Sunday, 17 December 2017

 

হাওর এলাকায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে-ত্রাণ মন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:সরকার হাওর এলাকার সকল মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। ইতোমধ্যে জরুরি ত্রাণ সহায়তা হিসেবে বিতরণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ৩৩২৪ মেট্রিক টন চাল ও ১ কোটি ৯৩ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বরাদ্দ করেছে। এর মধ্যে সিলেটের জন্য ৪২৮ মে.টন চাল ও ২৪.৩৭ লাখ টাকা, সুনামগঞ্জের জন্য ১২৫০ মে.টন চাল ও ৭৫ লাখ টাকা, হবিগঞ্জের জন্য ৩০৩ মে.টন চাল ও ১৪ লাখ টাকা, মৌলভীবাজারের জন্য ৩৪৩ মে.টন চাল ও ১৪.৫০ লাখ টাকা, কিশোরগঞ্জের জন্য ৫৫২ মে.টন চাল ও ৩৩.৭০ লাখ টাকা ও নেত্রকোনার জন্য ৪৪৮ মে.টন চাল ও ৩২.৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে। ৩৩২৪ মেট্রিক টন চাল ৩০ কেজি করে ১ লাখ ১০ হাজার পরিবারের জন্য ত্রাণ সহায়তা হিসেবে বরাদ্দ করা হয়েছে।

এর বাইরে উপকূলীয় ওই জেলাগুলোর জন্য বিশেষ সহায়তা হিসেবে সরকার ৩ লাখ ৩০ হাজার অতি দরিদ্র পরিবারকে আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে পরিবার প্রতি ৩০ কেজি করে বিনামূল্যে চাল বিতরণ করবে। সাধারণ দরিদ্র পরিবারের জন্য ১৫ টাকা কেজি দরে ওএমএস কর্মসূচির মাধ্যমে ১ লাখ ৭১ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে। এর ফলে সাধারণ বরাদ্দের বাইরে ৫ লাখ ১ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা সুনামগঞ্জেই ১ লাখ ৫০ হাজার পরিবারকে ভিজিএফ ও ৯১ হাজার পরিবারকে ওএমএস এর মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বীরবিক্রম, এমপি সুনামগঞ্জ সফরকালে স্থানীয় জনগণ ২ লাখ লোকের খাদ্য সহায়তা চেয়েছিলেন। সরকার তার চেয়ে ৪১ হাজার বেশি লোককে খাদ্য সহায়তার জন্য বরাদ্দ দিলেন।

২৩ এপ্রিল রবিবার সচিবালয়ের সভাকক্ষে হাওর অঞ্চলের চলমান বন্যা পরিস্থিতির উপর আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনা সভায় এ তথ্য জানানো হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বীরবিক্রম এমপি সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মোঃ শাহ্ কামাল, কৃষি সচিব মোঃ মহিউদ্দীন আব্দুল্লাহ, পানি সম্পদ সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মোঃ মাকসুদুল হাসান খানসহ সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় হাওর অঞ্চলের অকাল বন্যা সমস্যার কারণ চিহ্নিতকরণ ও ভবিষ্যতে করণীয় নির্ধারণে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ১৮ সদস্যের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন পেশ করার জন্য তাদের নির্দেশ দেয়া হয়।

সভায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয় যে, এ বছর অপেক্ষাকৃত ৩-৪ গুণ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে এ বছর অকাল বন্যা হয়েছে। ওই এলাকাকে বন্যার কবল থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষার উদ্যোগ নেয়া হবে ও মরা নদীগুলোর ড্রেজিং করা হবে বলে সভায় জানানো হয়। বাঁধ মেরামত ও সুরক্ষার বরাদ্দ উপজেলা প্রশাসন বরাবর ছাড় করা হবে বলে সভায় জানানো হয়।

হাওর এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রত্যেক মন্ত্রণালয় থেকে টিম পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয় সভায়। জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পানি বিশুদ্ধকরণ পর্যাপ্ত ট্যাবলেট সরবরাহ করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনের জন্য ৩৬০০০ কৃষককে কৃষি প্রণোদনা দেবে বলে কৃষি সচিব সভায় জানান। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে অতিরিক্ত ১০ জন কর্মকর্তাকে ৩ মাসের জন্য হাওর এলাকায় পদায়ন করা হয়েছে।
-পিআইডি’র সৌজন্যে