Thursday, 14 December 2017

 

৬ মাসেও পূর্ণাঙ্গ হয়নি বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি প্রতিনিধি:গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। এক বছর মেয়াদী কমিটির ৬ মাস পূর্ণ হচ্ছে আজ (বুধবার)। কিন্তু অর্ধেক সময় অতিবাহিত হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়ে তেমন কোন উদ্যোগই দেখা যায়নি শাখা ছাত্রলীগে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় হতাশ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পদপ্রত্যাশি ত্যাগী কর্মীরা। তবে খুব শীঘ্রই সদস্য ফরম ছাড়া হবে বলে জানান শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাথে সংঘর্ষের জেরে শাখা ছাত্রলীগ কমিটি ভেঙ্গে দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ওই কমিটিতে মুর্শেদুজ্জামান খান বাবু সভাপতি এবং সাইফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ছিলেন। এরপর থেকেই নতুন কমিটিতে পদ পেতে উঠে পড়ে লাগে গ্রুপিং রাজনীতির স্বীকার অন্যান্য সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ প্রায় ১৫ মাস পর ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর মো. সবুজ কাজীকে সভাপতি ও মিয়া মোহাম্মদ রুবেলকে সাধারণ সম্পাদক করে ৮ সদস্যের কমিটি দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ওই কমিটিতে বাকৃবি থেকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পায় আরো ৪ নেতা। দীর্ঘ সময় পর কমিটি গঠিত হলে পূর্বের কমিটিতে পদ বঞ্চিত ও নির্যাতিত কর্মীরা চাঙ্গা হয়ে ওঠে। কিন্তু বাকৃবি শাখার আংশিক কমিটি গঠনের ৬ মাস হলেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার বিষয়ে কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে সিনিয়র-জুনিয়র অনেক কর্মী।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানায়, এদিকে আবাসিক হলগুলোতে ছাত্রলীগের কোন কমিটি না থাকায় সভাপতি সাধারণ সম্পাদক মনোনিত ব্যক্তি দিয়ে চলছে হল রাজনীতি। সঠিক নেতৃত্বের অভাবে প্রায়ই জুনিয়র কর্মীরা নিজেদের মধ্যে বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে কয়েকবার কেন্দ্র থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ব্যাপারে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সিনিয়র কর্মী বলেন, গত প্রায় দুই বছরে বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগ কমিটিতে পদ পেয়েছে মাত্র ৮ জন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের একক আধিপত্য বজায় রাখতে ৮ জনের ৪ জনকে বিভিন্নভাবে নিস্ক্রিয় বা ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলেও জানান তাঁরা। কয়েকজন জুনিয়র মেধাবী ছাত্রলীগ কর্মীর অভিযোগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাঁদের আখের গুছাতেই ব্যস্ত। ফলে কমিটি গঠনের বিষয়টি পাত্তাই পাচ্ছেনা তাদের কাছে। দীর্ঘদিন পদবঞ্চিত হয়ে অনেক সম্ভাবনাময় সিনিয়র কর্মী রাজনীতি ছেড়ে চাকুরির পিছনে ছুটাছুটি করছেন। পদ পেলে অনেকে বিদ্রোহ করতে পারে এমন শংকাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কমিটি গঠনের বিষয়ে বাকৃবি ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সবুজ কাজী বলেন, খুব শীঘ্রই সদস্য ফরম ছাড়া হবে। পরবর্তীতে সেগুলো যাচাই বাছাই করে যোগ্য কর্মীদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।

পদ পাওয়া ৪ জনের নিস্ক্রিয় থাকার বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল বলেন, কেউ নিস্ক্রিয় অবস্থায় নেই। চাকুরির পড়াশুনা কিংবা অন্যান্য কাজের জন্য হয়তো বা ব্যস্ত আছে। তাছাড়া শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিষয়ে আলোচনা করা হয়নি। তবে ঈদের পূর্বেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, তারা (বাকৃবি ছাত্রলীগ) সিভি সংগ্রহ করছে বলে আমি জানতে পেরেছি। কয়েকদিনের মধ্যেই বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছে।