Monday, 20 November 2017

 

সিরাজগঞ্জ সদরে কেঁচো সার উৎপাদনকারী কৃষক বাড়ছে

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:সিরাজগঞ্জে কেঁচো সার কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পাশাপাশি এর চাহিদাও দিন দিন বেড়ে চলেছে। এর উৎপাদন ও ব্যবহারে সফলতার মুখ দেখছেন কৃষকরা। মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা, উৎপাদনশীলতার উন্নয়ন, জৈব কৃষি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ইত্যাদি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে ভার্মি কম্পোস্টের গুরুত্বও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কেঁচো সার উৎপাদনকারীরা গো খামার থেকে গোবর ক্রয় করে কেঁচো কম্পোস্ট তৈরি করেন। এতে করে একদিকে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে না অপরদিকে জৈব সার উৎপাদন হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় রাজস্ব খাতের অর্থায়নে এবং এনএটিপি প্রকল্পের আওতায় ভার্মি কম্পোস্ট প্রদর্শনী স্থাপন করে কৃষকদের হাতে কলমে উৎপাদন কলা কৌশল শিখিয়ে দেওয়ায় কৃষকদের ব্যাপক আগ্রহ বেড়েছে।
 
প্রদর্শনীভুক্ত কৃষকদের পাশাপাশি এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন শুরু করেছে। বর্তমানে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় রাজস্ব খাতের অর্থায়নে ২০ জন কৃষক ৬০টি রিং এবং এনএটিপি প্রকল্পের আওতায় ২০ জন কৃষক ৬০টি রিংসের মাধ্যমে কেঁচো সার উৎপাদন করছেনে। কৃষি অফিসের ছাদে কেঁচো কম্পোস্ট উৎপাদন করে চাষিদের প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন কৌশল শিখিয়ে দিচ্ছেন এবং ১৫ জন চাষির মধ্যে বিনামূল্যে কেঁচো সরবরাহ করেছেন, ফলে প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ব্যক্তিগতভাবে কৃষকরা কেঁচো কম্পোস্ট এ রিং স্থাপন করছেন। পাশাপাশি কৃষক নিজেরা কেঁচো সংগ্রহ করে সার তৈরি করছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় ২শ' জন কেঁচো সার তৈরি করছেন।
 
এছাড়া এনজিও'রাও কিছু ভার্মি কম্পোস্ট স্থাপন করছেন। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে সর্বমোট ৫শ'টি রিং চলমান আছে। বাগবাটী ইউনিয়নের ফুলকোচা আইএফএমসি কৃষক ক্লাবে কৃষি অফিস থেকে কেঁচো নিয়ে সার উৎপাদন করছেন। বর্তমানে তাদের ২০ রিং এর মাধ্যমে কেঁচো সার উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদিত কেঁচো সার নিজেরা জমিতে ব্যবহার করার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকরা এবং ছোনগাছা বাজারে কেঁচো সার বিক্রি করছেন ।
 
ফুলকোচা আইএফএমসি কৃষক ক্লাবের সভাপতি জানান, যে কৃষি অফিস থেকে উৎপাদিত কিছু কেঁচো বিনামুল্যে সংগ্রহ করেi সার উৎপাদন শুরু করেন। বর্তমানে কেঁচো ও সার বিক্রি করে প্রাথমিকভাবে মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা আয় করেছেন।
 
কেঁচোসার ব্যবহার করলে চাষের খরচ কম হয়। উৎপাদন ও ফসলের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়। তুলনামূলকভাবে উৎকৃষ্ট ও বড় আকারের ফল বা সবজি পাওয়া যায়। মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়, ফলে কেঁচো সার ব্যবহারে সেচের পানি কম লাগে। ক্ষারীয় লবণাক্ত মাটিতেও চাষাবাদ সম্ভব। রোগ ও পোকামাকড়ের উপদ্রব কম হয়। জমিতে আগাছার ঝামেলা কম হয়। ফসলের বীজের অংকুরোদগম ক্ষমতা বাড়ে। অধিক কুশি, অধিক ছড়া ও দানা গঠন হয়। মাটির বুনট উন্নত হয়। রাসায়নিক সারের চাইতে খরচ অনেক কম হয়। পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকে। জৈব পদার্থ দিয়ে সাধারণ সার তৈরির পরিবর্তে কেঁচো সার তৈরি করলে এর পুষ্টিমান সাত থেকে ১০ গুণ বাড়ে। কেঁচো থেকে ফাইটো হরমোন নিঃসৃত হওয়ায় রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাব কম হয়।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব মো. রোস্তম আলী জানান, বিভিন্ন প্রকল্প ও অফিসের ছাদে উৎপাদিত কেঁচো কৃষকদের মাঝে বিনা মূল্যে সরবরাহ করায় কৃষকরা কেঁচো কম্পোস্ট উৎপাদনে আগ্রহী হয়েছে এবং সারের গুণগত মান ভাল হওয়ায় সারের ব্যবহারও দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কৃষকের আর্থিক সাশ্রয় হচ্ছে অপর দিকে তাদের ফসলের ফলন ভালো হওয়ায় তারা লাভবান হচ্ছে।