Thursday, 14 December 2017

 

বাকৃবি ছাত্র ফ্রন্ট কার্যালয় পাহাড়া দিচ্ছে পুলিশ

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি প্রতিনিধি:রবিবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট শাখা কার্যালয় পুলিশ পাহাড়া দিতে দেখা গেছে। প্রায় অর্ধশতাধিক পুলিশ কার্যালয় ঘিরে পাহাড়া দেয়। দু'দিন দফায় দফায় সংঘর্ষের পর শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে ফের কার্যালয় দখল নেওয়ার সময় বাসদ মার্কসবাদী ও বাসদ (খালেকজ্জামান) দু সংগঠনের মধ্যে মারামারিতে লিপ্ত হলে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তাদেরকে লাঠিচার্জ করে আলাদা করে দেয়।

এর পরপরই বড় ধরনের দূর্ঘটনা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুক্রবার রাতে শাখা কার্যালয় সিলগালা করে দেয়। এরপর থেকে পুলিশ সদস্যদের কার্যালয় অফিস সার্বক্ষণিক পাহাড়া দিতে দেখা যায়। কতদিন যাবৎ পাহারা দিবেন এ প্রশ্নের উত্তরে বাকৃবি পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহীম খলিল কালের কন্ঠকে বলেন, যে কোন মুহুর্তে আবারও মরামারি কিংবা দু সংগঠনের সংঘর্ষ হতে পারে। এমন আশাঙ্কার কথা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানালে আমরা পাহারা দেওয়া শুরু করি। প্রশাসন হুকুম দিলে আমরা পুনরায় ক্যাম্পে ফিরে যাবো।

জানা গেছে, মতাদর্শগত কারণে ২০১৩ সালের ১২ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে সারা দেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট দু ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। বিভাজনের সময় একটি পক্ষ বাসদ মার্কসবাদী  ছাত্র সংগঠন বাসমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এবং অপরটি বাসদ (খালেকুজ্জামান) সমাজতান্ত্রিক দল নামে দুটি ছাত্র সংগঠন হিসেবে নিজেদের প্রকাশ করেন। ২০১৩ সালে বিভক্তির পর বাকৃবি ছাত্রফ্রন্টের কার্যালয় থেকে বাসদের (খালেকুজ্জামান) নেতা-কর্মীদের বের করে দেন মার্ক্সবাদীরা। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিভক্তির পর থেকে গত চার বছর বাকৃবি ছাত্র ফ্রন্টের কার্যালয় মার্ক্সবাদীরা ব্যবহার করে আসছিল। ১৮ এপ্রিল বাসদ (খালেকুজ্জামান) অনুসারী বাকৃবি ছাত্র ফ্রন্টের ১৫ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠিত হয়। নতুন কমিটি গঠনের পরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় কার্যালয় দখলের ব্যাপারে উৎসাহিত হয়ে উঠে তারা। বর্তমানে মার্কসবাদীদের রাফিকুজ্জামান ফরিদ ও বাসদ (খালেকুজ্জামান) এর অনুসারীদের সভাপতি সৌরভ দাস সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

রাফিকুজ্জামান ফরিদ বলেন, কার্যালয় দখল করতে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে হামলা চালিয়ে গত বৃহস্পতিবার কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেয়। এসময় তার পক্ষের কয়েকজনকে মারধোর এবং লাঞ্চিত করে। গত শুক্রবার সকালে তারা পুনরায় আবার আমাদের উপর হামলা করলে আমরা তিন জনকে ধরে প্রক্টরের কাছে সোর্পদ করি। এ হামলার জন্য বাসদ (খালেকুজ্জামান) এর সভাপতি সৌরভ দাস দায়ী। তবে প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্যমতে, ছাত্র ফ্রন্ট সৌরভের অংশের সদস্যরা শুক্রবার সকালে নাস্তা করতে জব্বারে মোড়ে যায়। এসময় ফরিদের অংশের নেতাকর্মীরা খাবার হোটেল, চায়ের দোকান থেকে সৌরভের নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে মারধর করে প্রক্টরের কাছে সপোর্দ করে।

অভিযোগের বিষয়ে সৌরভ বলেন, আমরা নেতা-কর্মীদের নিয়ে আঞ্চলিক সভা করতে কার্যালয়ে যাই। সেখানে আগে থেকেই অবস্থানকারী মার্ক্সবাদী নেতা-কর্মীরা বাঁধা দেন এবং দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। তালা লাগিয়ে দেওয়ার পর ধারাবাহিকভাবে দুই পক্ষের মধ্যে গ-গোল চলতে থাকে। তারা অন্যায়ভাবে আমাদের কার্যালয় দখল করে রেখেছে এবং আমার নেতাকর্মীদের মারধোর করছে। বহিরাগতদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনার সময় বহিরাগত কেউ ছিল না। ময়মনসিংহ বিভাগের সম্মেলন উপলক্ষে নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে এসে তাঁদের হামলার শিকার হয়েছে।

মার্কসবাদীদের সংবাদ সম্মেলনঃ ছাত্র ফ্রন্টের কার্যালয় খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্র ফ্রন্টের (মার্কসবাদী) নেতাকর্মীরা। সেই সাথে কার্যালয়ে হামলাকারী ছাত্র ফ্রন্ট (বাসদ) নেতাকর্মীদের  গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। গত শনিবার বাকৃবি সাংবাদিক সমিতিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এই দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, সামাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্কসবাদী) সহ সভাপতি জুনায়েদ হাসান।

লিখিত বক্তব্যে তারা দাবি করেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (বাসদ) বহিরাগত ১০-১৫ জন সন্ত্রাসী নিয়ে কার্যালয় দখল করতে ছাত্র ফ্রন্ট (মার্কসবাদী) নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায়। এতে সাধারণ সম্পাদক গৌতমকর ইশান, সাবেক সাধারন সম্পাদক বিপ্লব চৌধুরী, সভাপতি রাফিকুজ্জামানসহ অন্তত ১০-১২ জন আহত হয়। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সভাপতি স্নেহাদ্রি চক্রবর্তী রিন্টু, সদস্য সেজুতি চৌধুরী, বাকৃবি শাখার সভাপতি রাফিকুজ্জামান, সাবেক সভাপতি আশরাফ মিল্টন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রেমানন্দ দাস, দফতর সম্পাদক মাগফুরা জেরিন প্রমূখ।

মামলাঃ এ ঘনায় মাক্সবাদীদের সাধারণ সম্পাদক গৌতম কর ঈশান বাদী হয়ে  বাসদ (খালেকুজ্জামান) অনুসারী ছাত্র সংগঠনের ২১ জনের নাম উল্লেখ করে কোতায়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। এদিকে বাসদ খালেকুজ্জামান অনুসারীরা মাক্সবাদীদের হামলার ঘটনায় সভাপতি সৌরভ দাস বাদী হয়ে  ১৭ জনের নাম উল্লেখপূর্বক ও ৫ জন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে মামলা করেন। ময়মনসিংহ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা মো. কামরুল ইসলাম মামলার ঘটনার বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যপক ড. এ কে এম জাকির হোসেন বলেন, আমরা সমঝোতার চেষ্টা করলেও তা তারা না মেনে পুনরায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিশৃংখলা সৃষ্টির জন্য জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। আগামী ৪ মে তাঁর দেশে ফিরার কথা রয়েছে। তিনি ক্যাম্পাসে ফিরলে কার্যালয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিবেন।