Friday, 20 July 2018

 

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের শস্য বীমা ও সহজ শর্তে কৃষকদের ঋণ প্রদানের আহবান

নাবি আমন ধান লাগানোর পরামর্শ
আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি প্রতিনিধি:অতিবৃষ্টি, উজানের পানি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় দেশের প্রায় অর্ধেক জেলা বন্যা কবলিত হয়েছে। নষ্ট হয়েছে প্রায় ৬ লাখ হেক্টর জমির ফসল। এখন পানি কমতে শুরু করলেও ধানের চারা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। বন্যা পরবর্তী সময়ে বীজতলা তৈরী, চারা উৎপাদন এবং ধান গাছের পরিচর্যা ও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মতামত দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপকরা। বন্যায় ফসলের ক্ষতি হ্রাস করতে সরকারকে শস্য বীমা ও সহজ শর্তে কৃষকদের ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করাসহ কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের সাহায্য করার আহবান জানিয়েছেন তারা।

বন্যা পরবর্তী সময়ে কৃষকদের করণীয় সম্পর্কে কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. স্বপন কুমার পাল বলেন, বন্যা সাধারণত জুলাই থেকে আগস্ট মাসের শেষ পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর আমাদের দেশের আবহাওয়ায় এই সময়ে কৃষকদের কাছে আমন ধান লাগানো ছাড়া অন্য কোনো ফসল উৎপাদনের সুযোগ থাকে না। তাই বন্যার পানি নেমে গেলে কৃষকদের নাবি আমন ধানের জাত লাগাতে হবে।

বন্যার সময় ফসলি জমি সব পানির নিচে থাকায় কৃষকরা বীজতলা তৈরী করতে পারেন না। তাই পর্যাপ্ত চারা না পাওয়ায় বন্যার শেষে পানি নেমে যাওয়ার পরেও কৃষক জমিতে চারা রোপন করতে পারেন না। এ ধরনের সমস্যা এড়াতে কৃষকরা কচুরিপানা ও পানিতে জন্মানো গাছপালা ধাপে ধাপে সাজিয়ে ভাসমান বীজতলা তৈরী করে সেখানে বীজ বপন করতে পারেন। এছাড়াও দাপগ পদ্ধতি ও কুশি আলাদাকরণ পদ্ধতির সাহায্যে কৃষকরা জমিতে চারা লাগাতে পারবেন। পদ্ধতি দুটি সম্পর্কে তিনি বলেন, বীজতলা তৈরী করার মত জায়গা না থাকলে দাপগ পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে বাড়ির আঙ্গিনায় পলিথিন বিছিয়ে সরাসরি বীজ ঢেলে দিতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো মাটির প্রয়োজন হয় না। তবে সাধারণ বীজতলার তুলনায় এ পদ্ধতিতে অধিক বীজ অঙ্কুরোদগমের জন্য দিতে হয় এবং নিয়মিত পানি সরবরাহ করতে হয়। এ পদ্ধতিতে ১৫ দিনের মধ্যেই বীজের অঙ্কুরোদগম হবে এবং জমিতে লাগানো যাবে।

তিনি আরও বলেন, কুশি আলাদাকরণ পদ্ধতিতে বন্যায় প্লাবিত হয়নি এমন জায়গায় চাষ করা ধানের কিছু কুশি নিয়ে এসে বন্যার পরে সরাসরি জমিতে লাগিয়ে দিয়েও ফসল উৎপাদন করা সম্ভব। বীজ অঙ্কুরোদগমের পদ্ধতি অনুসরণ করে আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের ৩য় সপ্তাহের মধ্যেই নাবি আমন ধানের জাত বিআর২২ (কিরণ), বিআর২৩ (দিশারী) ও ব্রিধান৪৬ লাগানো গেলে আমন ধানের ক্ষতি কিছুটা হলেও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।