Wednesday, 23 May 2018

 

ভেটেরিনারিয়ানের চোখে পোষা পাখি শিল্প

ডাঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন, ডি ভি এম (সিভাসু), পাখি ও কবুতর বিশেষজ্ঞ: পোষা পাখি বলতে ঐ সকল পাখিকে বুঝায় যাদেরকে উপযুক্ত পরিবেশ প্রদান করলে তারা নিজেরা বংশবৃদ্ধি করতে পারে এবং সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকে। কিন্তু শর্ত হলো ঐ সকল পাখি অবশ্যই দেশীয় পাখির আওতায় পড়বে না। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশে বসবাস যোগ্য পাখি গুলো আমাদের বন্য পাখির অন্তর্ভুক্ত যাদের কখনো খাঁচায় পালন করা যাবে না।

বাংলাদেশ সহ বিশ্বের সকল দেশে পোষা পাখি পালন একটি সৌখিক উদ্দিপনা যাহা বর্তমানে বাণিজ্যিক ভাবে পালন করা হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে বহু সৌখিন খামারী গড়ে উঠেছে যারা বিভিন্ন প্রজাতের সৌখিন পাখি লালন পালন করছেন। বাংলায় একটি প্রবাদ আছে "শখের দাম আশি তোলা" যা এখন সৌখিন পোষা পাখির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বাংলাদেশে পোল্ট্রি শিল্পের মতো এখন পোষা পাখি পালন একটি শিল্পের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। যা অদূর ভবিষ্যতে বিশাল একটি শিল্পে রূপান্তরিত হবে।

বাংলাদেশে যে সকল পোষা পাখি লালন পালন করা হয় তাদের মধ্যে বাজেরিগার, লাভ বার্ড ককাটাইল, ডায়মন্ড ঘুঘু, ফিঞ্চ, জাভা, কুনোর, লরি, রোজেলা, ফরপাস, আমাজন প্যারট, ইন্ডিয়ান রিংনেক প্যারট, কাকাতুয়া, আফ্রিকান গ্রে প্যারট, ম্যাকাও ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। যেগুলো মূলত: আসছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, আমেরিকা, দুবাই, বাহরাইন, থাইল্যান্ড, ইন্ডিয়া, পাকিস্থান, ইত্যাদি দেশ থেকে। দেশ থেকে। বর্তমানে এই পোষা পাখি আমাদের দেশের পরিবেশে আবদ্ধ খাঁচায় তাদের বংশবৃদ্ধি স্বাবলীল ভাবে করে যাচ্ছে।

এই সকল পাখি খামারীদের মধ্যে বেশির ভাগ খামারী গড়ে উঠেছে ফেইসবুক এর প্রচারনার মাধ্যমে। ফেইসবুজ ভিত্তিক অনেক সংগঠন এই সকল খামারীদেরকে সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে বাজেরিগার সোসাইটি বাংলাদেশ, এভিয়ান কমিউনিটি অব বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম বার্ডস ব্রিডার্স এসোসিয়েশন, এক্সোটিক বার্ড বিডার্স এসোসিয়েশন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এই সকল সংগঠনের ফেইসবুকের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশে প্রায় ১০ লক্ষ সৌখিন খামারী রয়েছে যাদের বিভিন্ন পোষা পাখির সংখ্যা আনুমানিক ৪০ লক্ষের উপর।

এ সকল পোষা পাখির প্রত্যেকটির খাদ্য পরিচর্যা, ব্যবস্থাপনা সব কিছুই ভিন্ন ভিন্ন। যা খামারীরা অনলাইন ও নিজেদের অভিজ্ঞতার আলোকে লালন পালন করছেন এবং একই প্রজাতির বিভিন্ন রং এর পাখির সাথে সংমিশ্রণ প্রজননের মাধ্যমে নতুন রং এর পাখি তৈরি করছেন খামারীরা।

পোষা পাখির রোগ ব্যাধি ও কিন্তু কম নয়। কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় হল শুধু অভিজ্ঞতার আলোকে অনেক খামারী এ সকল পাখির চিকিৎসা প্রদান করে থাকেন। এই কারনে অনেক খামারী বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখিন ও হচ্ছেন।

আরও একটি সমস্যা হলো ঔষধের অপ্রতুলতা। আমাদের দেশের ভেটেরিনারি ঔষধ গুলো মূলত: মুরগীর জন্যে তৈরি করা যা পোষা পাখির চিকিৎসায় ব্যবহারে একটু বেগ পেতে হয়। সর্বোপরি একজন ভেটেরিনারিয়ান হিসেবে আমার জ্ঞান ধারণা তুলে ধরছি। পোষা পাখি একদিন শিল্পে রূপান্তরিত হবে যদি আমরা একটি সুনির্দিষ্ট প্রোটোকল তৈরি করতে পারি। বন্য প্রাণি সংরক্ষন অধিদপ্তর এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এর যৌথ উদ্দ্যোগে এই শিল্প হতে পারে একটি বড় শিল্প।

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ পোষা পাখির অনুকূল বলে ব্রিডিং খুবই ভাল। সুতরাং উপযুক্ত খামারি ট্রেনিং দিলে এর সংখ্যা আরও বাড়বে। সেই সাথে যদি পোষা পাখি আমরা রপ্তানি করতে পারা যায় তাহলে এই শিল্পের দ্বার সমুদ্রের ন্যায় উজ্জ্বীবিত হবে।

সুতরাং শুধু শখ পূরণ নয় বাণিজ্যিক রূপরেখা পোষা পাখির শিল্পকে এনে দিবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি যাহা সরকারের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এজেন্ডাকে বা রূপরেখাকে বাস্তবায়ন করবে। সবাই সমউচ্চারিত স্বরে বলি,
‘‘বনের পাখি বনে রবে
খাঁচার পাখি বন্ধু হবে’’
“যুবক সমাজ উঠবে জেগে যেদিন
পোষা পাখি শিল্পে রূপান্তর হবে সেদিন"