Tuesday, 12 December 2017

 

নোবিপ্রবি মৎস্য ও সামুদ্রিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদেরপরীক্ষা বর্জন

কামরুল হাসান শাকিম, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি:এক সহপাঠীকে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের সুযোগ না দেয়ায় পরীক্ষা বর্জন করেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) মৎস্য ও সামুদ্রিক বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। রবিবার পরীক্ষা বর্জন করে পরীক্ষার বাইরে রাখা সহপাঠীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ার দাবি জানিয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচী পালন করেন শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, উক্ত শিক্ষাবর্ষের ২য় বর্ষের ১ম সেমিস্টার পরীক্ষা চলাকালীন আশরাফুল তালহা নামের এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ এনে তৎকালীন দায়িত্বে থাকা পরীক্ষক বহিষ্কার করেন।

তবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী এ বিষয়ে জানান, পরীক্ষার দিনে সকালে শহর থেকে বাস ক্যাম্পাসে দেরীতে পৌঁছানোর কারনে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে নিজের ফাইল থেকে আগের পরীক্ষার প্রশপত্রটি সরাতে ভুলে যান এবং সেই প্রশ্নপত্রে আগের পরীক্ষার কয়েকটি সূত্র লেখা ছিল। পরবর্তীতে পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষক বিষয়টি নজরে এনে তাৎক্ষণিক তাঁকে শুধুমাত্র উক্ত বিষয়ের পরীক্ষায় বহিষ্কার করেন। তিনি আরো জানান, পরীক্ষক তাঁকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন যে শুধুমাত্র উক্ত বিষয়ের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে এবং পরবর্তী পরীক্ষা গুলো দিতে পারবেন।

তবে এ ব্যাপারে উক্ত পরীক্ষকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

পরবর্তী উক্ত শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট সকল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং সেই পরীক্ষায় ব্যাকলগ এসে তাঁর রেজাল্ট প্রকাশিত হয়।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আরো জানান, ২য় বর্ষের ২য় সেমিস্টারে তিনি নিয়মিত ক্লাস করেন এবং পরীক্ষার প্রবেশ পত্র উত্তোলন করার পর তিনি জানতে পারেন তাঁকে শাস্তি হিসেবে এক সেমিস্টার বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের সহপাঠীরা জানান, "যেহেতু তাঁকে শাস্তি হিসেবে শুধুমাত্র এক পরীক্ষায় বহিষ্কার করা হয়েছিল সেহেতু তাঁকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ার জন্য আমরা সকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানাই এবং আমরা ৫৬ জনের সবাই শান্তিপূর্ণ ভাবে পরীক্ষা বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি।" তাছাড়া তাঁরা এ ব্যাপারে মাননীয় উপাচার্যের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং মাননীয় উপাচার্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেন যাতে বিষয়টি দ্রুত সমাধান হয়।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সদস্য এবং মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আবুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে তারা ভুল করেছে। তাৎক্ষণিক ভাবে আমরা কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারিনা এটা একাডেমিক কাউন্সিল তারপর শৃঙ্খলা বোর্ডের ব্যাপার। মাননীয় ভিসি স্যার দেশের বাইরে আছেন ওনি আসার পর এ ব্যাপারে একাডেমীক কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব মাহবুব ফরহাদ বলেন, আমরা অনেক বুঝিয়েছি কিন্তু তারা পরীক্ষা না দিয়ে ভুল করেছে।যেহেতু বিষয়টি শৃঙ্খলা বোর্ড দেখছে সেজন্য এর সাথে ডিপার্টমেন্টের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছয়মাসের বহিষ্কার থাকায় কোন সেমিস্টার উত্তীর্ণ না হয়ে পরবর্তী সেমিস্টার দেয়া যাবেনা।আর যেহেতু প্রতি ব্যাচ এক বছর পরপর শুরু হয় সেজন্য ছয়মাস হলেও প্রকৃতপক্ষে এক বছর ক্ষতি হয়ে যায়।

বহিষ্কার হবার পরেও কেনো রেজাল্ট প্রকাশিত হয়েছে সে ব্যাপারে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, শাস্তির প্রক্রিয়াটি একটু দীর্ঘ হওয়ায় এর আগেই রেজাল্ট প্রকাশিত হয়ে যায় তবে কাগজপত্র চলে আসার পরেই তাৎক্ষণিক তার রেজাল্ট বাতিল করা হয় এবং এই সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার নোটিশ দেয়া হয়।