Friday, 15 December 2017

 

মাসব্যাপী বন্ধ শেকৃবির একটি অনুষদের সকল একাডেমিক কার্যক্রম, অনিশ্চয়তায় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী

শেকৃবি প্রতিনিধি:রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদের শিক্ষার্থীরা তাদের ডিগ্রী পরিবর্তনের দাবীতে আন্দোলন অব্যাহত রাখায় টানা ১মাস ধরে বন্ধ রয়েছে ফ্যাকাল্টিটির সকল একাডেমিক কার্যক্রম। শিক্ষার্থীদের পক্ষ জানানো হয় তাদের ডিগ্রীর নাম বিবিএ (এগ্রিবিজনেস) থেকে পরিবর্তন করে স্নাতক পর্যায়ে বিএসসি ইন এগ্রিকালচারাল ইকোনোমিক্স এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে এম.এস করার।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে প্রশাসনের কোন উদ্যোগ না দেখে গতমাসের ১৭ তারিখ অনুষদটির ডীনের মাধ্যমে উপাচার্য বরাবর শিক্ষার্থীদের এ দাবি জানিয়ে একটি স্মারকলিপি প্রদান শেষে অত্র অনুষদের শিক্ষার্থীরা তারা তাদের সকল একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে তাদের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিবিএ (এগ্রিবিজনেস) থেকে পরিবর্তন করে স্নাতক পর্যায়ে বিএসসি ইন এগ্রিকালচারাল ইকোনোমিক্স এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে এম.এস করার দাবিতে গত ১১ মে এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে। বিশ্ববিদ্যালটিতে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারের পদ শূন্য থাকায় বেশ কিছুদিন প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় তাদের দাবী বিষয়টিও আর সামনে আনা হয়নি। পরবর্তিতে গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার নিয়োগ হওয়ার পর গতকাল অনুষদটির শিক্ষার্থীরা তাদের সাথে সাক্ষাত করে। এর আগেও তারা কয়েক দফায় মানববন্ধন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত উপাচার্যের সাথে সাক্ষাত করে তাদের দাবি তুলে ধরেছিল। কিন্তু প্রশাসনের নিরব ভূমিকা দেখে তারা গত মাসের ১৭ তারিখ থেকে সব ধরনের একডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি সেমিস্টর ফাইনাল পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীরা তাতে অংশগ্রহন করেনি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানায়, বর্তমান ডিগ্রি নন-টেকনিক্যাল ও নতুন হওয়ায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেও স্বায়ত্ত্বশাসিত গবেষণা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবেদন করতে পারছেন না তারা। এমনকি বর্তমান ডিগ্রির নাম নিয়ে বিভিন্ন চাকরির মৌখিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় বলেও জানান শিক্ষার্থীরা।

প্রশাসনের এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, আগের ভিসি থাকাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছাত্রদের দাবী একাডেমিক কাউন্সিল এ তোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও পরবর্তিতে তা বাতিল করা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যলয়টিতে ভিসি, প্রো-ভিসির পদ অনেক দিন খাঁলি থাকায় এ ব্যাপারে আর কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। অনুষদটির তৃতীয় বর্ষের একজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, আমাদের দাবীর ব্যাপারে প্রশাসনের খামখেয়ালিপনায় আমরা এখনও আলোর মুখ দেখতে পারিনি। বলা হচ্ছে ২৪ তারিখের একাডেমিক কাউন্সিল এ তোলা হবে। কিন্তু কবে আমাদের দাবী মেনে আর কবে আমরা আবার ক্লাস এ ফিরে যাব তাও পরিষ্কার নয়।  

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের কৃষি বিপণন ব্যবস্থা উন্নয়নের তাগিদে দক্ষ জনশক্তি সরবরাহের জন্য ২০০৭ সালে এ অনুষদ চালু করা হয়। শুরু থেকে ‘বিএসসি ইন এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট’ ডিগ্রি দেওয়া হলেও ২০১৩ সালের মে মাসে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ৬০তম সভায় তা পরিবর্তন করে ‘বিবিএ ইন এগ্রিবিজনেস’ করা হয়।###