Monday, 20 November 2017

 

মশা, ছারপোকা ও সাপের সাথে কাটছে হল জীবন

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি প্রতিনিধি►আবাসিক সম্পন্ন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে সর্বমোট ১৩ টি হল। বেশ কিছু দিন ধরেই হলগুলোতে সন্ধ্যার পর থেকে অত্যাধিক মশার উপদ্রব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সেই সাথে যুক্ত হয়েছে সাপ ও রক্তখেকো ছারপোকা।

 

শিক্ষার্থীরা বলছেন, কর্মচারীদের গাফিলতির কারণে হল সীমানায় অবস্থিত ঝোপঝাড় ও নোংরা আবর্জনা পরিষ্কার না করার কারণে মশা, ছারপোকা ও সাপের উপদ্রব হয়েছে। অন্যদিকে কর্মচারীরা বলছেন, হলে কর্মচারী সংকট ও পর্যাপ্ত লোকবল না থাকার কারণে তারা চাইলেও শিক্ষার্থীদের ঠিকমত সেবা দিতে পারছেন না।

সরোজমিনে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে বিকাল থেকেই মশারী টাঙান। ঘটনাটি প্রায় প্রতিটি হলেরই। মশার কামড়ে হলের কৃষি অর্থনীতি অনুষদের রাকিব নামের এক শিক্ষার্থী ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়। ফলশ্রুতিতে সে বেশ কয়েক দিন ক্লাসে উপস্থিত হতে পারে না। ক্লাসে উপস্থিত না থাকায় ক্লাস উপস্থিতির নম্বর সে পাবে না। অর্থাৎ সে নিশ্চিতই খারাপ ফলাফল করবে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, অত্যাধিক মশার উপদ্রবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। সমস্যাটি শুধু রাকিবের একার নয়, ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা আরও অনেক।

এদিকে হলের নিয়মিত কক্ষ ও ফ্লোর পরিষ্কার না করার কারণে বেড়েছে ছারপোকার উপদ্রব। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল, সোহারাওয়ার্দী হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হল ও ঈশা খাঁ হলে ছারপোকার উপদ্রবে শিক্ষার্থীরা রাতে ঠিকমত ঘুমোতে পারছেন না। মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের মেহেদী হাসান নামের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ছারপোকার উপদ্রবে আমার বিছানার গদি, বালিশ ফেলে দিতে হয়। নিজের প্রচেষ্টায় বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেও ছারপোকা উৎপাত কমাতে পারি নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রশাসনকে এ ব্যাপারে জানালেও তাদের এখনও কোন পদক্ষেপ নিতে চোখে পড়েনি। একই সমস্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঈশা খাঁ হলের শিক্ষার্থীদের বিছানা ছেড়ে ফ্লোরিং করে থাকার বিষয়টিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুকে) জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

আবার ছাত্রীদের আবাসিক হলগুলোতে বেশ কয়েক দিন ধরেই বিরাজ করছে সাপের আতঙ্ক । এতে চরম আতঙ্কে রয়েছে ৪টি হলের ছাত্রীরা। এদিকে বারবার অভিযোগ করার পরও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রীরা। হলের আবাসিক ছাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুলতানা রাজিয়া (আনেক্স) হলের ভেতরের মাঠ ঘাসে ভরে গেছে। হলের বাইরেও ঝোপ-ঝাড়ে ছেয়ে গেছে। হলে বেশ কয়েকজন মালি থাকার পরও নিয়মিত মাঠ পরিষ্কার করা হয় না। হলের বর্জ্যও নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। এতে করে হলের পরিবেশ সব সময় নোংরা থাকলেও গত কয়েক সপ্তাহ থেকে হঠাৎ করে সাপের উপদ্রব বেড়ে গেছে। ছাত্রীদের আবাসিক সুলতানা রাজিয়া মূল ভবন, শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব হলে, তাপসী রাবেয়া হলেও মাঝেমধ্যেই সাপ দেখা যায়। গত বছর কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী শাম্মী ও কৃষি অনুষদের মাস্টার্স ছাত্রী মিশুকে সাপে কেটেছিল। এদিকে বিষয়টি প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক তাপসী রাবেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নূরজাহান স্মৃতি বলেন, হলের কক্ষের ভেতরে ও বারান্দায় সাপের আনাগোনা থাকায় নিজের কক্ষেও অনেকটা ভয়ে ভয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। বিষয়টি নিয়ে হল প্রশাসনকে অনেকবার বলার পরও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

ছাত্রী হলে সাপ বের হওয়া প্রসঙ্গে বেগম রাকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ফরিদা ইয়াসমীন বারি বলেন, হলের আনেক্স ভবনটি পুরাতন ও টিনশেডের হওয়ায় সাপ কক্ষের ভেতরেও ঢুকে পড়ছে। হলের পাশ দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের দিকে বড় একটি ড্রেন থাকায় সাপ সে পথে ঢুকে যাচ্ছে বলেও ধারণা করছেন। তবে সাপ তাড়ানোর কার্বলিক এসিড, ব্লিচিং নিয়মিত ব্যবহারের কারণে বর্তমানে উপদ্রব কিছুটা কমেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হেল্থ কেয়ার সেন্টারে আলাদা স্বাস্থ্য প্রতিষেধক শাখা থাকলেও গাফিলতির কারণে এখন পর্যন্ত কোন রকম কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। শিক্ষার্থীরাও বলছেন, মশার কামড়ে বেশ কিছু ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি স্বাস্থ্য প্রতিষেধক শাখাকে জানিয়েও এখন পর্যন্ত কোন কার্যকর পদক্ষেপ তাদের নিতে দেখেননি তাঁরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য প্রতিষেধক শাখা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী মেডিকেল অফিসার ডাঃ মো. শাহাদৎ হোসেনের সাথে মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।