Saturday, 24 February 2018

 

দ্বিতীয়বারের মতো নওগাঁর আম রপ্তানী হলো ইংল্যান্ডে

কাজী কামাল হোসেন,নওগাঁ: নওগাঁর পোরশা উপজেলার সুমিষ্ট আম দ্বিতীয় বারের মতো রপ্তানী করা হলো ইংল্যান্ডে। রপ্তানীকৃত সুস্বাধু ফজলী আম উপজেলার পোরশা সদরের হাড়িপাড়া গ্রামের মোতাহার হোসেন সুফির ছেলে মনিরুজ্জামান মনিরের বাগানের।

জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠান এমকে এন্টার প্রাইজ ও মরিসন এন্টারপ্রাইজের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন বাগান মালিক মনিরুজ্জামান মনির। বিদেশে রপ্তানীর জন্য চুক্তিতে তার কাছ থেকে এমকে এন্টারপ্রাইজ ১হাজার কেজি(২৫মণ) ও মরিসন এন্টারপ্রাইজ ৬শ কেজি (১৫মণ) আম নেন। যা সর্বমোট ৪০মণ বা ১হাজার ৬শ কেজি আম রপ্তানী করা হলো ইংল্যান্ডে।

বাগান মালিক মনিরুজ্জামান মনির জানান, তিনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে তার দুটি আম বাগানে কোন প্রকার কীটনাশক ব্যবহার করা ছাড়াই আম উৎপাদন করেন। তবে কীটনাশকের বিপরীতে তিনি ফেরেমোন ফাঁদ ব্যবহার করেছেন। এতে তিনি কীটনাশকের চেয়েও অনেক ভাল ফলাফল পেয়েছেন।

আম চাষ ও উৎপাদনে সফল হতে তিনি আম গাছে কীটনাশকের বদলে ফেরেমোন ফাঁদ ব্যবহার ও আম গাছের নিচে মাটি বা গোড়া পরিষ্কার করতে এবং সর্বপরি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিতে সাধারন আম চাষী এবং কৃষকদের পরামর্শ দেন।

উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হাই ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবার রহমান জানান, পোরশা উপজেলায় এখন ৬হাজার হেক্টর আবাদী জমিতে আম চাষ হচ্ছে। এবছর আম উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি হেক্টরে ১০টন করে। সে হিসাবে এবারে এ উপজেলায় প্রায় ৬০হাজার টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

তারা আরও জানান, প্রতি বছর এ উপজেলায় আমের উৎপাদন মাত্রা বেড়েই চলেছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পোরশা উপজেলায় বর্তমান আমের উৎপাদনের তুলনায় বেশ কয়েকগুন বেড়ে যাবে। বর্তমানে পোরশা উপজেলায় নেংড়া, ফজলী, গোপালভোগ, হিমসাগর, আশ্বীনা, লখনা, আম্রপালী, বারী-৩, বারী-৪ ও মল্লিকা জাতের আম চাষ হচ্ছে। এ উপজেলায় চাষকৃত আমগুলি অনেক সুস্বাধু। তাই বাজারে এসব আমের চাহিদা অনেক বেশি।

উল্লেখ্য, গত বছর পোরশার ঘাটনগর গ্রামের একটি বাগানের বারী-৩, বারী-৪ ও মল্লিকা জাতের আম লন্ডন ও যুক্তরাজ্যে রপ্তানী করা হয়েছিল।