Sunday, 19 November 2017

 

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে 'তোরা সব জয়ধ্বনি কর' নাটক মঞ্চস্থ

বিধান মুখার্জী, গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পি.এইচ.এ ভবনে  মঞ্চস্থ হয় নাগরিক নাট্যাঙ্গন অনসাম্বলের 'তোরা সব জয়ধ্বনি কর' নাটকটি। এটি নির্দেশনা দিয়েছেন আতাউর রহমান। 'তোরা সব জয়ধ্বনি কর' সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা।

একাত্তরে নিরস্ত্র বাঙালি শুধু পরিস্থিতির কারণে কীভাবে বীরসেনাতে পরিণত হয়েছিল, কী করে প্রত্যেক সাধারণ মানুষ জড়িয়ে গিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধে, তা সরল ভাষ্যে একটি চমৎকার ঘটনার মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলেন সৈয়দ শামসুল হক আর আতাউর রহমান।

বাঙালিরা তখনো যুদ্ধের কিছুই জানত না। তারা কখনো যুদ্ধ করেনি, যুদ্ধ দেখেনি, যুদ্ধের কোনো অভিজ্ঞতা নেই, পূর্বপ্রস্তুতি নেই। কিন্তু তারপরও নিজেদের সম্ভ্রমহানি দেখতে দেখতে সবচেয়ে নিরীহ মানুষটিও গর্জে ওঠে, প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। বীর বেশে প্রবেশ করেন রণক্ষেত্রে। চাপের মুখে মানুষের সম্ভ্রমে মানুষের ভেতরের অসাধারণত্ব বেরিয়ে আসে।

সাধারণ একজন মানুষ নজরুলকে কবি কাজী নজরুল ইসলাম ভেবে পাকিস্তানিরা তার ওপর যে অকথ্য অত্যাচার করে, তা ধারণাতীত। অথচ মানুষটি মোটেও যুদ্ধ কিংবা অস্ত্রের সঙ্গে পরিচিত নয়। সে স্ত্রী, সন্তান আর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বলেই ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ভয়ে তাদের গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছিল। সুযোগ বুঝে সেও সেখানেই যাচ্ছিল। আর তখনই পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। তাকে পাকিস্তানিরা চিহ্নিত করে বিদ্রোহী কবি নজরুল হিসেবে। কিন্তু নজরুল জানে, সে কবি কাজী নজরুল নয়। কোথাও বিরাট ভুল হয়ে গেছে সেনাবাহিনীর। সে তো কবিতা লিখতেই জানেন না! কীভাবে সে 'বিদ্রোহী' কবিতার লেখকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে? নজরুল যে যুদ্ধ করছে, এ যুদ্ধ প্রত্যেক বাঙালির। যার ভাবনায় এত দিন সংসার, সন্তান, একান্ত ব্যক্তিগত জগতের বাইরে কিছুই ছিল না, সেও বুক চিতিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সামনে বজ্রকণ্ঠে বলে ওঠে 'জয় বাংলা'।

মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা, অনিশ্চয়তা। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া মানুষের গল্পও উঠে আসে কাহিনিতে। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন চঞ্চল সৈকত, আবদুল্লাহ আল মামুন, মৌ, সাইদুর রাহমান, শেফালী পারভীন, আবদুল আজিজ প্রমুখ।

নাটকটির দর্শক সারিতে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী।