Wednesday, 22 November 2017

 

আগামী বছর বাংলাদেশে দুর্যোগ বিষয়ক বিশ্ব সম্মেলন-দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী

পরিবেশ ডেস্ক:দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, ২-৫ নভেম্বর  নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে করণীয় নির্ধারণ বিষয়ক এশিয়ান মিনিস্টিরিয়াল কনফারেন্সে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত ‘প্রতিবন্ধিতা ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক ঢাকা ডিক্লারেশন গৃহীত হয়েছে। এ বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে আরো এগিয়ে নেয়ার জন্য ২০১৭ সালে বাংলাদেশে বিশ্ব সম্মেলন আয়োজন করা হবে।

১১ নভেম্বর শুক্রবার ঢাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সফলতা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী এ তথ্য জানান। এসময় মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ্ কামাল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, কনফারেন্সে বাংলাদেশ দুর্যোগ ঝুঁকি ও জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীল সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণের জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং দুর্যোগ সহনশীলতাকে সুসংহত করতে প্রত্যেক দেশকে এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে এবং আলাদা তহবিল গঠন করতে বলেছে। বিশেষত সকল উন্নয়ন অংশীদার, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে তাদের প্রতিশ্রুতি ও সহায়তা আরো জোরদার করতে বলেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ববাসীকে জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিভিন্ন খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে অন্তর্ভুক্ত করছে। বিশেষত গ্রামীণ পর্যায়ে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, দারিদ্র্য নিরসন ও সামাজিক নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জলবায়ু পরিবর্তন সহায়তা তহবিল গঠন করে জলবায়ু সহনশীল প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, বিশেষ করে সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় দিতে বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশেষভাবে প্রশংসা করেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকারও প্রশংসা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, বজ্রপাত ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সঠিক ও নির্ভুল তথ্য আদান প্রদানের মাধ্যমে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে দু’দেশ একমত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা পাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে সুন্দরবনকে পরিবেশ বিপর্যয় থেকে রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নিতে দু’দেশ সম্মত হয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় এ সম্মেলনকে সফল হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
-তথ্য সূত্র-পিআইডি