Monday, 20 November 2017

 

মান্দায় মওসুমি ফলমুল-শাকসব্জি বিক্রি করে চলে যমজ দুই ভাই হাসান-হোসাইনের সংসার

কাজী কামাল হোসেন, নওগাঁ: হাসান ও হোসাইন জমজ দুই ভাই। মওসুমী ফলমুল আর কাঁচা তরিতরকারী শাকসব্জি বিক্রি করে দারিদ্রতা দুর করে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছেন এই দুই ভাই। হাসান ও হোসাইনের বাড়ি মান্দা উপজেলার গণেশপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে। তারা ঐ গ্রামের ইদন খাঁ’র পুত্র। তাদের বয়স এখন ৫৯ বছর। নিজের জমি বলতে রয়েছে মাত্র ২৫ কাঠা। এক সময় সংসারের অভাবের তাড়নায় হিম সিম খেতে হয়েছে তাদের। সন্তান সন্ততি নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটতো তাদের।

আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে তারা দুইভাই মান্দা উপজেলার সতিহাট বাজারে মওসুমী ফল যেমন বাতাবী লেবু, মিষ্টি আমড়া, পেয়ারা, কলা ইত্যাদির দোকান দেন। সেই সাথে তাদের এই দোকানে বিক্রি করতেন আলু, পটল, বেগুন, মুলা, পিয়াজ, রসুন, আদা, মরিচসহ নানা তরিতরকারী এবং বিভিন্ন রকমের শাকসব্জি।  

বিভিন্ন গ্রাম এবং গ্রামীন হাট থেকে এসব ফলমুল এবং তরিতরকারী ও শাকসব্জি পাইকারী কিনে এনে সতিহাট তাদের স্থায়ী দোকানে বিক্রি করতেন। সকাল থেকে রাত প্রায় ৯টা পর্যন্ত বেচাকেনা চলে তাদের দোকানে। হাসান ও হোসাইন জানান দুই ভাই একসাথে একই দোকান চালায়। বিক্রির পর যা লাভ হয় তা দুই ভাই সমানভাবে ভাগাভাগি করে তাই দিয়ে তাদের পৃথক পৃথক সংসার চালিয়ে থাকেন। তারা জানান প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩  হাজার টাকা পর্যন্ত বেচাকেনা হয়। এ থেকে প্রতিদিন অনুমান লাভ হয় ৭শ থেকে ৮শ টাকা। তা দিয়েই হাসানের ৩ সন্তান ও হোসাইনের ২ সন্তান নিয়ে তাদের সংসার ভালোভাবেই চলে। চলে সন্তানদের লেখাপড়াও।  

এমতাবস্থায় তাদের ব্যবসায়ীক বাস্তব জীবন সম্পর্কে জানতে চাইলে হাসান ও হোসাইন বলেন, “কিছুই করার নাই, সবই ভাগ্য! আমরা গরীব মানুষ, আল্লাহ চালায় তাই কোনমতে পেটে-ভাতে চলি। কারো কাছে হাত পেতে কিছু চাইতে হয়না। এটাই আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া।