Saturday, 18 November 2017

 

কৃষি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

.. .. .. মাহমুদুল হাসান সোহাগ ও নাঈম মাহমুদ:
কৃষি
সভ্যতার সূচনার অন্যতম হাতিরায় কৃষি। আদিম কালে মানুষের যাযাবর জীবন থেকে সভ্যতার দিকে ধাপিত হওয়ার মূল নিয়ামক কৃষি। প্রাগৈতিহাসিক যুগের সূচনা ঘটে প্যালিওলিথিক বা আদি প্রস্তর যুগে। সেখান থেকে সভ্যতা প্রবেশ করে নব্য প্রস্তর যুগ বা নিওলিথিক যুগে এবং কৃষি বিপ্লবের (খ্রিষ্টপূর্ব ৮০০০-খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০০ অব্দ) সূচনা ঘটে।

নিওলিথিক বিপ্লবে উদ্ভিদ ও পশুর নিয়মানুগ চাষপদ্ধতি রপ্ত করা মানব সভ্যতার একটি অনন্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত। কৃষির উন্নয়নের সাথে সাথে বেশিরভাগ মানুষ যাযাবর জীবনযাত্রা ত্যাগ করে স্থায়ীভাবে কৃষকের জীবন গ্রহণ করে।

কৃষিকার্য বা কৃষি মানবজাতির আদিমতম পেশা হিসেবে চিহ্নিত। মানুষের জীবনধারনের জন্য শস্য উৎপাদন কিংবা গৃহপালিত পশু রক্ষণাবেক্ষনের জন্যে যথোচিত খাদ্য এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামাল উৎপাদন ও সরবরাহসহ বহুবিধ উদ্দশ্যে প্রতিপালনের লক্ষ্যে কৃষিকার্য নির্বাহ করা হয়। যিনি কৃষির সাথে সংশ্লিষ্ট তিনিই কৃষক। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এদেশে শতকরা ৭৫ ভাগ লোক গ্রামে বাস করে। বাংলাদেশের গ্রাম এলাকায় ৫৯.৮৪% লোকের এবং শহর এলাকায় ১০.৮১% লোকের কৃষিখামার রয়েছে। মোট দেশজ উৎপাদন তথা জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান ১৯.১% এবং কৃষিখাতের মাধ্যমে ৪৮.১% মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। ধান, পাট, তুলা, আখ, ফুল ও রেশমগুটির চাষসহ বাগান সম্প্রসারণ, মাছ চাষ, সবজি, পশুসম্পদ উন্নয়ন, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, বীজ উন্নয়ন ও বিতরণ ইত্যাদি বিষয়সমূহ এ দেশের কৃষি কর্মকান্ডের অন্তর্ভুক্ত।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পথচলা
শিক্ষা, গবেষণা ও সম্প্রসারণ- এই তিন মূল মন্ত্রকে ভিত্তি করে ২০০১ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা শহরের শ্যামল পরিবেশে ৮৬ একর জায়গা নিয়ে গড়ে উঠে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০১ সালের ৬ জানুয়ারী বাংলাদেশ কৃষি ইনস্টিটিউটের (বিএআই) হিরক জয়ন্তি অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএআইকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় করার ঘোষণা দেন এবং ৯ জুলাই ২০০১ সনে সংসদে আইন পাশ করেন। ১৫ জুলাই ২০০১ সনে তিনি নিজ হাতে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে শেকৃবির ইতিহাস মাত্র পনের বছরের হলেও উপমহাদেশের প্রচীনতম উচ্চতর কৃষি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে এর ইতিহাস দীর্ঘ ৭৮ বছরের। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মূলত উপমহাদেশের কৃষি ব্যবস্থার ভিত্তি রচিত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পটভূমি
কৃষি প্রধান এদেশে খাদ্য উৎপাদনই মূল লক্ষ্য ছিল কৃষিজীবিদের। এতদসত্ত্বেও ব্রিটিশ কুশাসনের ফলে ভারতবর্ষে বিশেষ করে বাংলায় ১৭৭০খ্রিঃ (১১৭৬ বাংলা), ১৮৬৫-৬৬, ১৮৭৪, ১৮৭৭-৭৮, ১৮৯৬-৯৭ খ্রিঃ সনের দুর্ভিক্ষ সমূহে কয়েক কোটি লোক মৃত্যুবরণ করেন। সেজন্য ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক গঠিত বিভিন্ন সময়ের রয়েল কমিশনের রিপোর্ট সমূহে কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সুপারিশ ছিল। কমিশন পরামর্শ দিয়েছিল যে, আধুনিক কৃষি শিক্ষার মাধ্যমে এদেশের পশ্চাৎপদ চাষাবাদ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরী। সেজন্য ১৭৮৭ সন থেকে ১৮৩৮ সন পর্যন্ত সময়ে কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিশেষকরে শেষের দিকে কৃষি সংশ্লিষ্ট উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয় ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে।

সে ধারাবাহিকতায় ১৯১৯ সালে রাজকীয় কৃষি কমিশনের গৃহীত প্রস্তাব অনুসারে ঢাকায় তেজগাঁও কৃষি গবেষণা সংলগ্ন ৩শ একর জমিতে ১৯৩৮ সালের ১১ ডিসেম্বর তৎকালীন পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা একে ফজলুল হক পূর্ব বাংলার প্রথম কৃষি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি স্থাপন করেন। যার নাম দেওয়া হয় দি বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট। পরবর্তীতে এর নাম হয় পূর্ব পাকিস্থান এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এর নাম রাখা হয় বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে তখন এ ইনস্টিটিউটে কৃষি অনুষদে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার সুযোগ ছিল।

এদেশের দুর্ভিক্ষ পীড়িত মানুষের অন্নদান, কৃষিশিক্ষা, কৃষি গবেষণা ও কৃষি সম্প্রসারণে এ ইনস্টিটিউটের গ্রাজুয়েটগনই অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন। অথচ এটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত না করে ১৯৬১ সালে ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর ১৯৬৪ সালে এ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত কলেজ হিসাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালের ৯ জুলাই এ ইনস্টিটিউটকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণ করা হয়।

বর্তমান অবস্থা
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি অনুষদ, এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদ, এনিম্যাল সায়েন্স ও ভেটেরীনারী মেডিসিন অনুষদ নামে তিনটি অনুষদ চালু আছে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে এখানে প্রায় ৩৩০০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৪ হাজার ৪৪৮ জন শিক্ষার্থী পাস করে দেশের কৃষি উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। এছাড়া আর্ন্তজাতিক পর্যায়েও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বমোট শিক্ষক সংখ্যা ২২৯ জন ও কর্মকর্তা সংখ্যা ২১১ জন। শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণার জন্য রয়েছে দুটি খামার-কৃষিতত্ত্ব ও উদ্যনতত্ত্ব খামার। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে পাঁচটি হল রয়েছে। এর মধ্যে ৩টি ছেলেদের এবং ২টি মেয়েদের জন্য বরাদ্দ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সাধারন মানুষের কাছে পৌঁছে দেবার লক্ষ্যে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য গঠন করা হয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিচার্স সিস্টেম ‘সাউরেস’। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে সুপরিসর এবং সমৃদ্ধ ডিজিটাল লাইব্রেরী। যেখানে রয়েছে ৪০ হাজারেরও উপরে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বই, রয়েছে ৪ হাজার ১ শত দেশি ও ৭ হাজারেরও বেশি বিদেশি জার্নাল। এছাড়াও ৪৫০ টির বেশি থিসিস লাইব্রেরীতে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন রকম স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপন করা হয়েছে চিকিৎসা কেন্দ্র। আবাসিক কিংবা অনাবাসিক যেকোন  শিক্ষার্থী এখান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারে।

বিশ্ববিদ্যলয়ের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন
বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০টির বেশি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- শেকৃবি সাহিত্য সংসদ, ডিবেটিং সোসাইটি, কিষান থিয়েটার, মানবকণ্ঠ সেতুবন্ধন-শেকৃবি, ইয়েস গ্রুপ, এগ্রি রোভার্স, বন্ধুসভা, ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, সপ্তক, শুভসংঘ, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব। বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার পর বিভিন্ন দৈনিকে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে গঠিত হয়েছে শেকৃবি সাংবাদিক সমিতি।

শেকৃবির সবুজ চত্বরে
নগরীর বুকে ছিমছাম, নিরিবিলি গ্রামীণ পরিবেশ ও মৌসুমি ফুল, ফলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব ভান্ডার শেকৃবি। চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর শুটিংয়ের অজ¯্র সম্ভার। আমবাগান, লিচুতলা, বটতলা, মন্দির, শহীদ মিনার এবং আরও কিছু বাড়তি আয়োজন। গ্রামের মেঠোপথ, গ্রীষ্মের খরতাপে চৌচির মাঠ, কাশফুল, শীতের সকালের শিশির ভেজা ঘাস, বসন্তের নবপলস্নবরাজি অথবা কদম ফুল, কৃষ্ণচূড়ার বর্ণিল রং যাদের দেখা হয় না অনেক দিন ধরে তারা চলে আসতে পারেন শেকৃবির সবুজ চত্বরে। কোমল বাতাসে বুক ভরে নিশ্বাস নিতে সকাল কিংবা বিকেলে চলে আসতে পারেন স্বপ্নময় এই ক্যাম্পাসে।

সাফল্য
এ প্রতিষ্ঠানের সাবেক গ্র্যাজুয়েটদের নিরলস চেষ্টা ও অকৃত্রিম সেবার দ্বারাই বাংলাদেশের কৃষির উন্নতির ভিত্তিমূল রচিত হয়েছে। ১৯৪৩ সাল থেকে এ প্রতিষ্ঠানের যেসব শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েট হয়ে বেরিয়েছেন মূলত তারাই সূচনা করেছেন এ দেশের কৃষি গবেষণা কার্যক্রমের। চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের সময় এ প্রতিষ্ঠানের গ্র্যাজুয়েটরা কৃষকের সঙ্গে মিলেমিশে দেশের কৃষিকে চলমান রেখেছিলেন, যার ধারাবাহিকতা চলছে এখনো। '৫২-এর ভাষা আন্দোলন, '৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন, '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধের সময় এ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত ও গৌরবময়। '৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে এ প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের অংশগ্রহণও ছিল লক্ষণীয়।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও ছাত্ররা রিসার্চ সিস্টেম (সাউরেস) ও ড. ওয়াজেদ মিয়া কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের মাধ্যমে গবেষণা করে নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করে যাচ্ছেন। আর শেকৃবি বহিরাঙ্গন বিভাগ কৃষিপ্রযুক্তি কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে। উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মধ্যে সাউ সরিষা-১, সাউ সরিষা-২, সাউ সরিষা-৩, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আলুবীজ ও পেঁয়াজবীজ উৎপাদনে সফলতা, টমেটো, জামারুসান মুলা, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় বিভিন্ন বিদেশি ফুলের উৎপাদন সফলতা উল্লেখযোগ্য।

এ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র এ এস এম কামাল উদ্দিন দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে দিয়েছেন অমৃত কলার চাষ। তিনি পেঁপে ও আনারসের লাগসই চাষের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। ড. নূর মোহাম্মদ মিয়া ও ড. ছিদ্দিক আলীসহ অনেক কৃষিবিদ উচ্চফলনশীল ধান বিআর-৩, বিআর-৪, বিআর-১০, বিআর-১১, বিআর-১৪, বিআর-১৯, বিআর-২৩ জাত আবিষ্কার করে শুধু নিজ দেশে নয়; প্রতিবেশী ভারত, নেপাল, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, পশ্চিম আফ্রিকায় স্বীকৃতি পেয়েছেন। কাজী পেয়ারার জনক ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র। ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা ও ড. এস এম জামান সরকারের 'সায়েন্টিস্ট ইমেরিটাস' পদে ভূষিত হয়েছিলেন।

