কিনে পুরনো ঢাকার পোস্তা কিংবা সরাসরি ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করেন। তবে এবারের চামড়া বেচাকেনার চিত্র সম্পূর্ণই ভিন্ন। একেক জায়গায় একেক মূল্য যা কৃষি অর্থনীতির জন্য আশংকার। দেশের অন্যতম রপ্তানী আয়ের এ খাতটিকে একটি সিন্ডিকেটের দখলে চলে যাওয়াকে অশুভ লক্ষণ হিসেবে দেখছেন অনেকেই।

চামড়া ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, ঈদের দিন দুপুর ১২টার পর থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত মাঝারি গরুর চামড়া ৭০০-৮০০/- টাকা ও বড় গরুর চামড়া সাড়ে ১১০০-১২০০/- টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিন্তু বিকেল ৩টা থেকে চামড়ার দাম আগের তুলনায় দুই থেকে তিনশ টাকা পর্যন্ত নেমে যায়। তখন একই মাঝারি আকারের গরুর চামড়া ৪০০-৫০০/- টাকা ও বড় গরুর চামড়া ৮০০-৯০০/- টাকায় বিক্রি হয়।

রাজধানীর অনেক কোরবানীদাতার সাথে কথা বলে জানা গেছে তারা ১,২০,০০০ টাকা মূল্যের গরুর চামড়া ৮০০/- টাকায়, ৭৮ হাজার টাকা মূল্যের গরুর চামড়া বিক্রি সাড়ে ৪৫০/- টাকায়, ৬০ হাজার টাকার গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন ৩০০/- টাকায়। এছাড়া মহিষের চামড়া ৫০০-৬০০ টাকা, খাসির চামড়া ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। রাজানীর বাহিরের চিত্রগুলি আরও করুন সেসব এলাকাগুলিতে চামড়ার ক্রেতা পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য ছিল।

বিক্রেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, সময়মতো এসব চামড়ায় লবণ দিতে না পারলে বা বিক্রি করতে না পারলে চামড়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই অনেকেই কোরবানির পশুর চামড়া অল্পমূল্যেই বিক্রি করে দিয়েছেন।

ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বছরে বাংলাদেশ থেকে ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ গরুর চামড়া, ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাগলের, ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মহিষের এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ ভেড়ার চামড়া। এসব চামড়ার অর্ধেকের বেশি সংগ্রহ করা হয় কোরবানির ঈদের সময়টাতে।

উল্লেখ্য এবার কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ মূল্য বাড়ানো হয়নি। গত তিন বছর ধরে চামড়ার সংগ্রহ মূল্য একই রাখা হয়েছে। ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম হবে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। এছাড়া সারা দেশে প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়া হবে ২০ থেকে ২২ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৫ থেকে ১৭ টাকা।