Saturday, 18 November 2017

 

প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালকের অভিনন্দন

ডেস্ক:তৃণমূল জনগণের মাঝে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার সাফল্যের জন্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক মার্গারেট চ্যান।

সোমবার ২০ নভেম্বর চীনের সাংহাই-এ ‘হেলথ প্রমোশন ইন দ্য এসডিজিস’ বিষয়ক নবম বৈশ্বিক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের সম্মানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আয়োজিত মধ্যাহ্ন ভোজ সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সাথে একান্ত আলাপকালে তিনি এই অভিনন্দন জানান।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের সার্বিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে চ্যান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের অর্জন বিশ্বের অনেক দেশের জন্য অনুকরণীয়। তিনি এসময় ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্যের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। বড় বড় শহরে বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের ফসল গ্রাম পর্যায়ে ১৩ হাজারের বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করে তৃণমূল পর্যায়ে মৌলিক চিকিৎসা সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করেছে সরকার। স্বাস্থ্যসেবার সকল পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি একটি ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি এসময় বাংলাদেশের জনগণের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভূমিকায় কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে আগামীতে সহায়তা বাড়ানোর জন্য মার্গারেট চ্যানের প্রতি অনুরোধ জানান।

পরে চীনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী লি বিন এর সাথে একান্ত আলাপকালে বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন মোহাম্মদ নাসিম। চীনকে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক খাতের উন্নয়নের এক বিশ্বস্ত সহযোগী হিসাবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, চীনের রাষ্ট্রপতির ঢাকা সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। বাংলাদেশ তার স্বাস্থ্যখাতকে আরো আধুনিক ও জনবান্ধব হিসাবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় চীনের কাছ থেকে সহযোগিতা কামনা করে।

মা ও শিশু স্বাস্থ্যসহ এই খাতের কয়েকটি পর্যায়ে বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা করে চীনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আগামীতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ, তথ্য প্রযুক্তি, জ্বালানীসহ কয়েকটিখাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের আশ্বাস প্রদান করেন।

এদিকে গতকাল সকালে সাংহাই-এ এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেচিয়াং)।  জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন,  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক মার্গারেট চ্যান বিশেষ অতিথি হিসাবে উদ্বোধন অধিবেশনে বক্তৃতা করেন। বিশ্বের প্রায় ২০০ দেশের মন্ত্রী, সরকারের নীতি নির্ধারণী কর্মকর্তাগণ, বেসরকারি সংস্থার উন্নয়ন কর্মীসহ এক হাজারের বেশি প্রতিনিধি চারদিন ব্যাপী এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে বিশ্বের ৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন মানুষের জীবনমানের অগ্রগতির কৌশল নির্ধারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও চীনের সরকার যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সম্মেলনে যোগদানের জন্যে ১৯ নভেম্বর রাতে ঢাকা ত্যাগ করেন। আগামী ২৫ নভেম্বর তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
--পিআইডি’র সৌজন্যে