Friday, 20 April 2018

 

শহীদ নাজমুল আহ্সানকে উৎসর্গ করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি প্রতিনিধি:স্বাধীনতা পুরস্কার (মরণোত্তর) প্রাপ্ত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শহীদ নাজমুল আহ্সানকে উৎসর্গ করে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলানায়তনে এটির আয়োজন করা হয়।

জানা গেছে, ‘চেতনার তুলি দিয়ে কালের বেদিমূলে এঁকে যাই চিহ্ন, ‘পদচিহ্ন’ প্রতিবাদ্যকে সামনে রেখে ১৯৯৮ সালের ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) পথচলা শুরু হয় পদচিহ্নে নামের সাংস্কৃতিক সংগঠনের। কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের এক ঝাঁক সৃষ্টিশীল শিক্ষার্থীর হাত ধরে কালের বেদিমূলে পদচিহ্ন অঙ্কনের কাজটি শুরু করেছিলেন ওই অনুষদের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম।

শুরুর দিকে তারা একটি দেয়াল পত্রিকার আয়োজন করেছিলেন। যেটির নাম ছিল পদচিহ্ন। হাঁটি হাঁটি পায়ে সংগঠনটি ১৮তম বর্ষে পা দিয়েছে। প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলানায়তনে বড় পরিসরে সংগঠটির সদ্যসরা পরিবেশন করে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘যদি’। ২০০১ সাল থেকে চালু হয় এটি। এরই ধারাবাহিকতায় এ উপলক্ষে মঞ্চস্থ হয় যদি-১৮ তম পর্ব।  

দেশীয় সংস্কৃতির আবেদনকে বুকে ধারণ করে সুষ্ঠু, অসাম্প্রদায়িক, সুন্দর, পরিচ্ছন্ন সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে ইতিমধ্যে সংগঠনটি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের মাঝে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। সংগঠনটির বছরের সবচেয়ে বড় আয়োজন এটি। আবৃত্তি, কৌতুক, পুঁথি পাঠ, পুতুল নাচ, বাংলা সিনেমা, সেডো নৃত্য, ক্লাসিক নৃত্য, ক্রাইম ফিকশন, মুখাভিনয়, কোরিওগ্রাফি, গান, রম্য-নাটক সব মিলিয়ে যেন একটি পরিপূর্ণ বিনোদনমূলক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘যদি’। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বদ্যিালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর, ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সচ্চিদানন্দ দাস চৌধুরী, প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম জাকির হোসেন,  বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক ড. মো. মাহমুদুল হাসান শিকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. রোকনুজ্জামান প্রমুখ।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছর অনেক সংগঠন সৃষ্টি হচ্ছে। আবার অনেক সংগঠন হারিয়েও যাচ্ছে। তারপরও পদচিহ্ন আজ রয়ে গেছে। পদচিহ্ন শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের হয়ে কাজ করছে। সম্মিলিত জোটের অন্তভূক্তির জন্য আব্দুস সালাম রিপনের ভূমিকা স্বচিত্রে স্বীকার করলেন। তিনি বিশ্বাস করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যতদিন শিক্ষার্থীদের পদচারণা থাকবে, ততদিন রবে পদচিহ্ন।