বাকৃবিতে হোটেলের কড়াইয়ের উপর শুয়ে কুকুর : ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা
Friday, 22 September 2017

 

বাকৃবিতে হোটেলের কড়াইয়ের উপর শুয়ে কুকুর : ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি প্রতিনিধি:বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি খাবার হোটেলে কড়াইয়ের উপর কুকুরকে শুয়ে থাকতে দেখা গেছে। গত মঙ্গলবার রাতে ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জব্বারের মোড়স্থ ভাই ভাই হোটেলে লক্ষ্য করা গেছে। ছবিটি দেখে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এছাড়াও ওই হোটেলে বুধবার দুপুরে খাবার খাওয়ার সময় ডালের ভিতর তেলোপোকা  পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন শহীদ নাজমুল আহ্সান হলের দুরন্ত নামের এক শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলেন, আঁইশসহ মাছ রান্না, তেল ছাড়া শাক-সবজি ভাজি করা এবং তরকারির মধ্যে অনেক সময় ভাতের মাড়  ও আলু দিয়ে ঝোল গাঢ় করা হয়। ‘বাড়ির বাইরে বাবা-মাকে ছেড়ে হলে থেকে কষ্ট করে পড়াশুনা করার পরও আমরা কোন পুষ্টিকর খাবার খেতে পারি না, এটা আমাদের জন্য খুবই হতাশাজনক।’ এ ব্যাপারে  হোটেলগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সার্বক্ষণিক নজরদারি কামনা করেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ্ কেয়ার সেন্টারের চীফ মেডিকেল অফিসার ডা. ফয়েজ আহমদ বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি । জব্বারের মোড়ের হোটেলগুলোতে একই তেল বার বার ব্যবহার করা হচ্ছে। এ খাবার শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত নয়। তিনি বলেন, হেলথ কেয়ারে প্রতিদিনই পেট খারাপ, এসিডিটি, ডাইরিয়ার প্রচুর রোগী ভিড় করছে। হোটেল গুলোর নোংরা পরিবেশ আর অস্বাস্থ্যকর কালো তেল ব্যবহারের কারণেই রোগগুলো হচ্ছে। এ ধরণের খাবার নিয়মিত খেলে বড় ধরণের রোগ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে হোটেলের মালিক কাজল গোস্বামী বলেন, ঘটনাটি অনাকাংখিত। প্রতিদিনকার মত আমরা এভাবেই কড়াই তালা দিয়ে বাইরে রেখে যাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজার কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ. কে. এম আজাদ-উদ দৌলা প্রধানের সাথে মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেন নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা সচ্চিদানন্দ দাস চৌধুরী বলেন, বিষয়টি খুবই  দুঃখজনক। কিছুদিন আগেও হোটেলগুলোতে অভিযান চালিয়ে সতর্ক করেছিলাম। আমরা সরাসরি কোন শাস্তি দিতে পারবো না। তবে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডাডর্স এ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিউটের (বিএসটিআই) মাজিস্ট্রের মাধ্যমে তাদেরকে জরিমানা ও শাস্তির আওয়াতাই আনা হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। সে সময় হোটেল গুলোতে বহুদিনের পুরোনো তেল, বাসি খাবার, নোংরা পানি ও অপরিছন্ন পরিবেশে রান্না করতে দেখা যায়। এছাড়া অতিরিক্ত দাম রাখা হচ্ছিল বিভিন্ন খাদ্যের। এ সময় সকল হোটেল মালিকদের খাদ্যের মান উন্নয়ন করতে ও নিয়ন্ত্রিত মূল্য রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।