তা ছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কৃষিতে অবদান রাখায় এ প্রতিষ্ঠানের অনেক গ্র্যাজুয়েট স্বাধীনতা পুরস্কার, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার, বিজ্ঞান একাডেমিক স্বর্ণপদক ও শেরেবাংলা পদকসহ বিভিন্ন ধরনের পদক লাভ করেন। অধ্যাপক ড. নাহিদ জেবা নতুন সবজি টমাটিলোর ২টি জাত এবং টমাটোর ৪ টি জাত কৃষকদের মধ্যে অবমুক্ত করেন। অধ্যাপক ড. এ এফ এম জামাল উদ্দিন নন্দিনী ফুলের জাত কৃষকের মধ্যে অবমুক্ত করেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নে ৩শত ৫২ কোটি ৬৮ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে ১ এপ্রিল ২০১৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ সাল পর্যন্ত। অনুমোদিত এ প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোসমূহের মধ্যে রয়েছে ১৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা হলের উর্ধ্বমুখী (৬ষ্ঠ তলা থেকে ১০ম তলা) সম্প্রসারণ, ২২ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা হলের দক্ষিন ব্লক (৩য় তলা থেকে ১০ম তলা) ও উত্তর ব্লক (৬ষ্ঠ তলা থেকে ১০ম তলা) সম্প্রসারণ, ৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে শেখ কামাল একাডেমিক ভবনের উর্ধ্বমুখী (দ্বিতীয় তলা থেকে ১০ তলা) সম্প্রসারণ, ৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে প্রশাসনিক ভবনের উর্ধ্বমুখী (৫ম তলা থেকে ৬ ষ্ঠ তলা) সম্প্রসারণ, ২ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ড.ওয়াজেদ মিয়া কেন্দ্রীয় গবেষনাগারে ভবনের উর্ধ্বমুখী (৫ম তলা থেকে ৬ষ্ঠ তলা) সম্প্রসারণ, ৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী ভবনের উর্ধ্বমুখী (৪র্থ তলা থেকে ৫ম তলা) সম্প্রসারণ, ২৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে টিএসসি কমপ্লেক্স ভবনের উর্ধ্বমুখী (দ্বিতীয় তলা থেকে ৫ম তলা) সম্প্রসারণ, ৪২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ছাত্রীদের জন্য হল নির্মাণ (১০০০ আসন বিশিষ্ট ১০ তলা), ৪২ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ছাত্রদের জন্য হল নির্মাণ (১০০০ আসন বিশিষ্ট ১০ তলা), ১৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে শিক্ষকদের আবাসিক ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, ১৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ৩য় এবং ৪র্থ শ্রেনী কর্মচারীদের আবাসিক ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, ১৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন নির্মাণ (১০ তলা বিশিষ্ট ৩৯ ইউনিট), ২ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ডরমিটরী ভবনের উর্ধ্বমুখী (তৃতীয় তলা থেকে ৬ষ্ঠ তলা) সম্প্রসারণ, ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে কেন্দ্রীয় মসজিদ নির্মান, ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ভেটেরিনারী ক্লিনিক নির্মান, ৫ কোটি ২ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে পোল্ট্রির শেড নির্মান, এছাড়াও গবেষণা প্লটের জন্য ভূমি উন্নয়ন, সেচ ব্যবস্থা, গ্রীন হাউস নির্মাণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে পানি, গ্যাসের লাইন স্থাপন, বই-পুস্তক ও জার্নাল সংগ্রহ, উচ্চতর কৃষি গবেষণা এবং মানব সম্পদ উন্নয়নর জন্যও বরাদ্ধ রাখা হয়েছে।

এই উন্নয়ন বরাদ্দ শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার বিশেষ আনুকূল্যস্বরূপ- যা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে শিক্ষা গবেষণার নতুন দ্বার উম্মোচন করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।

উপাচার্যের পাঁচ স্বপ্ন
শেকৃবির বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ এর বিশ্ববিদল্যায়কে নিয়ে পাঁচটি স্বপ্ন হচ্ছে- এক. সুদক্ষ উচ্চ গুণগত মান সম্পন্ন জনবল তৈরি করা যাতে ছাত্র-ছাত্রীদের সঠিক শিক্ষা প্রদান করতে পারে, দুই. প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করা যাতে সঠিক শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ তৈরি হয়, তিন. প্রয়োজনীয় সংখ্যক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা যাতে সুষ্ঠ গবেষণা পরিচালনা করা যায়, চার. গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক গবেষণাগার ও প্রয়োজনীয় পরিমান গবেষণার মাঠের ব্যবস্থা করা, পাঁচ. সর্বোপরি ছাত্র-ছাত্রীদের মানবিক ও ন্যায় সংগত চরিত্র গঠনের মাধ্যমে সুমানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটা সুষ্ঠ পরিবেশ সৃষ্টি করা।

[জাতীয় কৃষি দিবস-২০১৬ উপলক্ষে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-সেতুবন্ধনের পক্ষ থেকে নাঈম মাহমুদ ও জেনিকা আলম বৃষ্টি এই প্রবন্ধ পাঠ করে।]