Saturday, 18 August 2018

 

বাংলাদেশের পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি; বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:অনলাইন ভিত্তিক পোল্ট্রি নলেজ শেয়ারিং গ্রুপ পোল্ট্রি প্রফেশনাল’স বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ পোল্ট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদের যৌথ উদ্যোগে ৯ই মার্চ শুক্রবার ২০১৮ ইং সকাল দশটা থেকে রাজধানীর সংসদ ভবন সড়কস্থ পিকাডেলী রেস্টুরেন্টে "বাংলাদেশের পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি; বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা"-শীর্ষক মুক্ত আলোচনা ডাঃ নন্দদুলাল টিকাদারের সভাপতিত্বে, খন্দকার মোহাম্মদ মহসীন এবং অঞ্জন মজুমদারের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সারাদেশ থেকে আগত বিভাগীয় লেয়ার খামারী প্রতিনিধিরা তাদের বর্তমান বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট কৃষি অর্থনীতিবিদ অন্তর্জাতিক ভ্যালু এন্ড সাপ্লাই চেইন এক্সপার্ট শরীফা পারভিন আগামীদিনের বিশ্বায়ানের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে পোল্ট্রির ভ্যালু এন্ড সাপ্লাই চেইন ডেভেলপমেন্ট করে একটি উন্নত সাপ্লাই চেইন এর মাধ্যমে খামারীরা তাদের উৎপাদিত ডিম এবং ব্রয়লার মুরগীর লাভজনক মূল্য পেতে পারেন বলে তার বক্তব্যে তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদের সাধারন সম্পাদক খন্দকার মোহাম্মদ মহসীন তার বক্তব্যে আগামীদিনে খামারীদের নিজেদের মধ্যে আন্তঃ যোগাযোগ স্থাপন করে সারাদেশে পোল্ট্রি পন্যের বাজার নিয়ন্ত্রনের ভূমিকা তুলে ধরেন। উক্ত আলোচনায় প্রানি সম্পদ অধিদপ্তরের প্রাক্তন মহাপরিচালক ডাঃ মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে তার গুরুত্বপূর্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

বিশিষ্ট পোল্ট্রি কনসালটেন্ট পোল্ট্রি প্রফেশনাল’স বাংলাদেশ (পিপিবি) এর সমন্বয়ক অঞ্জন মজুমদার প্রতিযোগিতা মূলক বাজারে বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র এবং মাঝারী খামারীদের সমবায় ভিত্তিক উৎপাদন এবং মাননিয়ন্ত্রনের আন্তর্জাতিক মানের ডিম এবং পোল্ট্রি পন্য উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি তার বক্তব্যে কতিপয় প্রস্তাব তুলে ধরেন-
বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পের ইতিহাসে এই দীর্ঘ মেয়াদী সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে হলে ক্ষুদ্র এবং মাঝারী খামারীদের সমবায় ভিত্তিক উৎপাদন, বিপননে ঝুঁকতে হবে।

কেন?
১. পোল্ট্রি খাদ্য-মেডিসিন-ভ্যাকসিন-বাচ্চা কমদামে ক্রয় করার উদ্দেশ্যে

২.গুনগত মান সম্পন্ন মাংস ডিম উৎপাদন যা ভোক্তাদের পোল্ট্রি পন্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে আস্থা আনবে।

৩. উপজেলা ভিত্তিক সমবায় ভিত্তিক বিজনেস সেন্টার গড়ে তুলতে হবে, বিজনেস সেন্টারের মাধ্যমে প্রসেসিং প্ল্যান্ট বা অন্য যে কোন ক্রেতার নিকট প্রকৃত দামে এবং লাভজনক ভাবে ডিম বা মুরগী বিক্রি করতে পারবে। মধ্যসত্বভোগীর অস্তিত্ব অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

