Monday, 20 November 2017

 

শেকৃবির ১৭তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালিত

শেকৃবি প্রতিনিধি:বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। দিনটি উপলক্ষে হাতে নেয়া হয় নানা আয়োজন। অংশ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের বর্তমান ও সাবেক সদস্যারা। সাজ সাজ রব ওঠে ঢাকার বুকে এক টুকরো সবুজ গ্রামে।

সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ। এরপর উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো সংবলিত বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব।

এসময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে নতুন প্রজন্মকে কৃষিতে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বদ্ধপরিকর। দেশের কৃষি উন্নয়নে এ প্রতিষ্ঠানের গ্র্যাজুয়েটগণ যে উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখেছেন এবং আজও রেখে যাচ্ছেন, আজকের দিনে তা খতিয়ে দেখা দরকার। কৃষি উন্নয়নের এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে অগ্রণী নেতৃত্বে ভূমিকা রাখেননি এখানকার পাশ করা কৃষিবিদগণ। রাজনীতি থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে বিচরণ করছেন গ্রাজুয়েটরা। পরিবর্তনশীল জলবায়ু, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতিতে কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে সরকারের কৃষি বান্ধব বহুমূখী কর্মসূচি কাজ করছে এই বিশ্ববিদ্যালয়।

ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমানের পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সেকেন্দার আলী, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল হক বেগসহ প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারি উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে কৃষি অনুষদের সামনে থেকে ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে প্রশাসনিক ভবনে এসে শেষ হয়। বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুনসহ বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।

এর আগে সকাল ৯টা থেকেই আবাসিক হলগুলোর শিক্ষার্থীরা ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে, বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে, ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে একাডেমিক ভবনের সামনে হাজির হতে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ গৌরবের দিনের সাক্ষী হতে অনুষ্ঠানে যোগ দেন সাবেক শিক্ষার্থীরাও। দিনটি বরণ করতে বিশ্ববিদ্যালয় সাজে এক রঙিন সাজে। সর্বত্রই চোখে পড়ে লাল-নীল মরিচ বাতির ঝলক। বিভিন্ন স্থানে টাঙানো হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ব্যানার ও ফেস্টুন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সংগঠন তাদের বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে এ আয়োজনকে আরো বর্ণিল করে তোলে। স্বপ্নসিঁড়ির একঝাক তরুণ রাত জেগে সাজায় পুরো ক্যাম্পাস, শোভাযাত্রায় ফেস্টুন আর বিভিন্ন ভাষার অক্ষর নিয়ে অংশ নেয় শেকৃবি ল্যাংগুয়েজ ক্লাব, রিক্সায় করে জরুরী চিকিৎসা সেবার আয়োজন করে বাঁধন শেকৃবি ইউনিট, শোভাযাত্রার সামনেই নানা সাজে দেখা যায় কিষাণ থিয়েটারের সদস্যদের আর ছবি তোলার দায়িত্ব নেয় শেকৃবি ফটোগ্রাফিক সোসাইটি।
 
সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি।

উল্লেখ্য, অবিভক্ত বাংলার মূখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ১১ ডিসেম্বর ১৯৩৮ সালে "বেঙ্গল কৃষি ইন্সটিটিউট" নামে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম কৃষি শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। যা কালের বিবর্তনে ২০০১ সালের ১৫ জুলাই শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে  রুপান্তরিত হয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গৌরব ১৭ বছরের হলেও, প্রায় ৭৯ বছরের ঐতিহ্য রয়েছে শেকৃবির।