Saturday, 23 September 2017

 

ঈদের ছুটিতে মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাস

কামরুল হাসান শাকিম. নোবিপ্রবি প্রতিনিধি:নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) গত ২৮ আগস্ট থেকে ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। ঈদের ছুটির পরপরই ক্যাম্পাস খালি হতে শুরু করে। আর এরই সুযোগ নিতে থাকে বহিরাগত মাদকাসক্ত ও জুয়াড়িরা। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন নিরিবিলি স্থান ছাড়াও একমাত্র ছাত্র হল, ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হল খোলা থাকায় হয়ে উঠে তাদের নিরাপদ আড্ডার আশ্রম।

তাছাড়া ঈদের ছুটিতে ক্যাম্পাস প্রায় শিক্ষার্থী শূন্য হওয়ায় এই সুযোগে ক্যাম্পাসের পুকুরপার, নতুন তৈরিকৃত বিল্ডিং এবং হলের মধ্যে প্রতিনিয়ত তাদের জমজমাট আড্ডা বসে।হলে অবস্থানরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হিন্দু শিক্ষার্থী বলেন "আমার ক্যাম্পাসে এখন আমিই আতংকের মধ্যে আছি, না জানি কখন মাদকাসক্ত জুয়ারিরা আমার রুমেই হামলা করে"।

হলে দ্বায়িত্বরত আনসার সদস্যের সাথে কথা বলে জানা যায়, “ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের ছত্রছায়ায় হলের ভেতর বহিরাগতরা প্রবেশ করছে। পরিচয় জানতে চাইলে নানা রকম হুমকি-ধামকি দেয়ার কারনে, ভয়ে আমরা  এখন কিছু বলতে সাহস পাইনা”।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে খবর নিয়ে জানা গেছে, ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হলের চিহ্নিত কিছু রুমেই চলে এইসব জুয়া এবং মাদকের আসর। প্রতিদিন প্রায় লক্ষ-লক্ষ টাকার জুয়ার আসর বসে হলে। তাছাড়া ইয়াবা, গাজা, ফেন্সিডিলের মত মাদকতো নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপার।এইসব জুয়া ও মাদকের আসরের ফলে এর আগেও বন্ধের মধ্যে বেশ কয়েকবার হলের বিভিন্ন রুমে তালা ভেঙে চুরি, লুটপাট ছাড়াও হলের লাইট ফ্যান চুরির ঘটনাও ঘটেছে। মাদক ও জুয়া ছাড়াও ক্যাম্পাস খালি থাকার সুযোগে, নানা রকম অনৈতিক কাজও হচ্ছে বলে জেনা গেছে। বহিরাগতরা ঘুরতে আসার সুযোগ নিয়ে এই সব অনৈতিক কাজ করছে।

বন্ধের সময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই সব অনৈতিক কর্মকান্ড সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মুশফিকুর রহমানকে জিজ্ঞাসা করা করা হলে তিনি বলেন, এই ব্যাপারে তিনি অবগত নন। অতি সত্তর ক্যাম্পাসে দ্বায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সাথে কথা বলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিবেন।