Tuesday, 12 December 2017

 

হাওরে মাছের মড়কের জন্য ধানের পঁচনই দায়ী ছিল

বাকৃবি প্রতিনিধি:অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলে নেমে আসা বন্যায় অপরিপক্ক ধান পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে পানিতে ডুবিয়ে যাওয়া ধান পঁচতে শুরু করে। এতে করে পানিতে অক্সিজেনের পরিমান তুলনামূলকভাবে কমে যায়। ফলে মাছ মারা যায়। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের সভা কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সকল তথ্য জানান মৎস্য চাষ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল হক।

জানা গেছে, গত ২৪ তারিখে বাকৃবি মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ কর্র্তৃক ৬ সদস্য বিশিষ্ট “মাছের মড়ক পর্যাবেক্ষণ ও অনুসন্ধানী দল” হাওড় অঞ্চল পরিদর্শনে যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, কোন জীবাণু বাহিত রোগের কারণে মাছ মারা যায়নি। হাওরের পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কম ও কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বেশী ছিল। ফলে পানির এসিডিটি বৃদ্ধি পায়। এতে কোন এমোনিয়া ও নাইট্রাইটের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

শুস্ক মৌসুমে হাওরের বোরো ধানক্ষেতে প্রচুর পোকামাকড় জন্মায়, এগুলোর মাঝে অনেক বিষাক্ত পোকামাকড়ও থাকে। হাওরের আকষ্মিক বন্যায় পোকামাকড়গুলো ভেসে হাওরের পাড়ের কাছাকাছি চলে আসে, এতে করে হাঁস সহজে এগুলো খেতে পারে। স্থানীয় জনগনের মতে পোকামাকড়গুলো থেকে বিষাক্ত পোকামাকড় খাওয়ার কারনে হাঁসের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য কারনেও হাঁসের মৃত্যু প্রায় সারা বছরই কম বেশী হয়ে থাকে। হালির হাওর থেকে পাওয়া মৃত হাঁসের রক্তের ডিএনএ মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ল্যাবে এনালাইসিস করে রক্তে কোন বিষাক্ত দ্রব্যের উপস্থিতি পাওয়া যায় নি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বন্যায় ধান নষ্ট হওয়ার ফলে মানুষ খাদ্যর অভাবে পড়বে। এব্যাপারে সরকারি, বেসরকারি, দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিত্তবানদেরকে এগিয়ে আসতে হবে পরামর্শ দিয়েছেন অনুসন্ধানী দল।