Monday, 20 November 2017

 

দাম পড়ে যাওয়ায় বিপাকে বাগেরহাটের ৪৩ হাজার চিংড়ি চাষী

কৃষি অর্থনীতি ডেস্ক:গলদা চিংড়ি দেশের অর্থনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বিশেষ করে বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলের বাগেরহাটে চিংড়ি ঘেরগুলিতে ব্যাপক চিংড়ি চাষের পাশাপাশি কর্মসংস্থান হচ্ছে স্থানীয় জনগণের। তবে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় বর্তমানে চিড়ি চাষীরা হতাশায় ভুগছেন বলে জানা গেছে। জেলার প্রায় ৪৩ হাজারের মতো চিংড়ি চাষীরা তাদের উৎপাদিত পণ্যগুলি ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

বর্তমানে গলদা চিংড়ির দাম কেজি প্রতি ২৫০-৩৫০ টাকা দর কমে যাওয়া এবং সেই সাথে কিছুদিন আগে অতি বৃষ্টিতে চিংড়ির ঘের ভেসে যাওয়ায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন জেলার প্রায় ৪৩ হাজারের মতো চিংড়ি চাষীরা। অতি বৃষ্টির কারনে প্রায় ১১ হাজারের মতো চিংড়ি ঘের ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি বাগদা চিংড়িতে ভাইরাসের আক্রমনের কারনে চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ হন।

এদিকে বিভিন্ন দেশে রপ্তানীর জন্য চিংড়িগুলো বিভিন্ন গ্রেডে ভাগ করেন ফিস প্রসেসিং কোম্পানিগুলো। যার মধ্যে ৫ম গ্রেডের বর্তমান দর প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা যা মাস তিনেক আগেও প্রতি কেজি ছিল ১১০০/- টাকা। অন্যদিকে ১০ গ্রেডের ৯৫০ টাকা থেকে নেমে কেজি প্রতি দাড়িয়েছে ৬৫০ টাকায়। বাগেরহাট মৎস্য অফিস হতে জানা গেছে জেলার প্রায় ৪৩ হাজার চাষীরা সব মিলিয়ে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ করেন। তবে সাম্প্রতিক লোকসানে বাগেরহাট জেলার চাষীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

দেশের কৃষি অর্থনীতিবিদসহ চিংড়ি চাষে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন কৃষি প্রধান দেশে রপ্তানীর অন্যতম একটি উৎস হলো প্রক্রিয়াজাত চিংড়ি। আধুনিক কারিগরী প্রযুক্তি প্রয়োগসহ মানসম্মত উপযোগী করে চিংড়ি উৎপাদন করা গেলে এটি বহির্বিশ্বে আমাদের দেশের চিংড়ির হারানো গৌরব ফিরে আনতে পারে। তারা মনে করেন প্রান্তিক পর্যায়ের চিংড়ি চাষীদের জন্য এমন দুর্যোগে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ ইনসেনটিভ চালুর পাশাপাশি সরকারী মনিটরিং আরো জোরদার করার উপর গুরুত্বারোপ জরুরি।