৪. প্রতি সমবায় কেন্দ্রিক উপজেলায় সুনির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জের মাধ্যমে প্রতিটি সমবায়ী খামারী পোল্ট্রি এক্সটেনশন ওয়ার্কারের মাধ্যমে  প্রকৃত এবং দরকারী সেবা এবং পরামর্শ পাবেন।

৫. পোল্ট্রি খামার সমবায়ীরা নিজস্ব অর্থায়নে দুই বা তিন উপজেলা মিলে ডিজিজ ডায়াগনস্টিক ল্যাব এবং ফিড এনালাইসিস ল্যাব গড়ে তুলবেন।

৬. সুনির্দিষ্ট সমবায়ী এলাকায় অনাহুত এবং নিন্ম মানের পোল্ট্রির বিভিন্ন ইমপুট যেন ব্যবহার না হয়, যা উন্নতগুনের পোল্ট্রি পন্য উৎপাদনে বাধার কারন হয়ে দাঁড়ায় তা মনিটরিং করার জন্য টিম গঠন করতে হবে।

৭. খামারীদের উন্নত মানের পোল্ট্রি পন্য উৎপাদনের জন্য সমবায়ের উদ্যোগে সময়োপযোগী ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করতে হবে.

৮. উপজেলা ভিত্তিক সমবায় ইউনিটের সদস্যদের নিয়ে জেলা বিভাগ এবং জাতীয় কমিটি গঠনের মাধ্যমে খামারী স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সরকার, মন্ত্রনালয় বা অন্য সংস্থার সাথে সময়ে সময়ে আলোচনা-পরামর্শ-বার্গেনিং এর উদ্যোগ নিতে হবে।

৯. পোল্ট্রি পন্যের আভ্যন্তরীণ ভোক্তা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন রকমের প্রোমোশানাল কর্মসূচি এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন প্রচারের উদ্যোগ নিতে হবে।।

১০. সমবায়ের মাধ্যমে প্রতিদিনের বাজার মনিটরিং এর যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে।

১১. প্রতিটি সমবায়ী উপজেলাকে নিজস্ব একটা ব্র‍্যান্ড ক্রিয়েট করতে হবে যা তাদের পন্য সহজে এবং ভ্যালু এডিং এর মাধ্যমে তুলনামূলক বেশী দামে ডিম বা মুরগী বিক্রিতে সহায়তা করবে।

১২. জেলা ভিত্তিক সকল সমবায়ী উপজেলার অংশগ্রহনে পোল্ট্রি খামারী কমিউনিটি রেডিও স্টেশন চালু করতে হবে, যার মাধ্যমে প্রতিদিন পোল্ট্রি খামারিয়া একটি সুনির্দিষ্ট সময়ে দরকারী নানান পরামর্শ পাবেন।

১৩. সমবায়ী খামারীদের মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে এর ফলে উন্নত প্রযুক্তি এবং কৌশল দ্রুত সারা এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে।

১৪. পোল্ট্রি খামারী সমবায়ের মূলমন্ত্র হবে" উন্নত খামার ব্যবস্থাপনা,ঝুঁকিমূক্ত পোল্ট্রি পন্য, কমদামে উৎপাদন এবং প্রতিযোগিতামূলক দামে বিক্রি।।

আলোচনায় বক্তাগন পোল্ট্রি হাব ও ভূট্টা উৎপাদনকারী অঞ্চলে সরকারী উদ্যোগে ধান চাউলের মত সাইলো স্থাপনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন, সরকারী উদ্যোগে সাইলো স্থাপিত হলে খামারীগন সারা বছর সহনশীল মূল্যে দেশে উৎপাদিত ভূট্টা পাবেন বলে যা পোল্ট্রি খাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রনে সহায়ক হবে।

মতবিনিময় সভায় দুটি সংগঠন আগামীদিনে গুনগত পোল্ট্রি পন্য উৎপাদনে এক যোগে কাজ করবেন যৌথ ঘোষনা দেন।

উক্ত মতবিনিময় সভায় আরো আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন এ কে এম রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, নীশিত কুমার মন্ডল, ডাঃ অলক সরকার।