Tuesday, 12 December 2017

 

মতাদর্শ ও কার্যালয় নিয়ে দ্বন্দে বাকৃবি শাখা ছাত্রফ্রন্ট

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি প্রতিনিধি:কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজনীতি করেছেন দীর্ঘদিন। লড়াই সংগ্রাম করেছেন শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে শ্লোগান দিয়েছে এক সাথে। একই পার্টি অফিসে বসে পরামর্শ করেছেন সংগঠনের ভবিষ্যৎ নিয়ে ন্যায্য অধিকার আদায়ের কর্মপ্রন্থা নিয়ে। যে মতাদর্শ তাঁদের এক সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। সেই মতাদর্শের কারণেই আজ দ্বন্দ। এখন একজন আরেক জনের চক্ষুশূল। মুখ দেখতে পারে না এক পক্ষ আর এক পক্ষকে।

এতক্ষণ কথা হচ্ছিল ছাত্রফ্রন্ট বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা নিয়ে। তাঁরা এখন দুই পক্ষ। এক অংশের নাম বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মাক্সবাদী)। এই অংশের সভাপতি রাফিকুজ্জামান। আর এক অংশের নাম বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (খালেকুজ্জামান)। এ অংশের সভাপতি সৌরভ দাস। ক্যাম্পাসের একই নামের এই দুটি সংগঠন হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দাবি আদায়ে তারা এক থেকে আন্দোলন করতেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। কার্যালয় দখল নিয়ে কয়েক দফায় দফায় হাতাহাতি, মারামারি ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত পাঁচ জন আহত হয়েছে। এখন কার্যালয়ের সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্যমতে ছাত্রফ্রন্ট সৌরভের অংশের সদস্য শুক্রবার সকালে নাস্তা করতে জব্বারে মোড়ে যায়। এসময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ফরিদের অংশের নেতাকর্মীরা খাবার হোটেল, চায়ের দোকান থেকে সৌরভের নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে ব্যাপক মারধোর করে প্রক্টরের কাছে সোপর্দ করে। পাশাপাশি সৌরভের অংশকে সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করে বিচারের দাবী জানিয়ে প্রক্টর বরারর আবেদন জনিয়েছে।

রাফিকুজ্জামান ফরিদের দাবি, কার্যালয় দখল করতে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে হামলা চালিয়ে কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেয়। এসময় তার পক্ষের কয়েকজনকে মারধোর এবং লাঞ্চিত করে বলে অভিযোগ করেন। শুক্রবার সকালে তারা পুনরায় আবার আমাদের উপর হামলা করলে আমরা তিন জনকে ধরে প্রক্টরের কাছে সোর্পদ করি। এ হামলার জন্য বাসদ (খালেকুজ্জামান) এর সভাপতি সৌরভ দাস দায়ী।

সৌরভ বলেন, আমরা নেতা-কর্মীদের নিয়ে আঞ্চলিক সভা করতে কার্যালয়ে যাই। সেখানে আগে থেকেই অবস্থানকারী মার্ক্সবাদী নেতা-কর্মীরা বাঁধা দেন এবং দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। বেলা একটার দিকে মূলধারার নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেওয়ার পর ধারাবাহিকভাবে দুই পক্ষের মধ্যে গ-গোল চলতে থাকে। তারা অন্যায়ভাবে আমাদেও কার্যালয় দখল করে রেখেছে এবং আমার নেতাকর্মীদের মারধোর করছে।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক. ড একেএম জাকির হোসেন বলেন, আমরা বিষয়টা দেখছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সকল শিক্ষার্থী ঘটনার সাথে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য চার বছর আগে বিভাজনের সময় একটি পক্ষ মার্ক্সবাদী এবং অপরটি বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) অঙ্গসংগঠন হিসেবে নিজেদের প্রকাশ করছেন। ২০১৩ সালে বিভক্তির পর থেকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রফ্রন্টের কার্যালয় থেকে মূলধারার নেতা-কর্মীদের বের করে দেন মার্ক্সবাদীরা। চার বছর ধরে মার্ক্সবাদীরাই কার্যালয়টি ব্যবহার করছে।