Sunday, 21 January 2018

 

বাকৃবির ছাত্রী হলে সাপ আতঙ্ক!

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি:বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রীদের চারটি হলে বেশ কিছু দিন ধরেই হলগুলোতে সাপ আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাপগুলো হলের বারান্দা, বিছানা, লকার, ছাদের উপর ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও সাপে কাটার অভিযোগও আছে গত কয়েক বছর ধরেই। ছাত্রীদের হলগুলো ব্রহ্মপুত্র নদের পাড় সংলগ্ন হওয়ায় ড্রেন দিয়ে সাপগুলো হলের ভিতর ঢুকতে পারছে বলে অভিযোগ স্বীকারও করেছেন হল প্রশাসনের প্রভোষ্ট ও কর্মচারীরা। ছাত্রীরা বলছেন, কর্মচারীদের গাফিলতির কারণে হল সীমানায় অবস্থিত ঝোপঝাড় ও নোংরা আবর্জনা পরিষ্কার না করার সাপের উপদ্রব হয়েছে। অন্যদিকে কর্মচারীরা বলছেন, হলে কর্মচারী সংকট ও পর্যাপ্ত লোকবল না থাকার কারণে তারা চাইলেও ছাত্রীদের ঠিকমত সেবা দিতে পারছেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব হলের আবাসিক ছাত্রী মোহনা আহসান ফেসবুকে লেখেন,‘‘সাপের কামড়ে বাকৃবির মেধাবী ছাত্রীর মৃত্যু-কিছুদিন পর এটিই হবে বাকৃবির একটি আলোচিত বিষয়। কারণ যেভাবে হলগুলোতে সাপের উপদ্রব বাড়ছে তাতে এটি ঘটতে খুব বেশি সময় লাগবেনা। আজ ঘুমও ভেঙেছে সাপের মুখ দেখেই। আমারই এক সহপাঠী সকালে ঘুম থেকে জেগে ভেবেছিল সকালের সৌন্দর্য তা উপভোগ করবে। তাকাতে চেয়েছিল জানালার দিকে কিন্তু চোখ তাকে তাকাতে দেয়নি জানালার দিকে। সাপ তার আগেই চোখকে আকর্ষিত করে নিয়েছে তার দিকে। চোখ মেলেই দেখে সাপ তার লেপের উপরে। তিনি আরো বলেন, সাপ যে শুধু বিছানা বা লেপে থাকে তা নই, সাপ থাকে লকারে, করিডোরে, জানালায়, সিড়িতে এমনকি খাবার পানির ট্যাঙ্কির কাছেও। হল প্রশাসনকে অভিযোগ করে তিনি বলেন, কিছুদিন আগের যে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্যেগ নেয়া হয়েছিল এটা কি শুধু লোক দেখানো ছিল। আমরা তো বাস্তবায়নের কোন দৃশ্যই দেখতে পেলাম না। তাহলে কি আমরা এভাবে ঝুঁকি নিয়েই চলব সবসময়। যথার্থ পদক্ষেপ কি কখনই নেয়া হবে না ?’’

একই বিষয়ে বেশ কিছু ছাত্রী  অভিযোগ করে বলেন বলছেন, বারবার অভিযোগ করার পরও প্রশাসন সাপ তাড়াতে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ছাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুলতানা রাজিয়া (আনেক্স) হলের ভেতরের মাঠ ঘাসে ভরে গেছে। হলের বাইরেও ঝোপ-ঝাড়ে ছেয়ে গেছে। হলে বেশ কয়েকজন মালি থাকার পরও নিয়মিত মাঠ পরিষ্কার করা হয় না। হলের বর্জ্যও নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। এতে করে হলের পরিবেশ সব সময় নোংরা থাকলেও গত কয়েক সপ্তাহ থেকে হঠাৎ করে সাপের উপদ্রব বেড়ে  গেছে। ছাত্রীদের আবাসিক সুলতানা রাজিয়া মূল ভবন, শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব হলে, তাপসী রাবেয়া হলেও মাঝেমধ্যেই সাপ দেখা যায়। তারা জানায় গত বছর কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী শাম্মী ও কৃষি অনুষদের মাস্টার্স ছাত্রী মিশুকে সাপে কেটেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক তাপসী রাবেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হলের কক্ষের ভেতরে ও বারান্দায় সাপের আনাগোনা থাকায় নিজের কক্ষেও অনেকটা ভয়ে ভয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। বিষয়টি নিয়ে হল প্রশাসনকে অনেকবার বলার পরও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

ছাত্রী হলে সাপ বের হওয়া প্রসঙ্গে শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব হলের সহকারী রেজিস্ট্রার জান্নাতুল ফেরদৌস  বলেন, হলের পাশ দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের দিকে অনেক জঙ্গল বড় একটি ড্রেন ও থাকায় সাপ সে পথে ঢুকে যাচ্ছে বলেও ধারণা করছেন। তবে সাপ তাড়ানোর জন্য কার্বলিক এসিড, ব্লিচিং পাউডার নিয়মিত ব্যবহারের কারণে বর্তমানে উপদ্রব কিছুটা কমেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।