Tuesday, 12 December 2017

 

বৃক্ষ নিধনে মরুকরণে পরিণত হচ্ছে নোবিপ্রবি

কামরুল হাসান শাকিম, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি:নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান কর্মক্ষেত্রে যোগদান করার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অবকাঠামোগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের উন্নয়ন করেছেন। তিনি গত ১.৫ বছরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি নির্মাণ, প্রশাসনিক ভবন কে ৪ তলা থেকে ৫ তলায় উন্নীত করন সহ সম্পন্ন করেছেন নির্মাণাধীন আব্দুল মালেক উকিল হল ও হাজী মুহাম্মদ ইদ্রিস আলী অডিটোরিয়াম এর কাজ। এ ছাড়াও বর্তমানে একাডেমীক ভবন ২ এর ১০ তলা পর্যন্ত উন্নীত করন ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল এর কাজ প্রায় শেষের পথে রয়েছে।

অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি তিনি উন্নয়ন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমীক কার্যক্রমেরও। নতুন চারটি বিভাগ ও দুইটি ইন্সটিটিউট চালুকরণ সহ বিভিন্ন বিভাগে নামকরা বিজ্ঞানী ও জ্ঞানীগুণীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিণত করেছেন মেধাবীদের মিলন মেলায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ধনকারী বৃক্ষ রোপণ এর ব্যাপারে বলা যেতে পারে তিনি বরাবরই উদাসীন। কারন তিনি আজ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পরিবেশের উন্নয়নের জন্য কোন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন করেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে গিয়ে কেটে ফেলা হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী, মানুষের  পরম বন্ধু গাছ। আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধ চত্বর তথা গোল চত্বর এর রাস্তা পাকা করতে গিয়ে কিছু দিন আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনের কড়ই গাছ সহ সবকটি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বসে আড্ডা দিতেন,গান গাইতেন, অনেকে আবার বিশেষ করে এই স্থানটি ওয়াইফাই জোন হওয়াতে ক্লাসের ফাঁকে গাছ তলায় বসে ডাউনলোড করে নিতেন পড়াশুনার প্রয়োজনীয় সব তথ্য।

তাছাড়া, এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দিঘী, লন্ডন রোড, ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হল রোড সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের অনেকগুলো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে যা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য কে বিনষ্ট করছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৭ম ব্যাচের ছাত্র মোহাম্মদ হাসান আলী বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের পক্ষে কিন্তু তা পরিবেশের ক্ষতি করে নয়। আমাদের ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থানটি সৌন্দর্যের আধার। কিন্তু রাস্তা পাকা করতে গিয়ে গাছগুলি কেটে ফেলা হয়েছে যা আমরা মেনে নিতে পারছিনা । গাছগুলি না কেটে এর গোড়ায় বেধি তৈরি করে দেয়া যেত বা অন্যকোন ব্যবস্থা নেয়া যেত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, এমনিতেই আমাদের ক্যাম্পাস মরুভূমির মত,গাছপালা খুবই কম,খরায় এখানকার তাপমাত্রা অন্যান্য এলাকা থেকে অনেক বেশি, মাটি লবণাক্ত হওয়ায় গাছের বৃদ্ধি অনেক কম। আমরা বিভিন্ন সময় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী গ্রহণ করে ক্যাম্পাসে অনেক গাছ লাগিয়েছি,পরিচর্যা করে গাছগুলোকে বড় করে গ্রীন ক্যাম্পাস তৈরি করার চেষ্টা করছি কিন্তু উন্নয়নের নামে এভাবে বৃক্ষ কর্তনকে আমরা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারবনা । তাছাড়া প্রতিবছর অসংখ্য অতিথি পাখি আমাদের ক্যাম্পাসে আসে আশ্রয়ের জন্য কিন্তু দিন দিন গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় অতিথি পাখির আগমন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাচ্ছে এবং নোবিপ্রবি হারাচ্ছে তার সৌন্দর্য । এ সময় তাঁরা উপাচার্য মহোদয়ের নিকট ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও সৌন্দর্য রক্ষার জন্য যেই গাছগুলো কাটা হয়েছে তার পরিবর্তে দুইটি করে গাছ লাগানো এবং ভবিষ্যতে যেন আর গাছ না কাটা হয় সে দাবি জানান।

পরিবেশের উপর এর ক্ষতিকর প্রভাব জানতে চেয়ে পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব শিবলুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,গাছ আমাদের জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে গাছের প্রভাব পরিবেশের উপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন, আমরা তাপমাত্রার দিকে খেয়াল করলে দেখতে পারি যখন অনেক তাপমাত্রা থাকে গাছ আমাদের তাপমাত্রা শোষণ করে কিছুটা স্বস্তি দান করে, তিনি আরো বলেন শহীদ মিনারের সামনে অথবা অন্য যে কোনো জায়গায় গাছগুলো কাটার ফলে এখন তাপমাত্রার কিছু তারতম্য দেখা যাবে পুরো ক্যাম্পাসে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি থাকলেও দেখা যাবে ওখানে ২৮ ডিগ্রি। এছাড়াও গাছ কাটা কখনো আমাদের জন্য ভালো লক্ষন না, একটা গাছ কাটলে আরেকটা গাছ রোপন করে দেওয়া উচিত।

এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগের প্রভাষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জনাব সফিকুল ইসলাম বলেন, শহিদ মিনারের সামনের জায়গা গুলোতে ঢালাই দেয়ার ফাঁকেফাঁকে মাটির স্তুপ রাখা হলে। পরে সেগুলোতে সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছ লাগাতে পারলে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেত এবং পরবর্তিতে শিক্ষার্থীদের কাছে অবসর সময় কাটানোর একটি অন্যতম স্থান হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করত বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।