Tuesday, 19 September 2017

 

রাবিতে ‘ইতিহাস চর্চায় বাচনিক উপকরণ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:“বাচনিক ইতিহাস হল মূলত: স্মতির উপর নির্ভর করে রচিত ইতিহাস। ইতিহাস চর্চার এই ধারায় প্রাথমিক, দ্বৈতীয়িক ও তৃতীয় মাত্রার নানাবিধ সূত্র নিশ্চয়ই ব্যবহার করা হয়, তবে স্মৃতি থেকে আহরিত উপাদান ইতিহাস পুনর্গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে কাজ করে। মুখনিঃসৃত স্মৃতিকথার উপর প্রধানত নির্ভরশীল বলে এই ধারার ইতিহাস চর্চার নাম বাচনিক ইতিহাস; ইংরেজিতে Oral History।

মানুষের স্মৃতি হচ্ছে জীবন্ত ইতিহাস। জীবনের স্মৃতিগুলোকে মানুষ গল্পে রূপান্তর করে। বাচনিক ইতিহাস এই গল্পগুলোকে প্রত্যবেক্ষণ করে এবং যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তার মধ্য থেকে ইতিহাসের উপাত্ত খুঁজে নেয়। বাচনিক ইতিহাস হল বেঁচে থাকা মানুষের নিজস্ব অভিজ্ঞতার সাক্ষ্যসমূহের একটি সুসংবদ্ধ সংগ্রহ।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর মেজবাহ কামাল একথাগুলো বলেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ (আইবিএস) আয়োজিত ‘ইতিহাস  চর্চায় বাচনিক উপকরণ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রফেসর মেজবাহ কামাল তাঁর ‘বাচনিক ইতিহাস: প্রাথমিক ধারণাপত্র’ এই মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএস কনফারেন্স হলে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

আইবিএস পরিচালক প্রফেসর স্বরোচিষ সরকার এতে সভাপতিত্বে দিনব্যাপী এই সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন সম্মেলন কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. নাজিমুল হক।

প্রফেসর মেজবাহ কামাল তাঁর প্রবন্ধে আরো বলেন, ইতিহাস লেখার প্রচলিত পদ্ধতিকে বাচনিক ইতিহাস চ্যালেঞ্জ করেছে। বিংশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত ইতিহাস চর্চা ছিল সমাজের শাসক ও অভিজাত শ্রেণিকেন্দ্রিক ইতিহাস গবেষণা। বাচনিক ইতিহাস ইতিহাস গবেষণাকে শুধুমাত্র পেশাজীবী, একাডেমিক ও পেশাভিত্তিক গবেষকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নানা মাত্রায় ছড়িয়ে দিয়েছে। বাচনিক ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হল এটিতে ইতিহাসের অন্তরালের মানুষের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় প্রভৃতির অভিজ্ঞতাসমূহ লিপিবদ্ধ করা হয়। বিভিন্ন উৎসসমূহে অনুপস্থিত অভিজ্ঞতাসমূহকে যেমন গৃহস্থালির কর্মকা-, পারিবারিক জীবন ইত্যাদিকে বাচনিক ইতিহাস-গবেষণায় লিপিবদ্ধ করা হয়। বাচনিক উৎসেরভিত্তিতে ইতিহাস প্রণয়ন এখন পৃথিবীময় গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে এবং ইতিহাস রচনায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

আইবিএস-এর এমফিল ফেলো সুমাইয়া চৌধুরী সুমী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

সম্মেলনের পাঁচটি অধিবেশনে ৩৯টি প্রবন্ধ উপস্থাপিত হবে বলে কর্মসূচিতে নির্ধারিত আছে। এই সম্মেলনে দেশবিদেশ থেকে শতাধিক ইতিহাসবিদ, শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।