Sunday, 22 April 2018

 

বাকৃবি শিক্ষার্থীদের আবারও রেলপথ অবরোধ

বাকৃবি প্রতিনিধি:কোটা পদ্ধতির সংস্কার, সারাদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে আবারও বিক্ষোভ মিছিল ও রেলপথ অবরোধ করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বুধবার সাড়ে ১২ টার দিকে আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া ঢাকা-ময়মনসিংহগামী রেলপথ অবরোধ করেন আন্দলনরত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ধরনের ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে প্রায় ৪ সহস্রাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলানায়তনের সামনে জড়ো হতে থাকেন। সেখানে তারা কোটা সংস্কারের পক্ষে স্লোগান দেন। এরপর সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে শিক্ষার্থীর একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের করিডর প্রদক্ষিণ করে মুক্তমঞ্চের সম্মুখে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে কোটা সংস্কারের পক্ষে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বক্তব্য প্রদান করেন।

এ সময় তারা বলেন, কোটা সংস্কার এখন সময়ের দাবী। বিদ্যমান এই কোটা সংস্কার হওয়া অতীব জরুরী। তরুণ সমাজের দাবির প্রেক্ষিতে শতকরা ৫৬ ভাগ কোটা থেকে সরকারকে বের হয়ে আসতে হবে। এটি কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিষয় নয়।

বেকারদেরর প্রতি, দেশের জনগণের প্রতি সুফলতা বয়ে আনার লক্ষ্যেই আমাদের কোটা সংস্কার আন্দোলন চালাতে হবে। তাই, এখানে আমাদের পরিচয় না ছাত্রলীগ, না ছাত্রদল, না আওয়ামীলীগ না বিএনপি। সেখানে আন্দলনরত শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত নেন বাকৃবির অভ্যন্তরস্থ জব্বারের মোড় সংলগ্ন ঢাকা-ময়মসিংহ রেলপথ অবরোধ করার। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তারা এ অবরোধ করেন। অবরোধের খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা-ময়মনসিংহ-নেত্রকোণাগামী তিস্তা, অগ্নীবীনা, মহুয়া, মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস, বলাকাসহ বেশকিছু আন্তনগর ও লোকাল ট্রেন বিভিন্ন আটকা পড়ে ও সিডিউল বিপর্যয় ঘটে।
 
এদিকে বেলা ১ টার দিকে ঘটনাস্থলে যান বাকৃবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. এ এস মাহফুজুল বারি, শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সবুজ কাজী, সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল। তারা সংগঠনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের যোক্তিক দাবি মনে করে আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। সেসময় ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা জানিয়েছেন সরকারি চাকুরিতে কোন কোটা থাকবে না উল্লেখ করে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন। এরপর তারা শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখে রেল লাইন ছেড়ে অহিংস আন্দোলনে যাওয়ার কথা অনুরোধ জানান। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রেল লাইন অবোরোধ করে রাখবেন বলে তখন জানান।  

রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকেল সাড়ে ৫টা) রেল লাইন অবরোধ করে আন্দোলন করছিলেন তারা।