Monday, 20 November 2017

 

টাঙ্গাইলে বন্যায় ফসলের ক্ষতির পরিমাণ ২১২ কোটি ৮২ লাখ টাকা

২ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫৯ কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কৃষি প্রণোদনার সুবিধা পাচ্ছে মাত্র সাড়ে ১৬ হাজার
কে এস রহমান শফি, টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইল জেলায় এবারের কয়েক দফা বন্যায় ১৯ হাজার ৭৫৫ দশমিক ৬৫ হেক্টর বিভিন্ন ফসলের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ ২১২ কোটি ৮২ লাখ টাকা। বন্যায় ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫৯ কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কৃষি প্রণোদনার সুবিধা পাচ্ছে মাত্র সাড়ে ১৬ হাজার।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আবু আদনান জানান, বন্যায় ২ হাজার ৮৯৯ হেক্টর বোনা আমন, ৪১৩ হেক্টর রোপা আমন ধানের বীজতলা, ১৪ হাজার ৮শ’ হেক্টর রোপা আমন, ৬২৮ হেক্টর আউশ, ৯৩৫ হেক্টর সবজি, ৬ হেক্টর আঁখ, ৪২ দশমিক ৩ হেক্টর কলা, ৩২ দশমিক ৩৫ হেক্টর করা জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চাল, সবজি, কলা ও লেবু’র উৎপাদনে ক্ষতির পরিমান ৫৪ হাজার ৪৫৩ মেট্রিক টন। জেলায় এক লাখ ৭ হাজার ২২৫ হেক্টর ফসলী জমির মধ্যে ১৮ দশমিক ৪৭ ভাগ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৬ হাজার ৭৫৫ হেক্টর এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭ হাজার ১৪৭ হেক্টর।

এদিকে কৃষি পূনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় প্রণোদনা হিসেবে বীজ ও সার দেয়া হচ্ছে ১৬ হাজার ৫৪৯ কৃষক পরিবারকে। এরমধ্যে সরিষা ১০ হাজার, ভুট্রা ৩ হাজার, মাসকলাই ২ হাজার একশ’, গ্রীষ্মকালীন তিল এক হাজার দুইশ’, চিনাবাদাম ২২৫ ও বিটি বেগুন ২৪। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক (যাদের নিজস্ব জমি ২৪৯ শতাংশের নিচে) একজন কৃষক এক বিঘা জমি চাষাবাদের জন্য ভুট্রা বীজ ২ কেজি, ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার পাবেন। সরিষা বীজ এক কেজি, ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি। মাসকলাই বীজ ৫ কেজি, ১০ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি। চিনাবাদাম বীজ ১০ কেজি ১০ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি। তিল বীজ এক কেজি, ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি। বেগুন বীজ ২০ গ্রাম, ডিএপি ১৫ কেজি ও এমওপি ১৫ কেজি।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৫৮৪ জন, ভুঞাপুরে ২ হাজার ৭২২ জন, নাগরপুরে ২ হাজার ৫০২ জন, দেলদুয়ারে এক হাজার ২০২ জন, মির্জাপুরে এক হাজার ৯০২ জন, কালিহাতীতে এক হাজার ১২৭ জন, বাসাইলে ৯৫২ জন, গোপালপুর ও ধনবাড়িতে ৭৫২ জন করে, ঘাটাইলে ৫৫২ জন ও সখীপুরে ৫০২ জন কৃষক প্রণোদনার সুবিধা পাবেন।