Saturday, 18 November 2017

 

রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রতিবাদে শেকৃবি’তে মানববন্ধন

মোঃ আব্দুল্লাহ আল জাবের:রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর দেশটির সেনাবাহিনী পরিচালিত গণহত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে একাত্মতা পোষণ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সেকেন্দার আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল হক বেগ এবং বেশ কয়েকজন জৈষ্ঠ শিক্ষক।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। তারা বলেন, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন প্রদেশে দেশটির রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস নির্বিচারে অসহায় মানুষদের নির্যাতন করছে। দেশটির সরকারের এমন বিমাতা সুলভ আচরণে বিশ্ব মানবতা হুমকিতে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা এমন জঘন্য গণহত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান না নেয়ায় অং সান সুচি’র নোবেল শান্তি পদক বাতিল করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখার জন্য নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়। তবে পুরস্কার পেয়েই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। নির্বিচারে গণহত্যার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে নির্বাচনে জেতার লক্ষ্যে তিনি পরোক্ষভাবে এর সমর্থন করছেন। যা খুবই নিন্দনীয়। এমন মানবতাবিরোধী কাজে সমর্থন দেয়ায় তিনি এ পুরস্কারের সম্মান নষ্ট করেছেন।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারে ২০১২ সালে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের চরমপন্থীরা রোহিঙ্গাদের উপর হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিল। হাজার হাজার রোহিঙ্গা তখন বসতভিটা ছেড়ে সমুদ্রে ভাসতে থাকে। ওদিকে বাংলাদেশে ভিড়তে বাধা দেয় বিজিবি। দুই রাষ্ট্রের মাঝখানে দাড়িয়ে কাঁদছে বিপন্ন মানবতা। প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা খুবই মানবেতর পরিবেশে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করে আসছে।

আবার নতুন করে শুরু হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বিভিন্ন গ্রাম থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে সেসব রোহিঙ্গাদের। গত ৯ অক্টোবর রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাসী হামলায় নয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার জবাবে সেনাবাহিনী এই অভিযান শুরু করে। সেই অভিযানে বেসামরিক রোহিঙ্গারা হতাহতের শিকার হচ্ছেন এবং তাদের বাস্তুভিটা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, মিয়ানমার সরকার ‘অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ’ করার কথা বলে রাখাইন রাজ্যের ২৫০০টি ঘরবাড়ি, ৬০০টি দোকান, কয়েক ডজন মসজিদ এবং ৩০টি স্কুল ধ্বংস করে দিয়েছে।