Saturday, 22 July 2017

 

ঘুরে এলাম চীনামাটির পাহাড় বিরিশিরি

আবুল বাশার মিরাজ ও মামুন মোহাম্মদ:সবে মাত্র সেমিস্টার পরীক্ষা শেষ হল। আবারও নতুন একটি সেমিস্টার শুরু হবে কয়েক দিনের মধ্যেই। এই ছুটিতে কোথাও থেকে ঘুরে আসার কথা উঠেছে। প্রশ্ন হল কোথায় যাব। জুলি  বলল চল বিরিশিরি যাই।

নেত্রকোনা জেলার উত্তর প্রান্তে গারো পাহাড়ের পাদদেশের এক জনপদের নাম। যেখানে বয়ে গেছে টলটলে জলের সোমেশ্বরী নদী আর দিগন্ত হারিয়েছে আকাশ ছোঁয়া সবুজ পাহাড়। এখানে রয়েছে অসংখ্য লাল, গোলাপী, বেগুনী চীনামাটির পাহাড়। ছোট্ট একটি জায়গার পরতে পরতে বেড়ানোর মতো অনেক জায়গা রয়েছে দুর্গাপুরে। দুর্গাপুরের বিরিশিরি ইউনিয়নে অবস্থিত আদিবাসী সাংস্কৃতিক একাডেমি। এ অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর (গারো, হাজং, কোচ, ডালু, বানাই প্রভৃতি) জীবন যাত্রার নানা নিদর্শন। বেড়ানোর জন্য অপূর্ব জায়গা।

আবদুর রহমানের ক্যাম্পাসের সিনিয়র বড়ভাই-আপুদের সাথে ব্যাপক কানেকশন। খোঁজ নিয়ে জানাল, এর আগেও বড়ভাই-আপুরা বিরিশিরি গিয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে কীভাবে যাওয়া যাবে তার সকল তথ্য নেওয়া শেষ। নির্ধারিত দিন ধার্য করলাম সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় শুক্রবার। যেদিন যাব সেদিন সকালে মুষলধারে বৃষ্টি ।

বের হলাম বৃষ্টি সঙ্গী করে। যাই হোক ৬ টার সময় রওনা দেওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টি ৭ টার দিকে কমে এলে তড়িঘড়ি করে বের হয়ে গেলাম। বিরিশিরি (গিয়ে পৌঁছালাম তখন বাজে প্রায় ১০ টা ।

আমরা ছিলাম সব মিলে ৭ জন। আমি আল-আমিন, আবদুর রহমান, জুলি, লোপা, মুমু, আর সৌরভ। বিরিশিরি মোটামুটি নির্জনই বলতে যাবে। একটা বাজার আছে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পাওয়া যায়। শ্বেত শুভ্র চিনামাটির পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে বয়ে গেছে অপরূপ নীলের উৎস  সোমেশ্বরী নদী। এই নদীর নীল জলে সাদা চিনামাটির পাহাড়ের প্রতিবিম্ব যেন এক অলৌকিক সৌন্দর্যের প্রতীক। এক কাথায় অসাধারন !!

নদীতে তীব্র স্রোত। বর্ষায় নদী যেন তার ভরাযৌবন ফিওে পেয়েছে। শীতকালে গেলে অবশ্য নদীতে হাঁটু পানি। আমাদের এবারের লক্ষ্য গারো পাহাড়, চিনামাটির পাহাড়, রাণীখং মিশন। ইন্ডিয়া সীমান্ত চোখের সামনে। পা বাড়ালেই ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্য। যা যা দেখবো সবই নদীর ওপারে। তাই নদীর ঘাটে গিয়ে নৌকার জন্য অপেক্ষা। তারপর বিজিবি ক্যাম্প এর পাশে ওয়াচ টাওয়ারের মত ছোট পাহাড়। এর নাম কমলার পাহাড়। এই পাহাড়ে হাজংদের সাথে কথা হল। এক জনের নাম জুমিল। যদিও নাম বলতে চায় না। এরপর গেলাম পর রাণী খং নামে এক জায়গায়। এখানে একটা স্কুল ও খিস্টানদের উপাসনালয় আছে।

ঘুরে দেখতে দেখতে প্রায় সাড়ে ৫ টা। আমাদের সময় কম। রাত্রি সাড়ে ৮ টার আগেই আবার  ক্যাম্পাসে ফিরে আসতে হবে। সময় স্বল্পতার কারণে সাগর দিঘি দেখা হয় নি। মন খারাপ করেই ফেরত চলে আসলাম, তবে যা দেখেছি তা স্মৃতিময় হয়ে থাকবে আজীবন।