Tuesday, 25 September 2018

 

চড়াদামে নিম্নমানের খাবার খেতে হয় বাকৃবি শিক্ষার্থীদের

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি প্রতিনিধিঃসবজিতে পঁচা আলু। ভাতে দুর্গন্ধ, সঙ্গে পাথরতো, থাকছেই। ভাজা মাছেও দুর্গন্ধ। এগুলো খেয়ে কি আর সুস্থ থাকা যায়? কিন্তু এসব দেখার যেন কেউ নেই। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ‘তৃপ্তি হোটেলে’ খাবার খেতে খেতে কথাগুলো বলছিলেন ভেটেরিনারি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের মোস্তফা কামাল নামের এক শিক্ষার্থী।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, কেবলমাত্র তৃপ্তি হোটেলেই নয় বিশ্ববিদ্যালয় সীমানায় অবস্থিত মদিনা, বিসমিল্লাহ্, ভাই ভাই, মিলন, কিং আজিজ হোটেলের চিত্রও একই রকম। সম্প্রতি একটি হোটেলের কড়াই এর উপর কুকুর শুয়ে থাকতে দেখা গেছে। প্রতিটি হোটেলের রান্নাঘর পাশেই রয়েছে ময়লার ডাস্টবিন। হোটেলে খেতে বসলেই এসব ডাস্টবিন থেকে উৎকট দুর্গন্ধ আসে। এ ধরনের নোংরা পরিবেশে নিম্নমানের খাবার প্রস্তুত ও চড়াদামে বিক্রি হলেও প্রশাসনের কোন নজরদারি চোখেই পড়ে না। অবহেলা ও সুষ্ঠু নজরদারির অভাবে হোটেল মালিক, কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচারিতা দিনদিন বেড়েই চলেছে বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শুধু বাইরের খাবার হোটেলগুলোতে নয়, হলের ডাইনিং ও ক্যান্টিনেও অবস্থাও একই। এদিকে খাবারের মান খারাপ হলেও দাম দিনের পর দিন অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করায় অপুষ্টিসহ নানা রোগে ভুগছেন বলে  জানান শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো হস্তক্ষেপ না থাকায় খাবার দোকান মালিক চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। খাবারের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দ্রব্য-মূল্যের উর্ধ¦গতি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, রাজনৈতিক ছাত্র নেতাদের বাকি খাওয়ার প্রবণতাকেই দায়ী করছেন হোটেল মালিকরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে, ছাত্র নেতাদের হাজার হাজার টাকার বাকির তালিকা দেখান এক হোটেল মালিক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হোটেলগুলোতে নোংরা ও খোলা পরিবেশে খাবার রান্না করা হচ্ছে, খাবারের মানও নিম্নমানের। প্রতিবেলা খাবার খেতে একজন শিক্ষার্থীর খরচ হয় গড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এতে মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা কুলিয়ে উঠতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। শুধু যে চড়াদামে খাবার বিক্রি হয় তা নয়, বরং এর মধ্যে রয়েছে পঁচাবাসি খাবারও। যার উপর মশা-মাছি বসতে দেখা গেছে। অন্যদিকে রান্না করা খাবারের মধ্যে ইট-পাথরের টুকরা, লোহার টুকরা, মাছি, চুল তেলাপোকাসহ বিভিন্ন পোকামাকড় পাওয়ার ঘটনা স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খাবারের মান নিয়ে কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাজবীর রহমান বলেন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হয়েও আমরা নিজেরা খেতে পারি না। তিনি বলেন খাবারের মান দিনকে দিনকে খারাপ হতে হতে এখন জঘন্য পর্যায়ে চলে গেছে। আগে কম দামে মানসম্মত খাবার খেতে পারতাম। কিন্তু এখন চড়াদাম দিয়ে নিম্নমানের পঁচা-বাসি খাবার খেতে হয়। এদিকে কর্তৃপক্ষের দেয়া খাবারের নির্দিষ্ট দামের তালিকাও মানছে না খাবার হোটেল মালিকরা। ইচ্ছেমতো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করছেন চড়াদাম। কোনো দোকানদারই মূল্য তালিকা মানছেন না। দোকানগুলোতে প্রশাসন কর্তৃক টানানো খাবারের দামের তালিকাও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। দামের তালিকা দেখতে চাইলে কেউই দেখাতে পারেননি। খাবারের বাড়তি দাম সম্পর্কে এক হোটেল মালিক বলেন, দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধির কারণে বেশি দাম রাখা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক দোকানদার বলেন, ‘কি কমু মামা, নেতারা যে হারে বাকি খায়। আমরা তো ব্যবসায়ী, লোকসান দিলে চলবো ক্যামনে, তাই ছাত্রদের কাছ থেকে একটু বাড়তি দাম নেই।’

এ বিষয়ে বাকৃবির ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সচ্চিদানন্দ দাস চৌধুরী বলেন, ‘খাবারের মান এবং মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একাধিকবার অভিযোগ শুনেছি। আমরা দ্রুতই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবো।