Thursday, 23 November 2017

 

কুরবাণীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

কৃষিবিদ মোহাইমিনুর রশিদ:কুরবানীর কাজ শেষ হলে জবাইয়ের স্থানটি পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে দিন যেন কোন রক্ত বা ময়লা আবর্জনা পড়ে না থাকে। সম্ভব হলে ব্লিচিং পাউডার চিটিয়ে দিতে পারেন। এতে আপনি, আপনার প্রতিবেশী এবং পথচারীরা বিভিন্ন রোগ সংক্রমনের হাত থেকে রক্ষা পাবে। এছাড়া সময়মতো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করবে।

এজন্য আমাদের যে বিষয়গুলি সকলেরই মেনে চলা প্রয়োজন তা হলো

কুরবাণীর প্রাণিটি রাখার স্থানে- উচ্ছিষ্ট খাবার, গোবর-চোনা পরিস্কার করুন। জবাইয়ের স্থানে রক্ত, চামড়া ছাড়ানোর স্থানে রক্ত, লসিকা, চামড়া লোম। গোশত তৈরির স্থানে- মাংসের ছোট ছোট টুকরা, রক্ত, বিভিন্ন উচ্ছিষ্ট অংশ যথা শিং, ক্ষুর, জননাঙ্গ, লসিকা, হাড়ের ক্ষুদ্রাংশ ইত্যাদি। চামড়া রাখার স্থানে পরিপাতন্ত্রের বিভিন্ন অংশ- ক্ষুদ্রান্ত, বৃহদ্রান্ত্র, এবোসোম, ওমেসাম, রেটিকুলাম, রুমেন এসব হতে নি:সৃত ময়লা এসব প্রত্যেকটি জায়গা বিভিন্নভাবে ময়লা আবর্জনায় ভরে যায়। এগুলো খুব দ্রুত জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয় এবং পচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। ফলে চারপাশ দুর্গন্ধে ভরে যায়। এতে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়। ফলে নানা ধরনের রোগ জীবাণুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। অনেক সময় জনজীবন দুর্বিষহ যন্ত্রনাময় ধারণ করে।

এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে আমাদের কিছু করণীয়
কুরবানীর প্রাণির গোশত কাটাকাটি শেষ হলে প্রথমেই উক্ত স্থান খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। সকল বর্জ্য সঠিকভাবে অপসারণের পর সংশ্লিষ্ট স্থানের রক্ত ও অন্যান্য ময়লা আবর্জনা পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। পরিষ্কার করার পর ব্লিচিং পাউডার বা অন্যান্য জীবাণুনাশক ছিটিয়ে দিতে হবে। এসব কাজগুলো যথাসম্ভব দ্রুত ও নিজ তাগিদে করা উচিত। সঠিকভাবে ও সঠিক সময়ে জীবাণু নাশক প্রয়োগ করলে সেখান থেকে কোন দুগর্ন্ধ ও রোগ বালাই ছড়িয়ে পরে না। ফলে কুরবাণী দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য সফল হয়।

কুরবাণীর পশুর বর্জ্য অপসারণ করার ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক একটি বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকে। নির্দেশনা মোতাবেক কুরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য অন্যতম খাত হলো চামড়া শিল্প। প্রতি বছর চামড়া রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রায় ১.২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে। বিশ্ব আসনে যা পঞ্চম। সুতরাং চামড়া শিল্পটাকে অবহেলা করে দেখার কোন অবকাশ নেই।

সর্বোপরি সহীহ শুদ্ধতা ও পবিত্রতায় ভরে ওঠুক সবার মন। ঈদের খুশিতে পুষ্পের হাসির মতো নির্মল বিশুদ্ধ হউক সবার কুরবানি।

-লেখক: আঞ্চলিক বেতার কৃষি অফিসার, কৃষি তথ্য সার্ভিস, সিলেট।