Monday, 20 November 2017

 

নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা বিধান বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম ডেস্ক:মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য খাদ্য নিরাপত্তার পর নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা বিধান একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন নিরাপদ খাদ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে তারা বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম শক্তিশালী করার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য আইনের কঠোর প্রয়োগের সুপারিশ করেন।

দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন “বাংলাদেশ ফুড সেফটি কনফারেন্স-২০১৭” এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তারা একথা বলেন। ২৩ আগস্ট বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্স অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), ফরেন ইনভেস্টরস্ চেম্বার অভ্ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফআইসিসিআই) এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অভ্ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এমসিসিআই) এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলন উদ্বোধন করেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুল ইসলাম অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন।  

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে খাদ্যসচিব মোঃ কায়কোবাদ হোসেন, বিএসটিআই’র মহাপরিচালক মোঃ সাইফুল হাসিব,  জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশের প্রধান কারিগরি পরামর্শক ঘধড়শর গরহধসরমঁপযর, জাতীয়  টিমলিডার একে এম নুরুল আফসার, এমসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট নিহাদ কবির ও  এফআইসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট রূপালী চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য অনুকরণীয় মডেল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তাসহ অনেক সামাজিক সূচকে ঈর্ষণীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। দানাদার খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদনেও বাংলাদেশ অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে।  

বর্তমানে বাংলাদেশ সবজি উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয় এবং চাল, মিঠাপানির মাছ ও ছাগল উৎপাদনে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। দেশব্যাপী বাম্পার খাদ্যশস্য উৎপাদনে শিল্প মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

আমির হোসেন আমু বলেন, শুধু সার উৎপাদন নয়, জনগণের জন্য পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য সরবরাহ সহজলভ্য করতে শিল্প মন্ত্রণালয় কাজ করছে। ইতোমধ্যে ভোজ্য লবণে বাধ্যতামূলকভাবে আয়োডিন এবং ভোজ্য তেলে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণের লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোতে সুগারবিট থেকে চিনি উৎপাদনের কাজ চলছে। নিরাপদ খাদ্যর উৎপাদন বাড়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় বাংলাদেশ ইন্সপায়ার্ড প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর আওতায় খাদ্য ও কৃষিভিত্তিক পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের উন্নয়নে দক্ষ প্রশিক্ষকের একটি ‘ন্যাশনাল পুল’ তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।  

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এখন নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ১৮টি মন্ত্রণালয় এবং ৪৮০টি সংস্থার সমন্বয়ে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলা পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য আদালত স্থাপন করা হয়েছে। তিনি  জনগণের জন্য নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা দিতে খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুণগতমান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সর্বোচ্চ সজাগ থাকার আহ্বান জানান। -পিআইডি’র সৌজন্যে