Tuesday, 22 May 2018

 

২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস

পরিবেশ ডেস্ক: ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস। বাংলাদেশে ২০১০ সাল থেকে প্রতি বছর ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৬ জুলাই প্রকাশিত ক্যামেরা পদ্ধতিতে বাঘ গণনার জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা কমে এখন এখন দাঁড়িয়েছে ১০৯টিতে।

অথচ ২০০৪ সালে বন বিভাগ এনএনডিপির সহায়তায় প্রথম বারের মতো বাঘের পায়ের ছাপ গুণে বাঘের সংখ্যা নির্ধারন করেছিল ৪৪০ টি। দু’বছর পর ২০০৬ সালে ক্যামেরা পদ্ধতিতে বাঘ গণনা করে এর সংখ্যা নির্ধারন করে ২০০টি। গত ১১ বছরে বাঘের সংখ্যা কমতে কমতে অর্ধেকে নেমে এসেছে।

রাশিয়ার সেন্টপিটার্সবার্গ শহরে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্ব বাঘ সম্মেলনে ২০২২ সালের মধ্যে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়। সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা দিন দিন কমেই চলেছে। এই অবস্থার মধ্যে আজ সুন্দরবন সন্নিহিত জেলাগুলোসহ সরকারি ও বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন সভা, সমাবেশ, র‌্যালিসহ নানান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করছে।

বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার টিকে আছে এমন ১৩ টি দেশে বিশ্ব বাঘ দিবস হিসেবে এই দিনটি পালন করা হয়। বাংলাদেশে বাঘের প্রকৃত আবাস বলতে বোঝায় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনকে।

বর্তমানে এ বনের উজানে ফারাক্কা বাঁধের কারনে মিষ্টি পানির প্রবাহ বন্ধ হবার ফলে নদ-নদীর পানিতে লবণের পরিমান বেড়েই চলেছে। সেজন্য বন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে সুন্দরী, গোলপাতাসহ অনেক ধরনের গাছপালা। উষ্ণতা, মানুষের উপস্থিতি, লবণ জলের আধিক্য, বন-জঙ্গল উজাড় হয়ে যাওয়ার কারণে করুণ অবস্থা সুন্দরবনের পাহারাদার বাঘের।

তাপমাত্রা হেরফেরে মৌসুমি বায়ু নির্দিষ্ট সময়ে সক্রিয় হচ্ছে না। সময়ে বৃষ্টি হচ্ছে না পরিমাণ মতো। আবার কখনও কখনও অসময়ে বৃষ্টি হচ্ছে পরিমাণের চেয়ে ঢের বেশি, যার প্রভাবে সুন্দরবনের গাছ মরছে। এছাড়া গঙ্গা অববাহিকার যে মিষ্টি জল গড়াই ধরে সুন্দরবনে ছড়িয়ে পড়ত তা আবশ্যিক সময়ে না পাওয়ায় এ বনের জলে লবণের মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে গিয়ে বিপর্যয় ঘটাচ্ছে বন পরিবেশের সব পর্যায়ে।

যার প্রভাবে বৃক্ষ-তরুলতা, মাছ, জলজ অন্যান্য প্রাণী, কীটপতঙ্গ, পশুপাখি ও সুন্দরবনের পাহারাদার প্রকৃত পাহারাদার রয়েল বেঙ্গল টাইগারের জীবনযাত্রায় অস্বাভাবিক অস্থিরতা এসেছে।   

বাঘ রক্ষায় সরকার ইতিমধ্যে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন সংশোধন করে বাঘসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী হত্যায় সর্বোচ শাস্তি ১২ বছরের কারাদ- ও বন্যপ্রাণীর আক্রমণে মানুষ নিহত হলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা এবং আহত ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা দেয়ার বিধান করেছে।  

বিশেষজ্ঞদের মতে দেশে যে পরিমাণ বাঘই থাকুক না কেন দ্রুত এর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। এর কারণ হিসেবে তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জলবায়ু পরিবর্তনকেই দায়ী করছেন। জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে একদিকে বন ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে ধ্বংস হওয়া এলাকায় নতুন বসতি গড়ে উঠছে।