Sunday, 19 November 2017

 

মুরগীর খাবার পানিতে ভ্যাকসিন

কৃষিবিদ রুহুল আমিন মন্ডল:ভ্যাকসিন বা টীকা দেওয়ার অনেক পদ্ধতি আছে। কিন্তু পানিতে লাইভ ভ্যাকসিন দেয়া একটি বহুল প্রচলিত পদ্ধতি। এ সংখ্যায় মুরগীর খাবার পানিতে লাইভ ভ্যাকসিন দেয়া সম্বন্ধে আলোচনা করব।

ভ্যাকসিন দিতে পানির পরিমাণ :
মুরগী কতটুকু পানি গ্রহন করবে এটা হিসাব করা খুবই গুরুত্বর্পূন।যদি মুরগীর ঘরে পানির লাইনে পানি মাপার যন্ত্র বসানো থাকে তাহলে খুবই সহজ ভাবে কতটুকু পানি খাবে তার ধারণা পাওযা যাবে। যদি কতটুকু পানি খাবে তা মাপার যন্ত্র না থাকে তবে মুরগীর বয়স এবং তাপমাত্রা অনুযায়ী নিম্নের টেবিলে একটি ধারণা দেয়া হচ্ছেঃ (উদাহরণ হিসেবে হিসাবটি কেবলমাত্র ব্রয়লার মুরগির জন্য)

লিটার/১০০০ মুরগী/দিন

ব্রয়লার বয়স   ২২ ডিগ্রী  সেলসিয়াস  ২২ ডিগ্রী  সেলসিয়াস
৫০ ১০০
৭৫ ১৪০
১১৫ ২২৫
১৫০ ২৯৫
১৮২ ৩২৭


বিশেষ দ্রষ্টব্য: যদি তাপমাত্রা বেশী হয়, মুরগীর পানি খাওয়ার পরিমানও বাড়বে।  সারা দিন যে পরিমাণ পানি পান করবে তার ৩০ ভাগ পানিতে ভ্যাকসিন মেশাতে হবে অথবা সকালে ২ ঘন্টায় যে পািরমাণ পানি মুরগী খাবে সে পরিমাণ পানিতে ভ্যাকসিন মেশাতে হবে।

ভ্যাকসিনের সময় বিশেষ সর্তকতা :

  • সকালের ঠান্ডা সময় ভ্যাকসিন দিতে হবে
  • ক্লোরিন বা যে কোন ডিসইনফেকটেন্ট যুক্ত পানি সরবরাহ করা ৪৮ ঘন্টা পূর্বে বন্ধ করতে হবে
  • গরমের সময়ঃ ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা পর্যন্ত এবং শীতের সময় ১ ঘন্টা থেকে ১.৩০ ঘন্টা পর্যন্ত পানি ভ্যাকসিন দেয়ার পূর্বে বন্ধ  করে রাখতে হবে
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে ড্রিংকার এর ব্যবস্থা রাখতে হবে

কেন  Skim milk ব্যবহার করব?

পানিতে বিদ্যমান ক্লোরিন, ক্ষতিকারক রাসায়নিক ও হেভি মেটালের প্রভাবে অনেক সময় মান সম্পন্ন ভ্যাকসিনও অকার্যকর হতে পারে। কাজেই ভ্যাকসিন প্রয়োগের সময় পানিতে Skim milk (স্কিম মিল্ক) বা Non Fat Milk ব্যবহার করলে ভ্যাকসিনেশনের প্রক্রিয়া মান সম্পন্ন হবে। এছাড়া কিছু কোম্পানীর বিভিন্ন নামে বিভিন্ন প্রোডাক্ট মার্কেটিং করে থাকে।আমরা সেগুলোও ব্যবহার করতে পারি।

ভ্যাকসিন প্রস্তুতের কার্য পদ্ধতি বিষয়ক কিছু নিয়ম:

১) পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন জায়গায় ভ্যাকসিন প্রস্তুত করার স্থান হিসেবে নির্বাচন করতে হবে,
২) Sterile disposable Gloves ব্যবহার করতে হবে।
৩) ৫-১০ লিটার পানিতে Skim milk পাউডার গুলো ভাল ভাবে মিশ্রিত করতে হবে। তার পর যে পানিতে ভ্যাকসিন দেয়া হবে তার পুরাে পানিতে ঐ ৫-১০ লিটার মিশ্রিত করে ২০-৩০ মিনিট রেখে দিতে হবে।
৪) ভ্যাকসিন বোতল হতে মেটাল বা এলুমিনিয়াম ক্যাপ খুলে ফেলতে হবে।
৫) একটি ছোট পাত্রে ১-২ লিটার Skim milk মিশ্রিত পানি নিতে হবে।
৬) ঐ ১-২ লিটার Skim milk মিশ্রিত পানিতে নীচে রাবার ক্যাপ খুলে ভ্যাকসিন Pellet এর বোতলে পানি ঢুকে নিয়ে Pelle টি dissolve  
করে ঐ ভ্যাকসিন বোতলের পানি ভালভাবে ১-২ লিটার পানিতে মেশাতে হবে।
৭) তারপর ২ ঘন্টায় যে পরিমাণ পানি মুরগী খেতে পারে সেই পরিমাণ পানিতে ঐ ১-২ লিটার পানি ভালভাবে মেশাতে হবে।
৮) পরে ড্রিংকার করে ভ্যাকসিন মিশ্রিত পানি মুরগীর খাবার জন্য দিতে হবে।
৯) লক্ষ্য রাখতে হবে মুরগীর পানি খাবার আচরণ
১০) ভ্যাকসিন এর পানি খাওয়া শেষ হলে ড্রিংকার গুলো ভাল ভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
১১) পরবর্তীতে পানিতে AD3E, Vit-E অথবা Multivitamin (মাল্টিিভটামিন) দেয়া যেতে পারে।

সর্তকতা:
কখনই পানিতে ক্লোরিন বা ডিসইনফেকটেন্ট ব্যবহার করা যাবে না, কমপক্ষে আগের দিন, ভ্যাকসিনের দিন এবং পরের দিন। ভ্যাকসিন দোকানের ফ্রিজ থেকে খামারে নিতে অবশ্যই বরফ সহ ভ্যাকুয়াম কন্টেইনার এ করে বহন করতে হবে।
================
লেখক পরিচিতিঃ -
সিনিয়র ফার্ম ম্যানেজার,
নারিশ পোল্ট্রি এন্ড হ্যাচারী লিঃ,
ইমেইল:
মোবাইলঃ ০১৯১৯-৮৪১৮৭৩