Sunday, 22 April 2018

 

বিআইআইটি এবং এআরএফ কর্তৃক টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জনে ফলো-আপ কর্মশালা

ক্যাম্পাস ডেস্ক:বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থ্যট (বিআইআইটি) এবং থাইল্যান্ড ভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এশিয়ান রিসোর্স ফাউন্ডেশন (এআরএফ)-এর যৌথ উদ্যোগে ৫ এপ্রিল ২০১৮ ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জনে ফলো-আপ কর্মশালা’ সংস্থার উত্তরাস্থ কনফারেন্স হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষক, এনজিও প্রতিনিধি, নারী উদ্যোক্তা, আইনজীবি, ধর্মীয় প্রতিনিধিসহ প্রায় ৪৫ জন নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। উক্ত ফলো-আপ কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া ভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এশিয়ান রিসোর্স ফাউ-েশন (এআরএফ) ও এশিয়ান মুসলিম অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (আমান)-এর সেক্রেটারী জেনারেল জনাব এম. আবদুস সবুর।

উদ্বোধনী বক্তব্যে বিআইআইটির নির্বাহী পরিচালক ড. এম আব্দুল আজিজ বলেন, জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় ১৭টি অভিষ্ট ঘোষণা করেছে। এ লক্ষ্যমাত্রাসমূহ অর্জনে আমাদের প্রত্যেকের ভূমিকা আছে। এ দায়িত্ববোধ থেকে সবকটি লক্ষ্যমাত্রায় না পারলেও বিআইআইটি তার গৃহীত কর্মকান্ড দ্বারা শিক্ষা এবং গবেষণায় ভূমিকা রাখতে পারে অনায়াসে। তিনি বলেন, যদি আমরা গভীরভাবে চিন্তা করি তা হলে বুঝতে সক্ষম হবো যে, ইসলামি শরিয়ার উদ্দেশ্যসমূহ জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করতে পারে।

উক্ত কর্মশালায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং সেন্টার ফর ইন্টার-রিলিজিয়াস এন্ড ইন্টার-কালচারাল ডায়লগের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী নূরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাইমুল আহসান খান, পটুয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাসুম, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার প্রফেসর ড. আব্দুর রহমান আনোয়ারী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং এশিয়ান ইউনিভার্সিটির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান, এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ডাইরেক্টর জনাব নজরুল ইসলাম, শান্তা মরিয়ম ইউনিভার্সিটির ডেপুটি কন্ট্রোলার সুইটি সুলতান, এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী অধ্যাপিকা আযিযুন নাহার, আরডেন্ট অ্যাডভারটাইজং-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে জান্নাত, রুপায়ন কুমার বড়ুয়াসহ প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধে এআরএফ-এর সেক্রেটারী জেনারেল জনাব এম. আবদুস সবুর বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে তৃণমূলকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, তাদের বাদ দিয়ে কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না। তাই আমাদেরকে সবার আগে তাদের সমস্যাগুলো শুনতে হবে, কিভাবে সেই সমস্যাগুলোর সমাধান তারা চায় সেটা আমাদের জানতে হবে এবং সেই আলোকে সমস্যাগুলো সমাধানে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জনে আমার সফলতা পেতে পারি। আর এটা করার জন্য আমাদের অবশ্যই বিদ্যমান সকল সুযোগ-সুবিধার ট্রান্সফরমেশন তৃণমূল পর্যন্ত করতে হবে, সুশাসনের ট্রান্সফরমেশন তৃণমূল পর্যন্ত নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে ইউনিয়ন বা বড়জোড় উপজেলা পর্যন্ত তৃণমূলের একটা প্রভাব থাকলেও এর উপর পর্যায়ে তৃণমূলের কোনো প্রভাব নেই। কিন্তু টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিটি কাঠামোতে সুশাসনের রূপান্তর ঘটাতে হবে, তৃণমূলের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং সেন্টার ফর ইন্টার-রিলিজিয়াস এন্ড ইন্টার-কালচারাল ডায়লগের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী নূরুল ইসলাম মূল প্রবন্ধাকারের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে বলেন, গোঁড়া বা মূলে গাঁথুনি শক্ত হতে হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফলতা অর্জনে করতে হলে আমাদের গ্রাম থেকে শুরু করতে হবে কারণ আমারা যারা এখানে আছি তারা আজ যে এ পর্যায়ে তার জন্য আমরা আমাদের পরিবার ও সমাজের কাছে ঋণী। তাদের একান্ত সহযোগীতা ছাড়া আমারা এ পর্যায়ে আসতে পারতাম না। এ বোধ থেকে আমাদের কাজ করতে হবে। তিনি বলেন কোনো ধর্মই অসাধুতাকে প্রশয় দেয় না। কোনো ধর্মই তার অনুসারিদেরকে অন্যায় অপরাধ করতে উৎসাহিত করে না। তাই তিনি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সমাজে সৎ মানুষের ভূমিকার উপর জোর দেন। তিনি প্রত্যেককে বছরে ৫ জন সৎ মানুষ তৈরিতে নিজেদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান এবং যেন ঐ ৫ জন সৎ মানুষ পরবর্তী বছর নিজ উদ্যোগে আরো ৫জন সৎ মানুষ তৈরি করে সে প্রতিশ্রুতি তাদের কাছ থেকে নেয়া।

ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার প্রফেসর আব্দুর রহমান আনোয়ারী বলেন, প্রতিটি মানুষ স্ব স্ব অবস্থানে নৈতিক আচরণ করলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের এ প্রক্রিয়া আরো বেগবান হবে। তিনি আরো বলেন, নৈতিকতার অভাবেই সমাজে এতো অনাচার। এ নৈতিকতা নিশ্চিত করার জন্য তিনি শিক্ষা ক্ষেত্রে পাঠ্যসূচিতে নৈতিকতা পাঠ বাড়ানো উপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি তিনি সরকারের গ্রাসরুট পর্যায়ে, পরিবার এবং মিডিযায় নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়ানোর উপরও গুরত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সর্বস্তুরে নৈতিক চর্চা ছাড়া এসডিজি লক্ষ্যসমূহ অর্জন সম্ভবপর নয়।

প্রফেসর মাইমুল আহসান খান বলেন, কোনো ধর্মই মানুষকে মেরে ফেলা, মানুষে মানুষে দ্বেষ ঘৃণা ছড়ানো সমর্থন করে না। তাই প্রতিটি ধর্মের মধ্যে যে সাধারণ বিষয়ে ঐক্যমত আছে সেগুলোর চর্চা আমাদের মধ্যে বাড়াতে হবে। সেসকল বিষয়গুলোতে আমদের কাজ করতে হবে।

আরডেন্ট অ্যাডভারটাইজং-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে জান্নাত বলেন, আইনের শাসন না থাকলে, সমাজে সুশাসন না থাকলে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অধরায় থেকে যাবে। তাই ব্যক্তি পর্যায়ে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মাধ্যমে আমাদের নিজেদের ব্যক্তি পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী হতে হবে।

রুপায়ন কুমার বড়ুয়া বলেন, বৌদ্ধ ধর্ম অনুযায়ী প্রত্যেককেই তার কর্মফল ভোগ করতে হবে। এখানে ক্ষমা বলে কোনো জিনিস নেই। তাই এ ধর্ম মানুষকে ভালো কাজ করতে সর্বদা আদেশ করে। আর একটি একটি করে ভালো কাজই আমাদের তথা সমাজের উন্নয়ন নিশ্চিতে অসাধারণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সমাপনী বক্তব্যে বিআইআইটির নির্বাহী পরিচালক ড. এম আব্দুল আজিজ বলেন, বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আমরা একটি টিম ওয়ার্ক করে অন্তত ৪-৫টি অভিষ্ট নির্ধারণ করবো যাতে সেই সব অভিষ্ট অর্জনে উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে আমরা সরকারকে ঝঁঢ়ঢ়ষবসবহঃ করতে পারি। এর অংশ হিসেবে মানুষকে নৈতিকায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য প্রতিটি ধর্মের মূল নৈতিক শিক্ষা নিয়ে আমরা একটি গ্রন্থ প্রকাশ করতে পারি এবং মানুষের নৈতিক উন্নয়নের জন্য আমরা বিশেজ্ঞদের সহায়তায় নৈতিকতা নির্ভর এমন  একটি কোর্স চালু করতে পারি যে কোর্স সফলভাবে সম্পূন্নকারী একজন নৈতিক আদর্শ মানুষ হিসেবে সমাজে তার ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে যা পক্ষান্তরে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রক্রিয়াকে বেগবান করবে।-প্রেস বিজ্ঞপ্তি