Monday, 25 June 2018

 

কৃষি গবেষণার প্রযুক্তি সম্ভারে বান্দরবানে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন

কৃষি অর্থনীতি ডেস্ক:বান্দরবান জেলার পাহাড়ী এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত সবজির উন্নত জাত ও প্রযুক্তির মাধ্যমে এবং কেজিএফ প্রকল্পের সহায়তায় শীতকালীন সবজি চাষের বাম্পার ফলন হয়েছে। বারির প্রযুক্তিগুলোর ব্যবহারে এবং উল্লেখযোগ্য ৩২ টি সবজি জাতের চাষ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় পার্বত্যাঞ্চলে কৃষাণ-কৃষাণীর চোখে মুখে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের ঢল নেমেছে।

উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে ফলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার ৬ মার্চ ২০১৮ বান্দরবান জেলার ক্যামলং পাড়ায় এক কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। জেলার বিপুল সংখ্যক কৃষাণ-কৃষাণীর উপস্থিতিতে সিআরপি হিল এগ্রিকালচার কম্পোনেন্ট-৩ এর প্রধান গবেষক ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ড. মো: খলিলুর রহমান ভূঁইয়া প্রধান আলোচকের আসনে বলেন, দেশে ১৫৬ ধরনের শাকসবজি উৎপন্ন হয় এবং উৎপাদিত সবজির পরিমাণ ১৬০.৪২ লাখ মেট্রিক টন। বারির ৮৫ টি জাতের মধ্যে ৩২ টি জাত প্রকল্পের মাধ্যমে পাহাড়ী অঞ্চলে আমরা ছড়িয়ে দিয়েছি। বারি সীম-৬, বারি লাউ-৪, বারি বাঁধাকপি-১ বারির উল্লেখযোগ্য জাত। প্রযুক্তির সম্ভারে দেশে সবজির উৎপাদন বেড়েছে ৫ গুণ ফলে আমদের দেশ সবজি উৎপানে তৃতীয় অবস্থান লাভ করেছে। দেশে ৫ লাখ ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির চাষ করা হচ্ছে  যার ০.৬৫ % অত্র পাহাড়ী  এলাকায় হয়ে থাকে মোট উৎপাদনের মাত্র ০.৪৭%।

এই পাহাড়ী এলাকার অল্প জমিতে প্রযুক্তির সম্ভারে বেশী সবজি উৎপাদনের জোড়ালো তাগিদ জানিয়ে ড. ভূঁইয়া আরো বলেন, শীতকালীস সবজির উৎপাদন  হেক্টর প্রতি প্রচলিত উৎপাদনের দ্বিগুন বৃদ্ধি করে ৪০-৫০ টন করা সম্ভব। প্রকল্প সমন্বয়কারী উক্ত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ড. এম. নুরুল আলম বলেন, পাহাড়ী এলাকায় উপযোগী কৃষি গবেষণার জাতগুলো কৃষকদের মাঝে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে এবং বিজ্ঞানীদের পাহাড়াঞ্চল ভিত্তিক আরও বেশী বেশী সবজীর জাত উদ্ভাবনের তাগিদ দিয়ে দেশ-জাতির স্বার্থে নিসলসভাবে তিনি গবেষণা করার উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন।

কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন (কেজিএফ) এর অর্থায়নে এবং আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা, হাটহাজারীর সহযোগীতায় উক্ত কৃষক প্রশিক্ষন ও মাঠ দিবসে ড. ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এবং ড. মু. তোফাজ্জল হোনের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড.আঃ লতিফ, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এম ফয়সল, জেলা কৃষি কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন, উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ মোক্তাদির আলম, ড. মু. জামাল উদ্দিন, ড. মু. তোফাজ্জল হোসেন, মাহবুবুল আলম, মোঃ শরফুদ্দিন ভুইয়া, চেয়ারম্যান সানু প্রু মারমা প্রমুখ বিজ্ঞানীবৃন্দ।

ড. ভূঁইয়া এ প্রকল্পের আওতায় আগ্রহী চাষীদের মধ্যে বিনা মূল্যে বীজসহ বারি কর্তক উদ্ভাবিত অপরাপর সব্জি ও ফলের বীজ-চারা সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে আরো জানান, কৃষি কৃষ্টির সেরা সম্পদ, এই সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহারের মাধ্যমে পাহাড়ী জনগোষ্ঠির আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব।

কৃষক প্রশিক্ষণ শেষে বাকীছড়ায় বারি সিম-৬ চাষী লিটন দাস এবং ক্যামলং পাড়ায় উবাচিং মারমার জমিতে বারি লাউ-৪, বারি বাধাঁকপি-১, বারি  বেগুন-১, বারি টমেটো-৮ সহ বিভিন্ন সবজি জিও, এনজিও প্রতিনিধিদের ঘুরে দেখানো হয়। কৃষক লিটন দাস বাকীছড়ায় তার বারি সিম-৬ এর ১০ শতক জমি থেকে ২৫,০০০ টাকা এবং কৃষক উবাচিং মারমা ক্যামলং পাড়ায় বারি লাউ-৪ এর ৪ শতক জমি থেকে ১২,০০০ টাকা পেয়েছে। এই প্রকল্পের আওতাধীন শীতকালীন সবজি উৎপাদন পাহাড়ী এলাকায় বিপ্লব ঘটিয়েছে।

উক্ত উৎপাদিত সবজী পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পুরন করার পাশাপাশি কৃষক বিক্রয় করে আর্থিকভাবে লাভাবান হয়েছে। মাঠ দিবসে চাষীরা বলেন যদি প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু বীজ সহায়তা প্রদান করা হয় তাহলে পার্বত্য এলাকায় আগামীতে সবজীর চাহিদা পুরনের পাশাপাশি আর্থিক লাভবান এবং পুষ্টি নিবারণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, পাহাড়ী কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক সহ শতাধিক কৃষাণ-কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন।