Friday, 15 December 2017

 

বাকৃবি সড়কের অবস্থা বেহাল

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি প্রতিনিধি:বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) জব্বারের মোড় থেকে শেষ মোড় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা বেহাল। সর্বত্র খানাখন্দে ভরা। বৃষ্টি হলেই জমে পানি, সৃষ্টি হয় কাদা। মাত্র পাঁচ মিনিটের এ রাস্তা পার হতে পথচারীদের নাভিশ্বাস ওঠে যায়। এ সড়কে ঢুকতেই ডানপাশে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো তিনটি হল।

 

এগুলো হচ্ছে, সোহরাওয়ার্দী, ফজলুল হক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হল। হলে যাওয়ার দুপাশের রাস্তার অবস্থাও শোচনীয়। ওদিকে জব্বারের মোড় থেকে পশ্চিমে কৃষি জাদুঘর, পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের যাওয়ার রাস্তার অবস্থাও ভয়াবহ। এ সড়কগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থী, এলাকার মানুষজনের পদচারণা। কিন্তু অতি প্রয়োজনীয় এ সড়ক সংস্কারে কর্তৃপক্ষের কোনোই মাথাব্যথা নেই বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

সরেজমিন দেখা গেছে, পুরো সড়কটিই খানাখন্দে ভরা। ভাঙা-ইট আর খসে যাওয়া পিচের অস্তিত্ব টিকে আছে কিছু জায়গায়। কোথাও চলছে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। ভাঙাচোড়া ও কর্দমাক্ত সড়কে চলতে প্রতিনিয়ত অন্তহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। পথচারীরা সারা বছর ভোগান্তি সইলেও সামান্য বৃষ্টিতে তাদের দুর্ভোগের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কথা হয় পথচারী বাসিন্দা রহমত মিয়ার সঙ্গে। তিনি এ রাস্তা দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন। তিনি জানান, রাস্তার বেহাল দশার কারণে শহর থেকে যানবাহন আসতে চায় না। অতিরিক্ত ভাড়া দিতে চাইলেও আসে না বলে অভিযোগ করেন। সড়কের পাশের এক দোকানি  সেলিম অভিযোগ করেন, দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে সড়কের বেহাল অবস্থা। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমে। পানি জমলে রাস্তার ভাঙ্গাচোড়া পানির নিচে থাকে, ফলে যানবাহন চালক কিংবা পথচারীরা সেগুলো দেখতে পান না। সেসময়ই অটোরিক্সা উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটে অহরহ। বর্ষাকাল আসার আগেই এ সড়কটির সংস্কারের জন্য দাবি জানান।  

সড়কের এমন দুর্দশা দেখে কৌশিক নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এ রাস্তা ব্যবহার করে তাকে প্রতিদিন তার আবাসিক হলে যেতে হয়। বর্ষাকাল না থাকলেও এ রাস্তায় খাল খন্দরে পানি জমে থাকে। চলাচলের সময় যানবহনের চাকার ছিটকে আসা ময়লা পানিতে তার জামা কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। তিনি আরও জানান, এ সড়কে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান থাকায় সড়কের ব্যবহার কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ফলে দিন দিন সড়কের অবস্থা খারাপ হচ্ছে। এবছর সংস্কার না  করা হলে সড়কটিতে চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে জানান।

সড়ক ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, হলের রাস্তার অবস্থা খুবই  শোচণীয়। রাস্তার পিচ খসে খসে গেছে। দীর্ঘ দিন থেকেই এ রাস্তার করুণ অবস্থা। বৃষ্টি হলে রাস্তা ডুবে থাকে। চলাচলে ভীষণ কষ্ট হয়। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে কর্তৃপক্ষককে দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের  পূর্তঃ নির্মাণ ও সংরক্ষণ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, “আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীন বেশ কিছু রাস্তার বেহাল দশার কথা জেনেছি, রাস্তা নিয়ে অহরহ অভিযোগ আসছে আমাদের কাছে।  কিন্তু রাস্তা ঠিক করার জন্য আর্থিক বরাদ্দ না থাকার কারণে এগুলো ঠিক করা সম্ভব হচ্ছে না। ”