Friday, 24 November 2017

 

নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের সাথে এলাকাবাসীর সংঘর্ষ; ক্যাম্পাস এখনো থমথমে

কামরুল হাসান শাকিম. নোবিপ্রবি প্রতিনিধি:গতকাল (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় স্থানীয়দের সাথে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের পর থেকে এখনো ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শহর এলাকার মেসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আসতে না পারায় বেশীরভাগ ডিপার্টমেন্টে ক্লাস অফ রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়মিত বাস চলাচল করলেও শিক্ষার্থীদের তেমন উপস্থিতি চোখে পড়েনি। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের টং দোকানগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর জনাব শফিকুল ইসলাম জানান, "এলাকাবাসীর সাথে সমস্যার দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে । ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে আরো পুলিশ মোতায়েন করা হবে"। শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, রবিবার  (৫নভেম্বর) সন্ধ্যায় কথা কাটাকাটির জের ধরে স্থানীয়রা রুমেল ও তুষারের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই ১১ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এরফান কে পিটিয়ে জখম করে। খবর বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ঠক্করে রুমেলের এবং বাংলাবাজারের তুষারের বাড়ি ভাঙ্গচুর করে।

পরে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অভিমুখে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে দুই ছাত্রীসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বহিরাগতরা ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। পরে ব্যর্থ হয়ে জেড মোড় নামক এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গাড়িতে ভাংচুর চালায়। এসময় গাড়িতে অবস্থানরত প্রীমা এবং চয়ন নামে দুজন ছাত্রী আহত হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে হামলা চালায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যানার ধারালো অস্ত্র দিয়ে ক্ষত বিক্ষত করে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এর আগে  গত ৩ নভেম্বর তুষার নামের এক বহিরাগত কয়েকজন ভর্তিচ্ছুক পরিক্ষার্থীদের র‌্যাগ দিলে এরফান সহ কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রতিবাদ করে। এর জের ধরে আজ রুমেল ও তুষার এর নেতৃত্বে কয়েকজন স্থানীয় এরফান কে পিটিয়ে জখম করে। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম রবিন এবং সাধারণ সম্পাদক সাকিব মোশাররফ ধ্রুব জানান, এলাকাবাসীর সাথে যে সংঘর্ষ হয়েছে সেটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের কথা হয়েছে। সমস্যার দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে এবং কেউ যদি ছাত্রলীগের নামে অপপ্রচার চালায় তাহলে সেটি কঠোর হস্তে দমন করা হবে। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।