Saturday, 22 September 2018

 

উৎপাত বেড়েছে শিয়ালের-কর্মচারীদের অবহেলায় বাকৃবি পরিণত হচ্ছে ভাগাড়ে

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি প্রতিনিধি:কর্মচারীদেরদের বছরজুড়ে বিভিন্ন রকমের দাবি দাওয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকা, কাজে অবহেলায় প্রকৃতিকন্যাখ্যাত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ক্যাম্পাস ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় সীমানা নিয়মিত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন না রাখা, আগাছা পরিষ্কার না করা, ড্রেন, হলসহ বিভিন্ন জায়গা ঝোপ জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। এর ফলে দিনের বেলাতেই শিয়ালের উৎপাত বেড়ে গেছে। আল আমিন নামের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ক্যাম্পাস সীমানায় যতটা না কুকুর রয়েছে তার চেয়ে ২০গুণের অধিক শিয়াল রয়েছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে ঝোপ ঝাড়, ও ময়লা আবর্জনার স্থুপকেই দায়ী করেছেন। শিয়ালের ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী রাতে হল থেকে বের হতে পারেন না বলেও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থান থেকে ময়লা-আবর্জনা নিয়ে ক্যাম্পাসের প্রবেশ মুখে রেললাইনের দুপাশে ফেলায় তা ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে রূপ নিয়েছে। ফলে নাকে হাত চেপেই প্রবেশ করতে হচ্ছে সকলকে। নিয়মিত ময়লা অপসারণ না করায় দুর্গন্ধে একদিকে ঘটছে পরিবেশ দূষণ, অন্যদিকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় ও কেবি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। তবে এ ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। রুহুল আমিন নামের আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষকরা পাঠদান ও গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এগুলোর দেখাশুনা করার দায়িত্বও তাদের না। সারা বছর ধরেই দেখি কর্মকতা ও কর্মচারীরা আন্দোলন, নিজেদের শত উৎসব, নির্বাচন, সভা নিয়ে থাকেন। আসলে তাদের যে কাজের জন্য রাখা হয়েছে, তা তার কানা কড়িও তারা করেন না। এ কারণে সৌন্দর্য হারাচ্ছে অপরূপ এ ক্যাম্পাসটি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য রয়েছে ১৩ টি হল, শিক্ষকদের জন্য রয়েছে কোয়ার্টার। এসবের পাশাপাশি গড়ে উঠেছে অসংখ্য খাবার হোটেল ও স্টেশনারী দোকান। প্রতিনিয়ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোয়ার্টার, আবাসিক হলসহ বিভিন্ন স্থানে ময়লা আবর্জনা জমা হচ্ছে। ওইসব ময়লা নিয়ে ফেলা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া রেললাইনের দু’পাশে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়াসিন মোড়ের দোকানদার ও সেখানকার বাসিন্দারা বলেন, প্রতিদিন সকালে বিভিন্ন ট্রাকে ও ভ্যানে করে বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানের ময়লাগুলো কোনো ব্যবস্থাপনা ছাড়াই এই রেললাইনের আসে-পাশে ফেলা হচ্ছে। সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে সেগুলো পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে আমাদের কষ্ট হচ্ছে।

কর্মচারীরা হলের এ ডাস্টবিনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করেন না বলে অভিযোগ দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে দুর্গন্ধে সেগুলোর সামনে দিয়ে চলাফেরা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এসব বর্জ্য সঠিক উপায়ে ব্যবস্থাপনা না করায় ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রবও লক্ষণীয় মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকনগুনিয়ার মত রোগেও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ময়লা-আবজর্না পরিষ্কার, রাস্তার ধারের ঝোপ ঝাড় পরিষ্কার করতে কর্মচারীদের তেমন কোন পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ারের চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. ফয়েজ আহমদ বলেন, কর্মচারীদের কাজে ফাঁকি দেওয়ার কারণে, এ ক্যাম্পাস সত্যি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ফলে সহজেই রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে বায়ু বাহিত যেমন ডায়রিয়া, আমাশয় সহ বিভিন্ন রোগী আকান্ত শিক্ষার্থীদের সংখ্যাও বেড়ে গেছে।